ঢাকায় বসুন্ধরায় বারভিডা কার এক্সপো শুরু, রিকন্ডিশন্ড গাড়ির নীতিতে বৈষম্য দূর করার দাবি

রাজধানীর আন্তর্জাতিক কনভেনশন সিটি বসুন্ধরায় (আইসিসিবি) বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) ‘বারভিডা কার এক্সপো ২০২৬’ শুরু হয়েছে। রিকন্ডিশন্ড গাড়ি আমদানিকারক ও বিক্রেতাদের সংগঠন বাংলাদেশ রিকন্ডিশন্ড ভেহিক্যালস ইমপোর্টার্স অ্যান্ড ডিলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বারভিডা) তিন দিনের এই প্রদর্শনীর আয়োজন করেছে; এটি চলবে ৭ নভেম্বর পর্যন্ত। বারভিডার এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে আমদানিকারকেরা জাপান থেকে রিকন্ডিশন্ড গাড়ি আমদানির ক্ষেত্রে নীতি প্রণয়নে ‘বৈষম্যমূলক দৃষ্টিভঙ্গি’ বাদ দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন। তাঁরা বলেছেন, জাপানে ‘কে-কার’ নামে পরিচিত ৬৬০ সিসির ছোট গাড়ি আমদানিতে সুবিধা দিলে শহরের রাস্তায় ব্যাটারিচালিত রিকশার দাপট কমানো যাবে।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বাংলাদেশের অর্থনীতি ও উন্নয়নে জাপানি রিকন্ডিশন্ড গাড়ির ৫০ বছরের অবদানের কথা তুলে ধরেন বারভিডার নেতারা। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বারভিডার সভাপতি আবদুল হক।
অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন এনআরবি ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক তারেক রিয়াজ খান, রূপালী ইনস্যুরেন্স কোম্পানির উপদেষ্টা পি কে রায় এবং পূবালী ব্যাংকের কনজ্যুমার ক্রেডিট স্কিমের প্রধান মালেকুল ইসলাম। বারভিডার সাবেক সভাপতি আবদুল মান্নান চৌধুরী খসরু ও মো. হাবিব উল্লাহ ডন এবং সাবেক সেক্রেটারি মাহবুবুল হক চৌধুরী বাবরও বক্তব্য দেন। অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন বারভিডার সেক্রেটারি জেনারেল রিয়াজ রহমান।
আয়োজকেরা জানান, প্রদর্শনীতে জাপানের বিভিন্ন জনপ্রিয় ব্র্যান্ডের রিকন্ডিশন্ড গাড়ি রাখা হয়েছে। এর মধ্যে আছে টয়োটা প্রিয়াস, করোলা ক্রস, হ্যারিয়ার, নোয়া, ভক্সি ও আলফার্ড। দর্শনার্থীরা এক জায়গায় বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের গাড়ি দেখে মডেলভেদে বৈশিষ্ট্য, প্রযুক্তি ও দাম তুলনা করতে পারছেন।
গাড়ি কেনাবেচা আরও সহজ, স্বচ্ছ ও ক্রেতাবান্ধব করাই এই আয়োজনের উদ্দেশ্য বলে জানিয়েছে বারভিডা। প্রদর্শনীতে ব্যাংক ও বিমা প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরাও অংশ নিয়েছেন।
জাপানে কে-কার বা ‘কেই’ গাড়ি এক ধরনের ছোট গাড়ি, যার ইঞ্জিনের সক্ষমতা সর্বোচ্চ ৬৬০ সিসি। আকারে ছোট, জ্বালানিসাশ্রয়ী ও তুলনামূলক কম দামের এসব গাড়ি জাপানে বেশ জনপ্রিয়। বারভিডার নেতাদের যুক্তি, এমন গাড়ি সহজে আমদানির সুযোগ পেলে শহরে ব্যাটারিচালিত রিকশার বিকল্প তৈরি হবে।
চলতি বছর কয়েক দফায় সরকারের নীতির বিরোধিতা করেছে বারভিডা। গত ২৪ আগস্ট প্রকাশিত আমদানি নীতি আদেশে (২০২৬-২০২৯) ব্যবহৃত ও রিকন্ডিশন্ড বৈদ্যুতিক গাড়ি আমদানি পুরোপুরি নিষিদ্ধ করা হয়। আগের নীতিতে এসব গাড়ি আমদানির সুযোগ ছিল। তবে নতুন বৈদ্যুতিক গাড়ি আমদানি করা যাচ্ছে।
এই সিদ্ধান্তকে বৈষম্যমূলক আখ্যা দিয়ে বারভিডা সংবাদ সম্মেলন ও মানববন্ধন করে। গত সেপ্টেম্বরে সারা দেশে শোরুম বন্ধ রেখে কর্মবিরতিও পালন করে সংগঠনটি। বারভিডার প্রস্তাব, অন্তত পাঁচ বছরের পুরোনো বৈদ্যুতিক গাড়ি আমদানির সুযোগ দেওয়া হোক, শর্ত থাকুক ব্যাটারির সক্ষমতা ন্যূনতম ৭০ শতাংশ হওয়ার।
এর আগে চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে মাঝারি সক্ষমতার জীবাশ্ম জ্বালানিচালিত রিকন্ডিশন্ড গাড়ির শুল্ক-কর বাড়ানোর প্রস্তাব করা হয়। এরও বিরোধিতা করে বারভিডা। সংগঠনটির অভিযোগ, প্লাগ-ইন হাইব্রিড গাড়ির ক্ষেত্রে নতুন গাড়িতে শুল্ক ছাড় দেওয়া হলেও রিকন্ডিশন্ড গাড়ি সেই সুবিধা পায়নি। এতে কিছু ক্ষেত্রে রিকন্ডিশন্ড গাড়ির দাম নতুন গাড়ির চেয়েও বেশি পড়ছে বলে দাবি তাদের।
বর্তমান নীতিতে সর্বোচ্চ পাঁচ বছরের পুরোনো গাড়ি আমদানি করা যায়। বারভিডা দীর্ঘদিন ধরে এই বয়সসীমা আট বছর করার দাবি জানিয়ে আসছে। সংগঠনটির দাবি, রিকন্ডিশন্ড গাড়ি আমদানি ও বিপণন খাতে প্রায় ২০ হাজার কোটি টাকার দেশীয় বিনিয়োগ রয়েছে।




