ইংল্যান্ড ও ওয়েলসে পুলিশ বাহিনী ৪৩ থেকে কমিয়ে ৯-এ নামানোর প্রস্তাব, সতর্ক করলেন মেট প্রধান রাউলি

ইংল্যান্ড ও ওয়েলসে পুলিশ বাহিনীর সংখ্যা ব্যাপকভাবে কমানো না হলে পুলিশি ব্যবস্থা ব্যর্থতার দিকে যাবে বলে সতর্ক করেছেন ব্রিটেনের শীর্ষ পুলিশ কর্মকর্তা স্যার মার্ক রাউলি। মেট্রোপলিটন পুলিশের কমিশনার রাউলি শুক্রবার বলবেন, অপরাধী ধরার সক্ষমতা কমে যাচ্ছে এবং পুলিশের প্রতি জনগণের আস্থাও পড়ে যাচ্ছে।
সরকারের নির্দেশে করা একটি আনুষ্ঠানিক পর্যালোচনায় ইংল্যান্ডে পুলিশ বাহিনীর সংখ্যা ৩৯ থেকে কমিয়ে মাত্র নয়টি ‘সুপার ফোর্সে’ নামিয়ে আনার সিদ্ধান্তে পৌঁছানো হয়েছে বলে একাধিক সূত্র জানিয়েছে। সাবেক মেট পুলিশ কমিশনার বার্নার্ড হোগান-হো এই পর্যালোচনাটি করেছেন; প্রতিবেদনটি এখনো প্রকাশিত হয়নি।
সূত্রগুলো বলছে, বিবেচনায় থাকা কাঠামো অনুযায়ী নয়টি আঞ্চলিক বাহিনী থাকবে, এর সঙ্গে ওয়েলসের জন্য থাকবে একটি পৃথক বাহিনী। এসব বাহিনীর নিচে ১৫০টির বেশি স্থানীয় পুলিশিং ইউনিট থাকবে, যারা এলাকাভিত্তিক অপরাধ দমনের বেশিরভাগ কাজ করবে।
হোগান-হোর পর্যালোচনা সেপ্টেম্বরে শেষ হয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী শাবানা মাহমুদের কাছে পাঠানো হয়েছে। সরকারি সূত্রগুলো শুধু বলেছে, বড়দিনের আগেই প্রতিবেদনটি প্রকাশ করা হবে এবং নতুন বছরে এ নিয়ে শ্বেতপত্র আসবে।
রাউলিসহ কয়েকজন পুলিশপ্রধান মনে করেন, ইংল্যান্ড ও ওয়েলসের ৪৩টি বাহিনীর বেশিরভাগ বিলুপ্ত করা জরুরি। তাঁদের আশঙ্কা, সরকার সাত দশকের মধ্যে পুলিশি ব্যবস্থার সবচেয়ে বড় এই সংস্কারটি পিছিয়ে দিতে পারে।
বিলম্বের একটি কারণ হিসেবে অ্যান্ডি বার্নহ্যামের বিকেন্দ্রীকরণ কর্মসূচির কথা বলা হচ্ছে; তিনি ব্রিটিশ রাষ্ট্রব্যবস্থা নতুন করে সাজানো এবং স্থানীয় সরকার সংস্কার করে আরও মেয়র আনার পক্ষে। এক পুলিশ সূত্র বলেছে, বার্নহ্যাম নতুন পুলিশ কাঠামোকে মেয়রদের সঙ্গে মিলিয়ে সাজাতে চাইতে পারেন, তাতে বাহিনীর সংখ্যা ২০ বা তার বেশি থেকে যাবে, যা যথেষ্ট মৌলিক পরিবর্তন হবে না।
রাউলি শুক্রবার ম্যানচেস্টারে এক অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেবেন; সেখানে গ্রেটার ম্যানচেস্টারের প্রধান কনস্টেবল স্যার স্টিফেন ওয়াটসনসহ অন্য প্রধানরাও বাহিনীর সংখ্যা কমানোর পক্ষে চাপ দেবেন। অনুষ্ঠানটির শিরোনাম ‘স্থির থাকার মূল্য হলো অপরাধীরাই জিতবে’। তবে মেটের আয়োজিত এই অনুষ্ঠান নিয়ে কয়েকজন প্রধান কনস্টেবল বিরক্ত; নয়টি বাহিনীতে নামিয়ে আনার প্রস্তাবে তাঁরা সন্দিহান বা সমর্থন করেন না।
বক্তব্যের আগেই প্রকাশিত অংশ অনুযায়ী রাউলি বলবেন, জনগণের আস্থা ইতিমধ্যে কমে গেছে এবং ইতিবাচক ফলাফল — অর্থাৎ অভিযোগ, সতর্কতা, আদালতের বাইরে নিষ্পত্তি বা আর কোনো ব্যবস্থা না নেওয়ার দিকে যাওয়া শনাক্ত অপরাধ — এখন ১২ বছর আগের তুলনায় অর্ধেকেরও কম। তিনি বলবেন, ‘আমি বিশ্বাস করি, এটি ব্রিটিশ পুলিশিংয়ের তৃতীয় বৃহত্তম বিপ্লব আর অনিবার্য পতন ও পাড়ায় কম পুলিশ থাকার মধ্য থেকে একটিকে বেছে নেওয়ার প্রশ্ন।’
রাউলি আরও বলবেন, ইংল্যান্ড ও ওয়েলসের ৪৩টি বাহিনী কমিয়ে আট থেকে ১০টিতে নামানো উচিত। তিনি বলবেন, ‘পুলিশিং তাল মেলাতে চেষ্টা করেছে, ভাঙা মডেলের ওপর কোনোমতে জোড়াতালি দিয়ে চালিয়েছে… কিন্তু মডেলটি এখন নড়বড়ে। আমাদের ৪৩টি অতিরিক্ত চাপে থাকা বাহিনী খুব কম সম্পদ দিয়ে অতিরিক্ত কাজ করার চেষ্টা করছে।’
হোগান-হো মনে করেন, এই পরিবর্তনে নতুন ধরনের অপরাধ ও হুমকি মোকাবিলায় পুলিশ দ্রুত উদ্ভাবনী পদক্ষেপ নিতে পারবে। ৪৩টি বাহিনীর মডেলের বিরুদ্ধে অভিযোগ, ৪৩ জন পুলিশ ও ক্রাইম কমিশনারের তত্ত্বাবধানে থাকা এই ব্যবস্থা খুব ধীর এবং ভুক্তভোগীদের সেবায় এলাকাভেদে বৈষম্য তৈরি করে। হোগান-হো ১২ বছর আগেই বাহিনীর সংখ্যা নয়টিতে নামানোর পক্ষে প্রকাশ্যে মত দিয়েছিলেন।
বড় বাহিনীগুলো খুন ও গুরুতর যৌন সহিংসতার মতো বড় অপরাধ এবং জনশৃঙ্খলার দায়িত্ব নেবে; মানবসম্পদ বিভাগের মতো ব্যয়বহুল কিন্তু জরুরি পেছনের কাজগুলোও তারা সামলাবে, যা এখন ৪৩টি বাহিনীর প্রতিটি আলাদাভাবে করে। আঞ্চলিক বাহিনীগুলোর ওপরে থাকবে নতুন জাতীয় বাহিনী ন্যাশনাল পুলিস সার্ভিস; সরকার চায়, সন্ত্রাসবিরোধী পুলিশিং এবং গুরুতর ও সংগঠিত অপরাধ মোকাবিলা এই বাহিনীর অধীনে থাকুক। নতুন বছরের শুরুতেই এই জাতীয় বাহিনীর কমিশনারের জন্য বিজ্ঞাপন দেওয়া হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
প্রস্তাবিত পরিবর্তনে দক্ষিণ-পূর্ব ইংল্যান্ডে লন্ডনের সীমানা থেকে দক্ষিণ উপকূল পর্যন্ত বিস্তৃত একটি বিশাল বাহিনী তৈরি হতে পারে। উত্তর-পশ্চিমে মার্সি নদী থেকে পেনাইনস পর্যন্ত নতুন বাহিনী গ্রেটার ম্যানচেস্টার, মার্সিসাইড ও ল্যাঙ্কাশায়ারকে অন্তর্ভুক্ত করবে এবং চেশায়ার ও কামব্রিয়ার মতো ছোট বাহিনীগুলোকে গ্রাস করবে।
তবে পুলিশ নেতাদের মধ্যে এ নিয়ে বিভক্তি রয়েছে; কেউ কেউ স্বেচ্ছামূলক একীভূতকরণের পক্ষে। আসন্ন শ্বেতপত্রে বাহিনীগুলোর ব্যাপক বিলুপ্তি ও নতুন বাহিনী তৈরির সিদ্ধান্ত জোর করে কার্যকর করার সুযোগ রাখা হবে। এক প্রধান কনস্টেবল বলেছেন, ‘সবাই জানে ৪৩টি বাহিনী থাকতে পারে না। কিন্তু বিনিয়োগের ফল পেতে পাঁচ-ছয় বছর লেগে যেতে পারে।’ আরেক প্রধান কনস্টেবল বলেছেন, সুপার ফোর্সের প্রধান হলে এত বড় এলাকার কাউকেই তিনি চিনবেন না; বাহিনী অতিরিক্ত বড় হয়ে যাওয়া নিয়ে তিনি উদ্বিগ্ন।
কেন্টের রক্ষণশীল পুলিশ ও ক্রাইম কমিশনার ম্যাথিউ স্কট বলেছেন, ‘তারা পুলিশিংয়ের কাঠামো ছিন্নভিন্ন করতে অনেক সময় ব্যয় করবে, যার ফল হবে ত্রুটিপূর্ণ।’ সরকার এই পরিবর্তনের অংশ হিসেবে পুলিশ ও ক্রাইম কমিশনার পদ বিলুপ্ত করার পরিকল্পনা করছে। আরেক পুলিশ নেতা প্রশ্ন তুলেছেন, বড় বাহিনী ভালো হওয়ার প্রমাণ কোথায়; তিনি উল্লেখ করেছেন, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে মেট, গ্রেটার ম্যানচেস্টার ও ওয়েস্ট মিডল্যান্ডসের মতো সবচেয়ে বড় বাহিনীগুলো এতটাই ব্যর্থ হয়েছে যে সেগুলোকে বিশেষ ব্যবস্থার অধীনে রাখা হয়েছিল এবং তাদের প্রধানদের সরিয়ে দেওয়া হয়েছিল। স্কটল্যান্ড ও উত্তর আয়ারল্যান্ডে ইতিমধ্যে একটি করে মাত্র বাহিনী রয়েছে।




