‘প্লে-অফ দলগুলো চেয়েছিল, মালিকেরা আটকে দিয়েছে’: মেজর লিগে ফেরা নিয়ে বাউয়ারের দাবি

সাবেক মেজর লিগ বেসবল (এমএলবি) পিচার ট্রেভর বাউয়ার দাবি করেছেন, প্লে-অফে খেলা দলগুলো তাঁকে দলে নিতে চেয়েছিল, কিন্তু দলের মালিকেরা প্রতিবার সেই পদক্ষেপ আটকে দিয়েছেন। ডোমিনিকান ইউটিউব চ্যানেল রম্পিয়েন্দো স্পোর্টসকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি বলেছেন, তাঁকে কার্যত এমএলবি থেকে ‘ব্ল্যাকবল’ করা হয়েছে।
বাউয়ার বলেন, ‘আমরা প্রতিটি দলের সঙ্গে কথা বলেছি। বেসবলের সব মানুষ, ফ্রন্ট অফিসের সবাই, জেনারেল ম্যানেজার, কোচ, খেলোয়াড়—সবাই বলে, হ্যাঁ, আমরা তোমাকে চাই। একমুহূর্তে তোমাকে সই করিয়ে নিতাম, কিন্তু আমাদের অনুমতি নেই।’ তাঁর দাবি, বিষয়টি দলের মালিকের কাছে গেলেই উত্তর আসে ‘না’, এবং নামটি আর না তোলার নির্দেশ দেওয়া হয়।
তিনি আরও দাবি করেন, গত মৌসুমে প্লে-অফ দলগুলোর লোকজন তাঁকে দলে নেওয়ার প্রয়োজনীয়তার কথা বলেছিলেন, কিন্তু তাঁদের সতর্ক করে দেওয়া হয়েছিল—নামটি আবার তুললে ঘটনাস্থলেই চাকরি যাবে। বাউয়ারের ভাষ্য অনুযায়ী, এমন দলের সংখ্যা একটি নয়, আট থেকে দশটি।
২০২০ সালে ন্যাশনাল লিগের সাই ইয়ং পুরস্কার জেতা বাউয়ার ২০২১ সালের পর থেকে আর মেজর লিগে পিচ করেননি। পিচার হিসেবে গড় বার্ষিক মূল্যের হিসেবে তখনকার সবচেয়ে বড় চুক্তিতে সই করার কয়েক মাস পরই তাঁর বিরুদ্ধে যৌন নির্যাতনের অভিযোগ ওঠে।
২০২১ সালের ২৮ জুন তিনি ছয় ইনিংসে দুই রান দিয়ে আট ব্যাটারকে স্ট্রাইকআউট করে জয় পেয়েছিলেন। দুই দিন পরই তাঁর বিরুদ্ধে যৌন নিপীড়নের অভিযোগ আসে। পরে যৌথ গার্হস্থ্য সহিংসতা, যৌন নিপীড়ন ও শিশু নির্যাতন নীতির লঙ্ঘনের দায়ে তাঁকে প্রথমে ৩২৪ ম্যাচের নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়, যা কমিয়ে ১৮৪ ম্যাচ করা হয়।
বাউয়ার শুরু থেকেই নিজেকে নির্দোষ বলে দাবি করে আসছেন। এক অভিযোগকারীর সঙ্গে তিনি সমঝোতায় পৌঁছেছেন; আরেক অভিযোগকারীর বিরুদ্ধে গর্ভধারণের ভুয়া দাবি করে গর্ভপাতের জন্য অর্থ চাওয়ার অভিযোগে প্রতারণার মামলা হয়েছে, যাতে তাঁর ১৬ বছরের কারাদণ্ড হতে পারে বলে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।
নিজের ভূমিকার কথাও সাক্ষাৎকারে স্বীকার করেছেন বাউয়ার। তিনি বলেছেন, ‘স্টিকি স্টাফ’ ও প্রতারণা-কাণ্ডের মতো বিষয়ে তিনি নিজেই নেতিবাচক প্রচার ডেকে এনেছেন, আর অভিযোগগুলো ঘিরে খারাপ গণমাধ্যম-মনোযোগ তাঁর অবস্থান আরও দুর্বল করেছে—যদিও তাঁর দাবি, সংশ্লিষ্টরা জানেন অভিযোগগুলো মিথ্যা।
২০২৬ মৌসুমে বাউয়ার স্বাধীন লিগ ও মেক্সিকোতে খেলেছেন; বর্তমানে তিনি ডোমিনিকান প্রজাতন্ত্রে খেলছেন। এর আগে তিনি বলেছিলেন, মেজর লিগে বিনা পারিশ্রমিকেও খেলতে রাজি, এবং লিগে ফিরতে না পারলে এমএলবির বিরুদ্ধে মামলা করা ছাড়া তাঁর আর কোনো উপায় নাও থাকতে পারে।
বাউয়ারের ভাষায়, দলগুলোর তাঁকে ফেরাতে না চাওয়ার আসল কারণ চাপ: ‘তাঁদের আমাকে ফেরাতেই হবে, এমন কোনো বাধ্যবাধকতা নেই। কারণ কোনো সংগঠন আমাকে সই করালে যে নেতিবাচক গণমাধ্যম-চাপ তৈরি হবে, তার আড়ালে তাঁরা লুকিয়ে থাকতে পারেন। এ নিয়ে আমার কিছুই করার নেই।’




