গণনায় এএনসি মাত্র ৩২ শতাংশে: দক্ষিণ আফ্রিকার স্থানীয় নির্বাচনে ঐতিহাসিক পতনের পথে ক্ষমতাসীন দল
দক্ষিণ আফ্রিকার স্থানীয় নির্বাচনের প্রাথমিক ফলাফলে ক্ষমতাসীন আফ্রিকান ন্যাশনাল কংগ্রেসের (এএনসি) ভোটের হার তীব্রভাবে কমে গেছে। বৃহস্পতিবার গভীর রাতে নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, ৬০ শতাংশের বেশি ভোট গণনা শেষে এএনসি পেয়েছে প্রায় ৩২ শতাংশ ভোট—যা দীর্ঘদিন ধরে আধিপত্য ধরে রাখা দলটির জন্য নতুন নিম্নস্তর।
দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে ডেমোক্র্যাটিক অ্যালায়েন্স (ডিএ), তাদের ভোট প্রায় ২৫ শতাংশ। সাবেক প্রেসিডেন্ট জ্যাকব জুমার বিচ্ছিন্ন দল উমখোন্তো ওয়েসিজওয়ে (এমকে) তৃতীয় স্থানে রয়েছে ৮ দশমিক ৫ শতাংশ ভোট নিয়ে—যা জনমত জরিপে পাওয়া ইঙ্গিতের চেয়ে কম।
নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, নিবন্ধিত ২ কোটি ৯২ লাখ ভোটারের মধ্যে প্রায় ১ কোটি ৫৯ লাখ ভোট দিয়েছেন। অর্থাৎ ভোট পড়েছে আনুমানিক ৫৪ দশমিক ৫ শতাংশ, যা করোনা-আক্রান্ত ২০২১ সালের স্থানীয় নির্বাচনের ৪৬ শতাংশের চেয়ে বেশি।
১৯৯৪ সালে বর্ণবাদ-ব্যবস্থা থেকে দেশকে মুক্ত করার পর থেকে এএনসি দক্ষিণ আফ্রিকার সবচেয়ে বড় দল। তবে স্থানীয় নির্বাচনে দলটি বরাবরই জাতীয় নির্বাচনের চেয়ে খারাপ ফল করে, এবং স্থানীয় শাসনের ব্যর্থতা তারা নিজেরাও স্বীকার করেছে। ২০০৪ সালে জাতীয় ভোটের প্রায় ৭০ শতাংশ পাওয়া দলটি ২০২১ সালের পৌর নির্বাচনে প্রথমবারের মতো ৫০ শতাংশের নিচে নেমে ৪৬ শতাংশ পেয়েছিল।
২০২৪ সালের জাতীয় নির্বাচনে এএনসি পেয়েছিল ৪০ শতাংশের সামান্য বেশি ভোট, ফলে ডিএসহ নয়টি দলের সঙ্গে ঐক্য সরকার গঠনে বাধ্য হয়েছিল তারা। প্রেসিডেন্ট সিরিল রামাফোসার নেতৃত্বাধীন দলটির বিরুদ্ধে বছরের পর বছর ধরে পৌর অব্যবস্থাপনার অভিযোগ রয়েছে—যার ফলে ভেঙে পড়া পানি সরবরাহ, দীর্ঘস্থায়ী বিদ্যুৎ বিভ্রাট ও ধ্বংসপ্রায় জনসেবা নিয়ে ভুগছেন দক্ষিণ আফ্রিকানরা। দুর্নীতির অভিযোগও দলটিকে তাড়া করেছে, আর বিচ্ছিন্ন দলগুলো তাদের সমর্থনভিত্তি খেয়ে ফেলছে।
এবারের ভোটে দেশের আটটি বড় মহানগর পৌরসভার নিয়ন্ত্রণ নির্ধারিত হবে, পাশাপাশি রয়েছে অসংখ্য জেলা ও স্থানীয় পরিষদ। ফলে এই ফলাফলকে ২০২৯ সালের সাধারণ নির্বাচনের আগে ভোটারদের মনোভাবের গুরুত্বপূর্ণ মাপকাঠি হিসেবে দেখা হচ্ছে।
পূর্বাঞ্চলের বন্দরনগরী ডারবানে এমকে দল একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেতে পারে—এমন সম্ভাবনার কথা বলা হলেও রাষ্ট্র-অর্থায়িত গবেষণা প্রতিষ্ঠান সিএসআইআরের প্রক্ষেপণ অনুযায়ী সেখানে দলটির সমর্থন ৩২ শতাংশ।
অন্যদিকে পর্যটননগরী কেপটাউনে ডিএ ৫৬ শতাংশ ভোট নিয়ে নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখবে বলে প্রক্ষেপণ দেওয়া হয়েছে, এবং দলটির নেতা জিওর্ডিন হিল-লুইস ইতিমধ্যে জয়ের ঘোষণা দিয়েছেন। দেশের আর্থিক রাজধানী জোহানেসবার্গেও ডিএ ৩৪ শতাংশ ভোট নিয়ে এগিয়ে আছে বলে সিএসআইআরের প্রক্ষেপণে বলা হয়েছে; সেখানে দলটির প্রচারণার নেতৃত্বে ছিলেন সাবেক নেতা ৭৫ বছর বয়সী হেলেন জিল।
কয়েকটি বড় শহরে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা অনিশ্চিত থাকায় সামনে আসতে পারে আরেক দফা জটিল জোট-আলোচনা—যেখানে শহর পরিচালনার জন্য প্রয়োজনীয় জোট গড়তে দলগুলোকে দর-কষাকষিতে বসতে হবে।



