এক সপ্তাহে দ্বিতীয়বার ইউরোপজুড়ে ফ্লাইটে বোমা হুমকি: ১৪টির বেশি বিমানে সতর্কতা, কয়েকটির জরুরি অবতরণ

চলতি সপ্তাহে দ্বিতীয়বারের মতো ইউরোপজুড়ে বিভিন্ন ফ্লাইটে বোমা হামলার হুমকি দেওয়া হয়েছে। বৃহস্পতিবার ১৪টিরও বেশি ফ্লাইটে এ ধরনের হুমকির খবর পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছে বিবিসি ও রয়টার্স।
কোনো দেশই এই হুমকিগুলোর জন্য কাউকে দায়ী করেনি। তবে এমন এক সময়ে এগুলো সামনে এল, যখন ইউরোপীয় কর্মকর্তারা রাশিয়া ও ইরানকে তাদের ভাষায় ‘হাইব্রিড আক্রমণ’ ও অন্তর্ঘাতমূলক কর্মকাণ্ডের জন্য অভিযুক্ত করছেন। মস্কো ও তেহরান উভয়ই এ ধরনের কোনো অভিযানের কথা অস্বীকার করেছে।
যুক্তরাজ্যের পরিবহনমন্ত্রী হেইডি আলেকজান্ডার এগুলোকে ‘বিদ্বেষপূর্ণ ভুয়া হুমকি’ বলে অভিহিত করেছেন।
আইরিশ এয়ারলাইন এয়ার লিঙ্গাস এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, ডাবলিন থেকে রোমগামী তাদের ফ্লাইট ইআই৪০২-কে নিরাপত্তার খাতিরে অন্য পথে ঘুরিয়ে দেওয়া হয়। বিমানটি বৃহস্পতিবার প্যারিসের ১০০ কিলোমিটার (৬২ মাইল) পশ্চিমে অবস্থিত এভরেক্স বিমানবন্দরে নিরাপদে অবতরণ করে। ছবিতে ডাবলিন থেকে রোমগামী এয়ার লিঙ্গাসের এয়ারবাস এ৩২০ বিমানটিকে ফ্রান্সের এভরেক্স সামরিক বিমান ঘাঁটিতে দেখা গেছে।
বুলগেরিয়ার কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, বোমা হামলার হুমকির কারণে তিনটি বিমান বলকান অঞ্চলের এই দেশটিতে জরুরি অবতরণ করতে বাধ্য হয়েছে। সম্প্রচারমাধ্যম বিটিভির বরাতে দেশটির স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানিয়েছেন, কোপেনহেগেন ও মাদ্রিদ থেকে আসা বিমানগুলো সোফিয়ায় নিরাপদে অবতরণ করেছে। স্থানীয় গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, লন্ডন থেকে আসা তৃতীয় একটি বিমানকে অন্য পথে ঘুরিয়ে বুলগেরিয়ার দ্বিতীয় বৃহত্তম শহর প্লোভদিভে অবতরণ করানো হয়। এ বিষয়ে মন্তব্যের অনুরোধে সরকারের পক্ষ থেকে কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি।
চেক পুলিশ ‘এক্স’-এ জানিয়েছে, বৃহস্পতিবার প্রাগগামী চারটি বিমানে বোমা হামলার হুমকি দেওয়া হয়েছে। কর্তৃপক্ষ বিমানগুলোর অবতরণের প্রস্তুতি নিচ্ছে, যদিও তারা এই হুমকিগুলোর বিশ্বাসযোগ্যতা খুব কম বলে মনে করছে।
ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানিয়েছে, ফিনএয়ারের একটি বিমান হেলসিংকি থেকে রোমে আসার পথে ইতালীয় বিমানবাহিনী সেটিকে নিরাপদে এসকর্ট করে নিয়ে আসে। ফিনএয়ার কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, হেলসিংকি থেকে ছেড়ে আসা তাদের আরেকটি বিমান বোমা হামলার হুমকি পাওয়ার পরও ভিয়েনায় স্বাভাবিকভাবে অবতরণ করেছে।
পোলিশ এয়ারলাইন ‘লট’ জানিয়েছে, ওয়ারশ থেকে ব্রাসেলসগামী তাদের একটি বিমান নিরাপত্তা সতর্কতার পর গন্তব্যে নিরাপদে অবতরণ করেছে এবং সেখানে কোনো সন্দেহজনক বস্তু পাওয়া যায়নি। এয়ারলাইনটি আরও জানিয়েছে, প্যারিসগামী তাদের একটি বিমান উড্ডয়নের জন্য রানওয়েতে এগিয়ে যাওয়ার সময় থামিয়ে দেওয়া হয় এবং সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে যাত্রীদের অন্য একটি বিমানে স্থানান্তর করা হয়।
ইতালীয় গণমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, মিলান থেকে ওয়ারশগামী উইজ এয়ারের একটি ফ্লাইট বোমা হামলার হুমকির কারণে ভিয়েনায় অবতরণ করতে বাধ্য হয়।
এর আগে মঙ্গলবার অন্তত সাতটি ফ্লাইট এবং একটি প্রমোদতরীতে বোমা হামলার হুমকি দেওয়া হয়, যার ফলে ইউরোপজুড়ে বিভিন্ন বিমানবন্দরে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হয়। তবে কোনো বিস্ফোরক বা সন্দেহজনক বস্তু পাওয়া যায়নি।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ভুয়া বোমা হামলার হুমকিগুলো সম্ভবত একই ধরনের সস্তা ও অস্বীকারযোগ্য অন্তর্ঘাতমূলক প্রচেষ্টার অংশ হতে পারে। এভিয়েশন সাইবার নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠান ‘সাইভিয়েশন’-এর প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা এলিরান আলমোগ বলেন, বারবার দেওয়া এসব হুমকি যেমন কার্যক্রম ব্যাহত করতে পারে, তেমনি এর মাধ্যমে এয়ারলাইন, বিমানবন্দর ও জাতীয় কর্তৃপক্ষ কীভাবে সাড়া দেয়, তা-ও পর্যবেক্ষণ করা সম্ভব। আলমোগ বলেন, ‘ইউরোপজুড়ে সুপারমার্কেটের হিমায়ন ব্যবস্থায় সাইবার হামলার ঘটনা যে সময়ে ঘটছে, ঠিক সেই সময়েই বিমান চলাচলের ক্ষেত্রেও এই ধরনের হুমকির ঘটনাগুলো ঘটছে।’ চলতি সপ্তাহে অজ্ঞাত হ্যাকাররা ইউরোপের কয়েকটি দেশের সুপারমার্কেটের রেফ্রিজারেটর বা হিমায়ন ব্যবস্থা অকেজো করে দেয় বলেও প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।



