ককরোচ জনতা পার্টির সঙ্গে পাকিস্তানের যোগসূত্রের অভিযোগ বিজেপি মন্ত্রীর, প্রমাণ চাইল কংগ্রেস

ভারতের ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) বিরুদ্ধে বিদেশ থেকে অর্থ পাওয়া এবং পাকিস্তানের সঙ্গে যোগসূত্র থাকার গুরুতর অভিযোগ তুলেছেন দেশটির কেন্দ্রীয় সরকারের মন্ত্রী জিতেন্দ্র সিং। গত বুধবার (৪ নভেম্বর) বেঙ্গালুরুতে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এই অভিযোগ তোলেন।
জিতেন্দ্র সিং বলেন, ককরোচ পার্টির প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে এবং দলটির প্রধান কৌশলপ্রণেতা আশুতোষ রাঙ্কারের সঙ্গে বিদেশি অর্থদাতাদের যোগাযোগের অকাট্য প্রমাণ রয়েছে। তাঁর দাবি, অননুমোদিত উৎস এবং দেশ-বিদেশের ভারতবিরোধী বিভিন্ন সংগঠন তাদের পেছনে অর্থ ঢালছে।
মন্ত্রীর অভিযোগ, অভিজিৎ দীপকে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক দাতাদের কাছ থেকে অর্থ নিচ্ছেন, আর আশুতোষ রাঙ্কাকে সরাসরি টাকা দিচ্ছেন পাকিস্তানি রাজনীতিকেরা। বিদেশি তহবিলে চলা কিছু এনজিও এবং ‘ডিপ স্টেট’ চক্রান্তকারীরা এই ন্যারেটিভ তৈরি করছে বলেও তিনি দাবি করেন।
জিতেন্দ্র সিং আরও বলেন, বিদেশ থেকে বেআইনি পথে অর্থ এনে ভারতে অশান্তি তৈরির চেষ্টা করছেন সিজেপির সঙ্গে জড়িত কয়েকজন। এই অভিযোগকে কেন্দ্র করে তীব্র রাজনৈতিক বিতর্ক তৈরি হয়েছে।
বিরোধী দল কংগ্রেস পাল্টা দাবি করেছে, তেমনটি হলে সরকারকে প্রমাণ দেখাতে হবে। দলের মুখপাত্রদের কথায়, সরকারের বিরুদ্ধে কথা বললেই এমন কাহিনি খাড়া করতে চায় সরকার।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভিকে বিজেপির জাতীয় মুখপাত্র তুহিন এ সিনহা বলেন, গত এক মাসে সিজেপির কর্মসূচির লক্ষ্য ছিল উৎসবের মৌসুমে রাজধানীতে বিশৃঙ্খলা তৈরি করা। তাঁর ভাষায়, প্রতিবাদের আড়ালে পরিকল্পিতভাবে অরাজকতার পরিবেশ তৈরির চেষ্টা হয়েছে এবং দলটির কৌশল ছিল সমাজে বিদ্রোহ তৈরি করা, রাজধানীতে অরাজকতা সৃষ্টি করা।
রাজনৈতিক এই উত্তেজনার মধ্যেই সিজেপির দুই মুখপাত্র সৌরভ দাস ও আশুতোষ রাঙ্কাকে গত বৃহস্পতিবার দীর্ঘ সময় জিজ্ঞাসাবাদ করেছে দিল্লি পুলিশের ক্রাইম ব্রাঞ্চ। দিল্লির যন্তরমন্তরে অনুমতি ছাড়া প্রবেশ ও জাতীয় পতাকা উত্তোলনের অভিযোগে হওয়া দুটি এফআইআরের ভিত্তিতে রাজৌরি গার্ডেন অফিসে তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়।
এর আগে গত ২২ অক্টোবর তাদের হাজিরা দেওয়ার নোটিশ পাঠানো হলেও তারা সময় চেয়েছিলেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।



