ব্রেক্সিট-ধাক্কার পরের সর্বোচ্চ স্তরে পাউন্ড: এক দশকের শীর্ষে স্টার্লিং, কার্যকর বিনিময় সূচক ৮৬.৫৩

এক দশক আগে ব্রেক্সিট গণভোটের ধাক্কায় যে পতন শুরু হয়েছিল, তার পর থেকে সর্বোচ্চ স্তরে উঠেছে ব্রিটিশ পাউন্ড। ব্যাংক অব ইংল্যান্ডের বৃহস্পতিবার প্রকাশিত তথ্যে দেখা গেছে, অন্যান্য মুদ্রার একটি ঝুড়ির বিপরীতে পাউন্ড বুধবার পৌঁছেছিল ২০১৬ সালের ২৩ জুন—ইউরোপীয় ইউনিয়ন ছাড়া-না-ছাড়ার গণভোটের দিন—এর পর থেকে সবচেয়ে শক্তিশালী অবস্থানে।
এই উত্থানের পেছনে রয়েছে মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচনের পর ডলারের দরপতন। তবে শুধু ডলার নয়, ইউরো ও ইয়েনসহ অন্যান্য মুদ্রার বিপরীতেও সম্প্রতি পাউন্ডের শক্তি বেড়েছে।
বাজারের আরেকটি প্রত্যাশা পাউন্ডকে চাঙা করেছে। বিনিয়োগকারীদের ধারণা, তিন বছরের বেশি সময় পর বৃহস্পতিবার দুপুরে প্রথমবারের মতো সুদের হার বাড়াতে পারে ব্যাংক অব ইংল্যান্ড। হার বাড়লে স্টার্লিং ধরে রাখা বিনিয়োগকারীদের জন্য আরও লাভজনক হবে।
বুধবার ডেমোক্র্যাটদের জয়ের পর ডলার দুর্বল হয়ে পড়ে। ঝুঁকি নেওয়ার প্রবণতা বাড়ায় অর্থ অন্যান্য মুদ্রার দিকে সরে যায়, যার সুফল পেয়েছে পাউন্ডও।
ডয়চে ব্যাংকের জিম রিড বলেছেন, বাজারের প্রতিক্রিয়ায় বিনিয়োগকারীদের স্বস্তি স্পষ্ট—ফলাফল নিয়ে কোনো বিতর্ক হয়নি, যা রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা কমিয়েছে। তাঁর ভাষায়, বিভক্ত সরকারের সম্ভাবনা রাজস্ব পরিস্থিতি নিয়েও উদ্বেগ কমিয়েছে, কারণ এখন করছাড় বা ব্যয়ের প্যাকেজ পাস করা আরও কঠিন হবে।
পাউন্ডের এই দশ বছরের সর্বোচ্চ অবস্থান ধরা পড়েছে ব্যাংক অব ইংল্যান্ডের স্টার্লিং কার্যকর বিনিময় হার সূচকে (ইইআরআই), যা একটি মুদ্রাঝুড়ির বিপরীতে পাউন্ডের মান মাপে। সূচকটি এখন ৮৬ দশমিক ৫৩৭২। এই সূচকে ১০০ ধরা হয় ২০০৫ সালের জানুয়ারিতে পাউন্ডের মানকে।
তুলনায় ২০১৬ সালে ব্রেক্সিট ভোটের কয়েক ঘণ্টার মধ্যে ডলারের বিপরীতে পাউন্ড নেমে গিয়েছিল ৩১ বছরের সর্বনিম্নে। গণভোটের দিন সূচক ছিল ৮৭ দশমিক ৯২৪৮, পরদিনই তা নেমে আসে ৮৪ দশমিক ৪৪১-এ। করোনা মহামারির সময় ২০২০ সালের ২৩ মার্চ সূচক নেমেছিল সর্বনিম্ন ৭৩ দশমিক ১-এ।
বৃহস্পতিবার ডলারের বিপরীতে পাউন্ড ছিল প্রায় স্থির, ১ দশমিক ৩৪৬৩ ডলারে; বুধবার এটি বেড়েছিল আধা সেন্টের বেশি। ইউরোর বিপরীতে স্টার্লিং কিছুটা কমে দাঁড়িয়েছে ১ দশমিক ১৯৮৫ ইউরোতে, যদিও অক্টোবরের শেষে এটি ১ দশমিক ২০ ইউরো ছাড়িয়ে ১৮ মাসের সর্বোচ্চে উঠেছিল।
মধ্যবর্তী নির্বাচনে ট্রাম্পের পরাজয়ের পর মার্কিন বাজারের ঊর্ধ্বগতির ধারায় বৃহস্পতিবার সকালে ইউরোপের শেয়ারবাজারও বেড়েছে। লন্ডনের এফটিএসই ১০০ ও জার্মানির ড্যাক্স বেড়েছে দশমিক ৬ শতাংশ, ফ্রান্সের ক্যাক ৪০ বেড়েছে দশমিক ৮ শতাংশ।
ইসিও ইনভেস্টমেন্ট ম্যানেজমেন্টের প্রধান বিনিয়োগ কর্মকর্তা অজিত নায়ার বলেছেন, বাজারের তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া স্পষ্টতই ইতিবাচক এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা-সংশ্লিষ্ট শেয়ার নিয়ে সাম্প্রতিক অস্থিরতার পর এটি কিছুটা স্বস্তি দিয়েছে। তাঁর মতে, বাজার এই ধারণা থেকে সান্ত্বনা নিচ্ছে যে নির্বাচনের ফলে প্রেসিডেন্টের মেয়াদের শেষ দুই বছরে ট্রাম্প প্রশাসনকে তার নীতির সবচেয়ে বিঘ্নঘটানো অংশগুলো এগিয়ে নিতে আরও বাধার মুখে পড়তে হবে।
তবে সতর্কও করেছেন নায়ার। তাঁর ভাষায়, এ ধারণা শেষ পর্যন্ত সঠিক প্রমাণিত হতে পারে, কিন্তু বিনিয়োগকারীদের অতিরিক্ত স্বস্তিতে ভোগা উচিত হবে না। কংগ্রেস কঠিন হলেও প্রেসিডেন্ট ক্ষমতাহীন নন, বিশেষ করে বাণিজ্য ও পররাষ্ট্রনীতির ক্ষেত্রে। বাজার কার্যত ওয়াশিংটন থেকে দুটি তুলনামূলক শান্ত বছর আশা করছে—সেই অনুমান এখনো পরীক্ষার মুখে পড়তে পারে।

