ভ্যাট নিবন্ধন থাকলেও রিটার্ন দেয়নি ৮৯ শতাংশ প্রতিষ্ঠান, জুলাইয়ে আদায়ের ৮০ শতাংশই এসেছে মাত্র ৩৩৭ প্রতিষ্ঠান থেকে
দেশে ভ্যাটের আওতায় নিবন্ধিত প্রতিষ্ঠানগুলোর বড় অংশই নিয়মিত রিটার্ন দাখিল করছে না। জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) আওতাধীন ভ্যাট নিরীক্ষা, গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তরের সাম্প্রতিক এক পর্যালোচনায় এ চিত্র উঠে এসেছে।
ভ্যাট গোয়েন্দার প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত জুলাই মাসে দেশে নিবন্ধিত মোট ৮ লাখ ৩০ হাজার ২৩২টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ৭ লাখ ৪১ হাজার ৭৪৫টি প্রতিষ্ঠান কোনো ভ্যাট প্রদান করেনি কিংবা রিটার্ন জমা দেয়নি। অর্থাৎ মোট নিবন্ধিত প্রতিষ্ঠানের ৮৯ দশমিক ৩৪ শতাংশই ওই মাসে কর দেওয়া থেকে বিরত ছিল।
বিপরীতে মাত্র ১০ দশমিক ৬৬ শতাংশ বা ৮৮ হাজার ৪৮৭টি প্রতিষ্ঠান কর পরিশোধের হিসাব দেখিয়ে রিটার্ন দাখিল করেছে বলে প্রতিবেদনে বলা হয়।
প্রাপ্ত তথ্য পর্যালোচনায় দেখা যায়, মোট প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ৬৮ দশমিক ৪৬ শতাংশ বা ৫ লাখ ৬৮ হাজার ৩৭৪টি প্রতিষ্ঠান কোনো রিটার্নই জমা দেয়নি।
অন্যদিকে যে ২ লাখ ৬১ হাজার ৮৫৮টি প্রতিষ্ঠান রিটার্ন জমা দিয়েছে, তার মধ্যে ১ লাখ ৭৩ হাজার ৩৭১টি প্রতিষ্ঠানই ছিল শূন্য রিটার্নদাতা।
প্রতিবেদনে কর আদায়ে বৈষম্যের তথ্যও উঠে এসেছে। জুলাই মাসে সারাদেশে ৩ হাজার ২৬৬ কোটি টাকার কিছু বেশি ভ্যাট আদায় হয়। এর প্রায় ৮০ দশমিক ৬৭ শতাংশ বা ২ হাজার ৬৩৫ কোটি টাকাই এসেছে মাত্র ৩৩৭টি শীর্ষ প্রতিষ্ঠান থেকে।
অবশিষ্ট ৮ লাখ ২৯ হাজার ৮৯৫টি প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে সব মিলিয়ে ভ্যাট জমা পড়েছে মাত্র প্রায় ৬৩১ কোটি টাকা বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।
দেশের বৃহৎ করদাতা ইউনিটেও (এলটিইউ-ভ্যাট) রিটার্ন দাখিলে অবহেলা দেখা গেছে। এই ইউনিটের অধীনে থাকা দেশের শীর্ষ ১১১টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ২৪টি জুলাই মাসে রিটার্ন দেয়নি।
সর্বোচ্চ করদাতা থাকা ঢাকা দক্ষিণ ভ্যাট কমিশনারেটে মাত্র ২৪ শতাংশ বা ৩৫ হাজার ৮০৫টি প্রতিষ্ঠান রিটার্ন দাখিল করেছে। ঢাকা পশ্চিম কমিশনারেটে রিটার্ন দাখিলকারীদের প্রায় ৭০ শতাংশই শূন্য রিটার্ন দিয়েছে।
পর্যটন শহর কক্সবাজারে ১২ হাজারের বেশি নিবন্ধিত প্রতিষ্ঠানের ৬৪ শতাংশ শূন্য রিটার্ন জমা দেওয়ায় মোট আদায় দাঁড়িয়েছে মাত্র সাত কোটি টাকার সামান্য বেশি। রাজশাহী, রংপুর ও যশোর কমিশনারেটেও রিটার্ন দাখিলকারী প্রতিষ্ঠানের প্রায় ৬৮ থেকে ৭৩ শতাংশ কোনো ভ্যাট প্রদর্শন করেনি।
চলতি অর্থবছরের প্রথম তিন মাসে (জুলাই-সেপ্টেম্বর) সার্বিক রাজস্ব ঘাটতি দাঁড়িয়েছে ৪১ হাজার ৮৭৯ কোটি টাকা, যার মধ্যে সবচেয়ে বড় ঘাটতি হয়েছে ভ্যাট খাতে। এই সময়ে ভ্যাট আদায়ের লক্ষ্য ছিল ৪৯ হাজার ৪০৫ কোটি টাকা, যার বিপরীতে আদায় হয়েছে মাত্র ২৯ হাজার ৩৪৮ কোটি টাকা; ফলে ভ্যাট আদায়ে ঘাটতি দাঁড়িয়েছে ২০ হাজার ৫৭ কোটি টাকা।
ব্যবসায়ীদের দাবির মুখে অর্থবছরের শুরুতে তিন মাস পরপর রিটার্ন দাখিলের সুবিধা দেওয়া হলেও ভ্যাট আদায়ে বড় ধরনের স্থবিরতা দেখা দেওয়ায় গত সেপ্টেম্বর থেকে পুনরায় আগের মতো মাসভিত্তিক রিটার্ন ব্যবস্থা ফিরিয়ে আনা হয়েছে।


