ব্রাজিলে অনূর্ধ্ব-২০ ম্যাচে মারামারিতে ৫৩ লাল কার্ড, ভাঙল গিনেস বিশ্ব রেকর্ড
ব্রাজিলের মিনাস জেরাইস রাজ্যে অনূর্ধ্ব-২০ পর্যায়ের একটি ম্যাচে ব্যাপক মারামারির পর রেফারি মোট ৫৩টি লাল কার্ড দেখিয়েছেন, যা ফুটবল ইতিহাসে নতুন গিনেস বিশ্ব রেকর্ড।
ঘটনাটি ঘটেছে গত রোববার উবেরলান্দিয়া ও মামোরের মধ্যে রাজ্য চ্যাম্পিয়নশিপের সেমিফাইনালের প্রথম লেগে।
ম্যাচের রেফারি ফের্নান্দো প্যাট্রিক দ্রোসগিক মোদেস্তো তাঁর প্রতিবেদনে লিখেছেন, দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই সমস্যার সূত্রপাত হয়, যখন উবেরলান্দিয়ার একজন খেলোয়াড়কে মাঠ থেকে বের করে দেওয়ার পর দলটির কয়েকজন কর্মকর্তা মাঠে ঢুকে পড়েন।
ওই ঘটনায় খেলা ৪০ মিনিট বন্ধ ছিল। খেলা আবার শুরু হওয়ার পর অতিরিক্ত সময়ের নবম মিনিটে গোল করে মামোরে ৩-১ ব্যবধানে এগিয়ে যায়।
ব্রাজিলের গণমাধ্যমের খবর অনুযায়ী, গোল উদ্যাপনের সময় মামোরের খেলোয়াড় দাভি উবেরলান্দিয়ার খেলোয়াড়দের উদ্দেশে কটাক্ষ করলে তা থেকে বড় ধরনের মারামারি শুরু হয়।
মারামারির পর মোট ৪৩ জন খেলোয়াড় এবং কোচিং স্টাফের আটজনকে লাল কার্ড দেখানো হয়। উবেরলান্দিয়ার পর্ষদের দুজন সদস্যও বহিষ্কৃত হন। সব মিলিয়ে লাল কার্ডের সংখ্যা দাঁড়ায় ৫৩।
রেফারি মোদেস্তো তাঁর প্রতিবেদনে লিখেছেন, দ্বিতীয়ার্ধের ৫৪তম মিনিটে এমন সাধারণ মারামারি শুরু হয় যে লাল কার্ড দেখানো এবং ম্যাচ শেষ করার আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করা অসম্ভব হয়ে পড়ে।
তিনি আরও লিখেছেন, সব বিশৃঙ্খলা ও নিরাপত্তার অভাবের কারণে তিনি ম্যাচটি শেষ ঘোষণা করতে বাধ্য হন।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, রেফারির বিরুদ্ধে হুমকির ঘটনায় পুলিশে অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে এবং ম্যাচের পর মামোরে দল ড্রেসিংরুমে ভাঙচুর চালায় বলেও উল্লেখ করা হয়েছে।
এর আগের বিশ্ব রেকর্ড ছিল ৩৬টি লাল কার্ডের। ২০১১ সালের ফেব্রুয়ারিতে আর্জেন্টিনার পঞ্চম বিভাগের ম্যাচে আতলেতিকো ক্লেপোলে ও ভিক্তোরিয়ানো আরেনাসের মধ্যে ওই ঘটনা ঘটেছিল।
বুধবার উবেরলান্দিয়া জানিয়েছে, সেমিফাইনালের দ্বিতীয় লেগ তারা খেলবে না। ক্লাবটির ভাষায়, এটি ‘ন্যায্য খেলার নিদর্শন’, কারণ মামোরের কাছে মাঠে নামানোর মতো যথেষ্ট যোগ্য খেলোয়াড় নেই।
দ্বিতীয় লেগ না খেলায় মামোরে টুর্নামেন্টের ফাইনালে উঠে গেছে।
উবেরলান্দিয়া আরও জানিয়েছে, ঘটনায় জড়িতদের বিষয়ে ক্লাবের ভেতরে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে, কারণ তাদের মতে খেলোয়াড়ের বিকাশের আগে ব্যক্তিগত বিকাশই গুরুত্বপূর্ণ।



