ময়মনসিংহে সড়ক ঘেঁষে উঠছে বহুতল ভবন, মানা হচ্ছে না বিল্ডিং কোড
দিন দিন বড় হচ্ছে ময়মনসিংহ নগরী। বাড়ছে জনসংখ্যা, গড়ে উঠছে নতুন নতুন বহুতল ভবন, আবাসিক ভবন ও বাণিজ্যিক স্থাপনা। কিন্তু নগরীতে ভবনের সংখ্যা ও উচ্চতা বাড়লেও সেই তুলনায় বাড়েনি সড়কের প্রশস্ততা। ফলে অপরিকল্পিত নগরায়ণ, সংকীর্ণ সড়ক, যানজট এবং নাগরিক দুর্ভোগ দিন দিন প্রকট হয়ে উঠছে।
বিশেষ করে ভবন নির্মাণের ক্ষেত্রে নির্ধারিত নীতিমালা ও ইমারত নির্মাণ বিধিমালা (বিল্ডিং কোড) যথাযথভাবে অনুসরণ না করার অভিযোগ উঠেছে।
সরেজমিনে দেখা যায়, অনেক জায়গায় সরু রাস্তার পাশেই নির্মাণ করা হয়েছে বহুতল ভবন। কোথাও কোথাও ভবন নির্মাণের সময় চারপাশে পর্যাপ্ত জায়গা রাখা হয়নি। আবার কিছু ভবন সড়কের একেবারে ঘেঁষে নির্মাণ করা হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। কোনো কোনো স্থাপনার ক্ষেত্রে সরকারি রাস্তা ও জায়গা দখল করে ভবন নির্মাণের অভিযোগও পাওয়া গেছে। ফলে আগে থেকেই সংকীর্ণ সড়কগুলো আরও সংকুচিত হয়ে পড়ছে।
নগর কর্তৃপক্ষের প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, ২০১৮ সালে ময়মনসিংহ নগরীতে এক থেকে ছয় তলা পর্যন্ত ভবনের সংখ্যা ছিল ৪৪ হাজার ৫৭১টি। ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত এ সংখ্যা বেড়ে দাঁড়ায় ৪৮ হাজার ২২৮টিতে। একই সময়ে সাততলার বেশি উচ্চতার ভবনের সংখ্যা ২৭০টি থেকে বেড়ে ৫৪১টিতে দাঁড়ায়। অর্থাৎ কয়েক বছরের ব্যবধানে নগরীতে ভবন নির্মাণের প্রবণতা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, ভবন নির্মাণের সময় অনুমোদিত নকশা অনুসরণ করার কথা থাকলেও বাস্তবে অনেক ক্ষেত্রে এর ব্যত্যয় ঘটছে। কেউ কেউ অনুমোদিত নকশা পরিবর্তন করে ভবনের আয়তন বাড়াচ্ছেন। আবার পাশাপাশি ভবন নির্মাণের সময় নির্ধারিত দূরত্ব না রাখায় এক ভবনের সঙ্গে অন্য ভবন প্রায় মিশে যাচ্ছে। এতে স্বাভাবিক আলো-বাতাস চলাচল ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি অগ্নিনিরাপত্তা ও জরুরি উদ্ধার কার্যক্রম নিয়েও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
নগরীর বিভিন্ন এলাকায় সরু রাস্তার পাশে বহুতল ভবন নির্মাণের কারণে যানবাহন চলাচলও কঠিন হয়ে পড়ছে। কোথাও কোথাও ভবনের নির্মাণসামগ্রী সড়কে রাখায় পথচারী ও যানবাহন চলাচলে বিঘ্ন সৃষ্টি হচ্ছে। ভবনের সামনে পর্যাপ্ত জায়গা না থাকায় গাড়ি পার্কিংয়ের জন্যও তৈরি হচ্ছে বাড়তি চাপ। ফলে গুরুত্বপূর্ণ সড়কগুলোতে যানজট আরও দীর্ঘ হচ্ছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, অপরিকল্পিতভাবে ভবন নির্মাণ শুধু নগরীর সৌন্দর্য নষ্ট করে না, বরং ভবিষ্যতে বড় ধরনের দুর্যোগ মোকাবিলাকেও কঠিন করে তোলে। বিশেষ করে ভূমিকম্প, অগ্নিকাণ্ড কিংবা অন্য কোনো জরুরি পরিস্থিতিতে সংকীর্ণ রাস্তা ও ভবনের মধ্যবর্তী পর্যাপ্ত জায়গা না থাকলে উদ্ধারকাজ ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। তাই ভবন নির্মাণের আগে মাটি পরীক্ষা, অনুমোদিত নকশা অনুসরণ, প্রয়োজনীয় খোলা জায়গা রাখা এবং অগ্নিনিরাপত্তা ব্যবস্থা নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি।
এদিকে ময়মনসিংহ সিটি করপোরেশনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, অনুমোদিত নকশার ব্যত্যয় ঘটিয়ে ভবন নির্মাণের ক্ষেত্রে প্রয়োজন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। নগর পরিকল্পনা বিভাগও নিয়মবহির্ভূত নির্মাণকাজের বিষয়ে নজরদারির কথা জানিয়েছে।



