২১ বছর পর বাগেরহাটে তারেক রহমান, খানজাহান আলীর মাজারে জিয়ারত

দীর্ঘ ২১ বছর পর আবারও বাগেরহাটে আসছেন তারেক রহমান। বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) প্রধানমন্ত্রী এবং বিএনপির চেয়ারম্যান হিসেবে তিনি এই জেলা সফর করবেন। সফরের অংশ হিসেবে হযরত খানজাহান আলী (রহ.)-এর মাজার জিয়ারত করবেন প্রধানমন্ত্রী।
তাঁর আগমনকে কেন্দ্র করে জেলাজুড়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে উৎসাহ-উদ্দীপনা ও উৎসবের আমেজ বিরাজ করছে। বিশেষ করে বিএনপি ও এর অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীদের মধ্যে দেখা দিয়েছে উচ্ছ্বাস।
সর্বশেষ ২০০৬ সালে বাগেরহাটের খানজাহান আলী কলেজ মাঠে ছাত্রদলের তৃণমূল প্রতিনিধি সম্মেলনে যোগ দিয়েছিলেন তারেক রহমান। সে সময় তাঁর মা বেগম খালেদা জিয়া দেশের প্রধানমন্ত্রী ছিলেন।
বিএনপির সাংগঠনিক কার্যক্রমকে তৃণমূল পর্যায়ে আরও শক্তিশালী ও গতিশীল করতে ওই সময়ে দেশের বিভিন্ন এলাকায় ধারাবাহিক সাংগঠনিক সফর করেন তিনি। বাগেরহাটের সফরেও ছাত্রদলের তৃণমূল নেতাকর্মীদের সঙ্গে মতবিনিময় ও সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডে অংশ নিয়েছিলেন তারেক রহমান।
পরবর্তী সময়ে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের প্রেক্ষাপটে দীর্ঘ প্রবাসজীবনে চলে যান তারেক রহমান। ২০২৪ সালের জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের পর দেশে ফেরেন তিনি।
দেশে ফেরার কিছুদিনের মধ্যেই তাঁর মা ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যু হয়। পরবর্তী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করে সরকার গঠন করে।
প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর দেশের বিভিন্ন জেলায় সাংগঠনিক ও রাষ্ট্রীয় সফরের ধারাবাহিকতায় এবার বাগেরহাটে আসছেন তিনি।
প্রধানমন্ত্রীর আগমনকে ঘিরে বাগেরহাট শহরসহ জেলার বিভিন্ন এলাকায় বিএনপি এবং অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা ব্যাপক প্রস্তুতি নিচ্ছেন। জেলা ছাত্রদল, যুবদলসহ বিভিন্ন সংগঠন পৃথক কর্মসূচির মাধ্যমে সাধারণ মানুষের কাছে প্রধানমন্ত্রীর আগমনের বার্তা পৌঁছে দিচ্ছে।
জেলা ছাত্রদলের উদ্যোগে লিফলেট বিতরণ, আনন্দ মিছিল ও প্রচার-প্রচারণা চালানো হচ্ছে। একইভাবে জেলা যুবদলের নেতাকর্মীরাও আনন্দ মিছিল ও গণসংযোগের মাধ্যমে তাঁর সফরকে স্বাগত জানাচ্ছেন।
জেলা যুবদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক সুজন মোল্লা বলেন, ‘২১ বছর আগে আমরা খানজাহান আলী কলেজ মাঠে তৃণমূল প্রতিনিধি সম্মেলন করেছিলাম। তখন তারেক রহমানের খুব কাছাকাছি যাওয়ার সুযোগ হয়েছিল। দীর্ঘ সময় পর আবারও তিনি বাগেরহাটে আসছেন, বিষয়টি আমাদের জন্য অত্যন্ত আনন্দের। তাঁর আগমনকে কেন্দ্র করে যুবদলের নেতাকর্মীদের মধ্যে আলাদা ধরনের উৎসাহ-উদ্দীপনা দেখা যাচ্ছে।’
জেলা পরিষদের প্রশাসক ব্যারিস্টার শেখ মো. জাকির হোসেন বলেন, ‘তারেক রহমান শুধু আমাদের প্রধানমন্ত্রী নন, তিনি আমাদের দলের অভিভাবক। তাঁর আগমনকে কেন্দ্র করে বাগেরহাটের সব পর্যায়ের নেতাকর্মী ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করছেন। আশা করছি, তাঁর আগমনকে ঘিরে গোটা বাগেরহাট জনস্রোতে পরিণত হবে।’
জেলা ছাত্রদলের সভাপতি আতিকুর রহমান রাসেল বলেন, ‘তারেক রহমানের আগমনকে কেন্দ্র করে ছাত্রদল অতীতের মতোই ঐক্যবদ্ধভাবে প্রচার-প্রচারণা ও সাংগঠনিক কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে। তাঁর সফর সফল করতে আমরা সর্বাত্মক প্রস্তুতি নিচ্ছি।’ জেলা ছাত্রদলের সাংগঠনিক সম্পাদক আল মামুন বলেন, ‘আমরা সবাই ঐক্যবদ্ধ হয়ে কাজ করছি। আশা করছি, প্রধানমন্ত্রীর আগমনকে কেন্দ্র করে বাগেরহাট শহর নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষের মিলনমেলায় পরিণত হবে।’




