ডিফেন্ডার বিশ্বনাথকে স্ট্রাইকার খেলানো নিয়ে ব্যাখ্যা দিলেন কোচ ডুলি: ‘আমাদের প্রথাগত নাম্বার নাইন নেই’

ঢাকার জাতীয় স্টেডিয়ামে ভুটানের বিপক্ষে ১-০ গোলের জয় দিয়ে সাফ অভিযান শুরু করেছে বাংলাদেশ জাতীয় ফুটবল দল। তবে ম্যাচের পর সব আলোচনা ছাপিয়ে বড় কৌতূহল ছিল একটিই—ডিফেন্ডার বিশ্বনাথ ঘোষকে হঠাৎ স্ট্রাইকার হিসেবে নামানো হলো কেন।
ম্যাচ শেষে সংবাদ সম্মেলনে এসে প্রধান কোচ টমাস ডুলি সেই সিদ্ধান্তের কারণ খোলাসা করেন। গলা ভেঙে গেলেও জয় দিয়ে সাফ শুরুর স্বস্তি ছিল কোচের কথায়।
ডুলি বলেন, ‘আমরা স্বীকার করি যে আমাদের দলে একজন প্রথাগত ‘নাম্বার নাইন’ (প্রথাগত স্ট্রাইকার) নেই এবং আমাদের একজন খুঁজে বের করতে হবে। বিশ্বনাথ অনেক আক্রমণাত্মক খেলোয়াড়।’
বিশ্বনাথকে ঘরোয়া ফুটবলে কখনো স্ট্রাইকার হিসেবে খেলতে দেখা যায়নি, আন্তর্জাতিক ম্যাচে তো নয়ই। সবাইকে চমকে দিয়ে এদিন তাঁকে নাম্বার নাইন পজিশনে দাঁড় করান ডুলি।
কোচ জানান, সান মারিনোতে থাকতেই তিনি বিশ্বনাথকে বলেছিলেন, সেন্ট্রাল-ব্যাক হিসেবে খেলালে তাঁর তীব্রতার কারণে প্রতিপক্ষকে পেনাল্টি উপহার দেওয়া বা লাল কার্ড দেখার ঝুঁকি থাকে। তাঁর মনে হয়েছিল বিশ্বনাথ রাইট-ব্যাক হিসেবে খেলতে পারেন, কিন্তু সেখানেও তাঁকে বক্সের ভেতরে ডিফেন্ড করতে হবে।
ডুলির ভাষায়, সান মারিনোর বিপক্ষে তিনি বিশ্বনাথকে রাইট-ফরোয়ার্ড হিসেবে খেলিয়েছিলেন এবং তিনি অসাধারণ কাজ করেছিলেন। সে ম্যাচে বিশ্বনাথ গোলরক্ষকের সঙ্গে দুটি ওয়ান-অন-ওয়ান সুযোগ পেয়েছিলেন, দলের দ্বিতীয় গোলে অ্যাসিস্ট করেছিলেন এবং দারুণ এনার্জি দিয়ে প্রতিপক্ষের ডিফেন্ডারদের চাপে রেখেছিলেন।
ভুটানের বিপক্ষেও মাঠে থাকা পর্যন্ত বিশ্বনাথ বল প্রেস করেছেন, প্রতিপক্ষের রক্ষণকে ব্যস্ত রেখেছেন এবং বলের পেছনে ছুটেছেন। কিছু পাসও খেলেছেন তিনি, একটি ভালো হেড নিয়েছিলেন, তবে সেটি পোস্টের বাইরে যায়। বিরতির পর কিছু সময়ের মধ্যে কোচ তাঁকে তুলে নেন।
ডুলি বলেন, ‘ডান পাশে সাদ দারুণ খেলছে এবং তারিক রক্ষণে ভালো করছে। তাই আমি চেয়েছিলাম, বিশ্বনাথ এমন পজিশনে খেলুক, যেখানে সে দলকে সবচেয়ে বেশি সাহায্য করতে পারবে। নাম্বার নাইন হিসেবে আপনাকে সেখানেই যেতে হবে, যেখানে আঘাত পাওয়ার ঝুঁকি থাকে এবং সে এতে মোটেও পিছপা হয় না। আশা করছিলাম, সে আজ গোল পাবে; তবে সুযোগটিতে ভাগ্য সহায় না হলেও তাঁর অবদান নিয়ে আমি অত্যন্ত সন্তুষ্ট।’
মাত্র এক গোলে জিতলেও সামগ্রিক খেলায় সন্তুষ্টির কথা বলেছেন কোচ। তিনি বলেন, ‘সামগ্রিকভাবে দলের খেলায় আমি খুশি। আমরা ম্যাচটি জিতেছি এবং ৩ পয়েন্ট পেতে চেয়েছিলাম, যা পেয়েছি। প্রথমার্ধে ২০ থেকে ৩০ মিনিট এবং দ্বিতীয়ার্ধে ২০ মিনিট আমরা খুব ভালো বল মুভমেন্ট দেখিয়েছি এবং সুযোগ তৈরি করেছি।’
রক্ষণের প্রশংসা করে ডুলি বলেন, দল খুবই সুসংগঠিত ছিল। ইন্দোনেশিয়ার সাম্প্রতিক ম্যাচগুলো থেকে শিক্ষা নিয়ে অগোছালো না খেলে সুসংগঠিত থাকতে হয়েছে। একসঙ্গে কাজ করার অল্প সময়ের বিচারে দল যেভাবে খেলেছে, তাতে তিনি খুবই আনন্দিত।
তবে পুরো ৯০ মিনিট একই গতি ধরে রাখা যায় না বলেও জানান কোচ। তিনি বলেন, মনোযোগ হারালে বা ক্লান্ত হয়ে পড়লে প্রতিপক্ষ সুযোগ খুঁজে নেবেই। যতক্ষণ দল শারীরিক স্পর্শ বজায় রাখে ও প্রতিপক্ষকে চাপে রাখে, ততক্ষণ ভালো খেলে। প্রায় ১৫ মিনিট দল খানিকটা ব্যাকফুটে চলে গিয়েছিল, যা নিয়ে দলের সঙ্গে পর্যালোচনা করা হবে।
দলের একটি সমস্যাও তুলে ধরেন ডুলি। তিনি বলেন, দলের অনেক সুযোগ ছিল, কিন্তু বক্সে পর্যাপ্ত খেলোয়াড় থাকলেই গোল পাওয়া যাবে। প্রতিপক্ষের ৭-৮ জন ডিফেন্ডারের বিপরীতে বক্সে মাত্র ১ বা ২ জন খেলোয়াড় নিয়ে খেলা হচ্ছিল, যা ভবিষ্যতে বদলাতে চান তিনি।



