মাত্র ২০ শতাংশ জনবল নিয়ে চলছে চট্টগ্রাম কাস্টম হাউস আইসিডি, প্রথম প্রান্তিকে রাজস্ব লক্ষ্যের ৬৭ শতাংশ

অনুমোদিত পদের ৮০ শতাংশই শূন্য। মাত্র ২০ শতাংশ জনবল নিয়ে কার্যক্রম পরিচালনা করছে নবগঠিত চট্টগ্রাম কাস্টম হাউস আইসিডি। এতে কার্যক্রমের ব্যাপকতা সামাল দিতে চ্যালেঞ্জের মুখে পড়ছেন কর্মীরা। এই পরিস্থিতিতে চলতি অর্থবছরের প্রথম তিন মাসের রাজস্ব লক্ষ্যমাত্রাও পূরণ করতে পারেনি প্রতিষ্ঠানটি।
চট্টগ্রাম কাস্টম হাউসের অনুমোদিত জনবল ৬৬৪ জন। এর বিপরীতে বর্তমানে কর্মরত আছেন মাত্র ১৩১ জন। পাশাপাশি চট্টগ্রাম কাস্টম হাউস থেকে সংযুক্তিতে কাজ করছেন আরও ৩১ কর্মচারী।
এই হাউসের যুগ্ম কমিশনার সাইদ আহমেদ রুবেল বলেন, কর্মকর্তা পর্যায়েও অনুমোদিত পদের বিপরীতে জনবল কম রয়েছে। তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণির ১৮৬টি পদে নিয়োগের প্রক্রিয়া চলছে। সরকারের চূড়ান্ত অনুমোদন পাওয়া গেলে দ্রুত নিয়োগ কার্যক্রম শুরু করা হবে। তাঁর ভাষায়, ৬৬৪টি অনুমোদিত পদের বিপরীতে মাত্র ১৩১ জন কর্মরত থাকায় কার্যক্রমের ব্যাপকতা সামলানো বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে পড়েছে।
জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) ২০২৫ সালের ৩০ ডিসেম্বর কাস্টম হাউস আইসিডি (বেসরকারি কনটেইনার ডিপো), চট্টগ্রামের কমিশনার নিয়োগ দেয়। এরপর কার্যালয় নির্ধারণ, কর্মকর্তা পদায়নসহ প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি সম্পন্ন করে ২০২৬ সালের আগস্ট থেকে পূর্ণাঙ্গ কার্যক্রম শুরু হয়। বর্তমানে আগ্রাবাদে বিএসটিআইয়ের নতুন ভবনে দপ্তরটির কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে।
নতুন এই কাস্টম হাউস ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রথম তিন মাসে ১ হাজার ৪৮১ কোটি ৯৯ লাখ টাকা রাজস্ব আদায় করেছে। এর মধ্যে গত জুলাই মাসে ১৮১ কোটি ৩৮ লাখ, আগস্টে ৫৩৭ কোটি ৪ লাখ এবং সেপ্টেম্বরে ৭৬২ কোটি ৫৭ লাখ টাকা আদায় হয়েছে। তবে প্রতিষ্ঠানটির লক্ষ্যমাত্রা ছিল ২ হাজার ১৯৮ কোটি টাকা। অর্থাৎ প্রথম প্রান্তিকে লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে ৬৭ দশমিক ৪২ শতাংশ রাজস্ব আদায় হয়েছে।
যুগ্ম কমিশনার সাইদ আহমেদ রুবেল বলেন, এই কাস্টম হাউস প্রতি মাসে প্রায় ৫০০ কোটি টাকা রাজস্ব আদায় করছে। প্রতি মাসে যে হারে রাজস্ব আদায় হচ্ছে, এই ধারা অব্যাহত থাকলে প্রথম অর্থবছরেই রাজস্ব আদায় ৭ হাজার কোটি টাকা ছাড়িয়ে যেতে পারে।
হাউস সূত্র জানিয়েছে, জনবলসংকটের কারণে জটিলতা হলেও কিছু কাজে অগ্রগতি হয়েছে। এই কাস্টম হাউসের মাধ্যমে রপ্তানি-আমদানি পণ্যের শুল্কায়নে আগে প্রায় তিন দিন লাগলেও এখন তা এক দিনের মধ্যে সম্পন্ন করা হচ্ছে।
আমদানি পণ্যের শুল্কায়নের জন্য দাখিল করা বিল অব এন্ট্রির সংখ্যা প্রথম তিন মাসে বেড়েছে। জুলাইয়ে ১৪৩টি বিল অব এন্ট্রি দাখিল হলেও আগস্টে তা বেড়ে দাঁড়ায় ৪ হাজার ৫১৮টিতে, সেপ্টেম্বরে দাখিল করা হয় ৫ হাজার ৭৮৭টি। অন্যদিকে রপ্তানি পণ্যের বিল অব এক্সপোর্টের সংখ্যা মাসভিত্তিক কমেছে—জুলাইয়ে ১ লাখ ৬০ হাজার ৮৫৩টি, আগস্টে ১ লাখ ৪৮ হাজার ৯১টি এবং সেপ্টেম্বরে ১ লাখ ৩১ হাজার ৩৮০টি বিল অব এক্সপোর্ট দাখিল হয়।
চট্টগ্রামের বেসরকারি আইসিডিগুলোতে জাহাজে পরিবহনের আগে রপ্তানি পণ্য কনটেইনারে বোঝাই করা হয়। দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে তৈরি পোশাকসহ বিভিন্ন রপ্তানি পণ্য কাভার্ড ভ্যান ও ট্রাকযোগে বেসরকারি ডিপোতে আনা হয়। সেগুলো কনটেইনারে বোঝাইয়ের পর জাহাজের শিডিউল অনুযায়ী ইউরোপ-আমেরিকাসহ বিভিন্ন গন্তব্যে রপ্তানির জন্য পৌঁছানো হয়।
এসব পণ্যের শুল্কায়ন আগে চট্টগ্রাম কাস্টম হাউসের মাধ্যমে সম্পন্ন হতো। নতুন এই আইসিডি কাস্টম হাউস চালুর পর এই কার্যক্রম এই দপ্তরের অধীনে এসেছে। এই কাস্টম হাউসের অধীনে চট্টগ্রামের ২২টি বেসরকারি আইসিডি রয়েছে। চট্টগ্রাম বন্দর দিয়ে আমদানি হওয়া এনবিআর নির্ধারিত ৬৫ ধরনের আমদানি পণ্য ডেলিভারি দেওয়া হয় এসব আইসিডি থেকে; যা চট্টগ্রাম বন্দর দিয়ে আসা আমদানি পণ্যের প্রায় ২৫ শতাংশ।
বাংলাদেশ ইনল্যান্ড কনটেইনার ডিপোস অ্যাসোসিয়েশনের (বিকডা) সেক্রেটারি জেনারেল রুহুল আমিন শিকদার বলেন, কাস্টম হাউস আইসিডির কার্যক্রম শুরুর পর রপ্তানি পণ্যের শুল্কায়নে ইতিবাচক গতিশীলতা এসেছে, যা ব্যবসায়ীদের জন্য অত্যন্ত ইতিবাচক। তবে তিনি বলেন, কার্যক্রম আরও দ্রুত ও ঝুঁকিমুক্ত করতে পর্যাপ্ত জনবল প্রয়োজন। তাঁর ভাষায়, যত বেশি জনবল বাড়ানো যাবে, কাস্টমসের ঝামেলা ও ঝুঁকি তত কমবে এবং কার্যক্রম আরও দ্রুত করা সম্ভব হবে।




