ফরিদগঞ্জে ভূমিসেবা হয়রানিমুক্ত করতে উদ্যোগ এসিল্যান্ড আনিসুর রহমানের, অগ্রাধিকার অসহায় ও প্রতিবন্ধীদের

চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জে ভূমিসেবা সহজ, স্বচ্ছ ও হয়রানিমুক্ত করতে নানা উদ্যোগ নিয়েছেন উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. আনিসুর রহমান। অসহায়, বিধবা ও প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের অগ্রাধিকার দিয়ে সেবা নিশ্চিত করার পাশাপাশি দালাল ও মধ্যস্বত্বভোগীদের দৌরাত্ম্য বন্ধে কাজ করছেন তিনি।
চলতি বছরের অক্টোবর মাসে ফরিদগঞ্জ উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) হিসেবে যোগ দেন মো. আনিসুর রহমান। সহকারী কমিশনার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট হিসেবে দায়িত্ব পালনের পর এসিল্যান্ড হিসেবে এটিই তাঁর প্রথম কর্মস্থল। দায়িত্ব নেওয়ার শুরুতেই কার্যালয়ের গুরুত্বপূর্ণ পদগুলোতে নতুন কর্মকর্তা-কর্মচারী থাকায় সমন্বয় তৈরি করে কার্যকর সেবাব্যবস্থা গড়ে তোলার চেষ্টা করছেন তিনি।
দায়িত্ব নেওয়ার পর গত ১২ অক্টোবর উপজেলার রূপসা উত্তর ইউনিয়নের পূর্ব বদরপুর এলাকায় অবৈধ ড্রেজার অপসারণে তাঁর নির্দেশনায় অভিযান পরিচালিত হয়। পরে ১৮ অক্টোবর ফরিদগঞ্জ বাজার ব্যবসায়ী কমিটির সঙ্গে মতবিনিময় করেন তিনি; সেখানে যানজট নিরসন, ফুটপাত দখলমুক্ত রাখা, পণ্যের মূল্যতালিকা প্রদর্শন ও বাজার তদারকিসহ বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা হয়।
প্রশাসনিক দায়িত্বের পাশাপাশি যুবসমাজকে ইতিবাচক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত করতে খেলাধুলা ও বিতর্কচর্চার ওপরও গুরুত্ব দিচ্ছেন তিনি। উপজেলা পর্যায়ে আন্তঃউপজেলা বিতর্ক উৎসবের উদ্বোধন করে শিক্ষার্থীদের যুক্তিনির্ভর চিন্তা, মুক্তবুদ্ধি ও সৃজনশীলতার চর্চায় উৎসাহিত করেন তিনি।
ভূমি কার্যালয়ে সেবা নিতে এসে কেউ যাতে দালাল বা অসাধু ব্যক্তির মাধ্যমে প্রতারিত না হন, সে বিষয়ে বিশেষ নজর দিয়েছেন আনিসুর রহমান। সেবাগ্রহীতারা যেন সরাসরি সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সঙ্গে যোগাযোগ করে সেবা নিতে পারেন, সে ব্যবস্থা করা হয়েছে। কর্মকর্তা-কর্মচারীদের দ্রুত সেবা দেওয়ার নির্দেশনা তিনি নিজেই তদারকি করছেন।
এরই মধ্যে তাঁর কার্যালয় থেকে সেবা পেয়েছেন বাক্ ও শ্রবণপ্রতিবন্ধী আব্দুল মান্নান এবং বিধবা নারী রহিমা বেগম। ভূমিসেবা নিতে এসে তাঁদের দীর্ঘসূত্রতা বা হয়রানির মুখে পড়তে হয়নি। স্বল্প সময়ে সেবা পেয়ে আবেগাপ্লুত হন রহিমা বেগম; আব্দুল মান্নানের পরিবারের সদস্যরাও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।
আনিসুর রহমান বলেন, ‘এসিল্যান্ড হিসেবে দায়িত্ব পাওয়ার পর ফরিদগঞ্জই আমার প্রথম কর্মস্থল। এখানে নিজের সর্বোচ্চটা দেওয়ার চেষ্টা থাকবে। শতভাগ আন্তরিকতা ও নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করতে চাই। জেলার সদর উপজেলায় কাজ করার পূর্ব অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে ফরিদগঞ্জের ভূমিসেবাকে আরও সুন্দর ও জনবান্ধব করতে চাই।’
তিনি আরও বলেন, ভূমি অফিস মানেই ভোগান্তি—সাধারণ মানুষের মধ্যে থাকা এই ধারণা বদলাতে চান তিনি। সেবাপ্রত্যাশীরা যেন কোনো ধরনের হয়রানি ছাড়াই প্রয়োজনীয় সেবা পান, সেটিই তাঁর অন্যতম লক্ষ্য, এবং এ জন্য কর্মকর্তা-কর্মচারীদের প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।



