চাঁদা না পেয়ে রাজধানীতে কুরিয়ারের কাভার্ড ভ্যানে আগুন, দেড় কোটি টাকার ক্ষতির দাবি এ জে আরের

চাঁদা না পেয়ে রাজধানীর রায়েরবাজার আড়তের সামনে এ জে আর কুরিয়ার সার্ভিসের একটি কাভার্ড ভ্যানে আগুন দেওয়ার ঘটনা ঘটেছে। বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) রাত সাড়ে ৯টার দিকে একদল দুর্বৃত্ত এ ঘটনা ঘটায়। আগুনে গাড়িতে থাকা অধিকাংশ মালামাল ও গুরুত্বপূর্ণ নথিপত্র পুড়ে গেছে।
প্রতিষ্ঠানটির দাবি, এ ঘটনায় প্রাথমিকভাবে এক থেকে দেড় কোটি টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। গ্রাহক, ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী, ব্যাংক, বিমাসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের গুরুত্বপূর্ণ মালামাল ও নথিপত্র পুড়ে গেছে। তবে ব্যাংক ও বিমাসংশ্লিষ্ট নথিপত্রের মূল্যায়ন শেষে ক্ষতির পরিমাণ আরও বাড়তে পারে বলে জানিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।
এ জে আর গ্রুপের এজিএম জয়ন্ত চৌধুরী বলেন, দীর্ঘদিন ধরে একটি শীর্ষস্থানীয় সন্ত্রাসী চক্র প্রতিষ্ঠানটির কাছে চাঁদা দাবি করে আসছিল। চাঁদা না পেয়ে চক্রটি বিভিন্ন সময়ে প্রতিষ্ঠানের কার্যালয় ও যানবাহনে হামলা এবং অগ্নিসংযোগ করেছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
জয়ন্ত চৌধুরী বলেন, এর ধারাবাহিকতায় নারায়ণগঞ্জে প্রতিষ্ঠানটির কার্যালয়ে আগুন দেওয়া হয়। এরপর শাহবাগ ও রায়েরবাজারে প্রতিষ্ঠানের গাড়িতে অগ্নিসংযোগ করা হয়েছে। মিরপুরে পেট্রলবোমা ছুড়ে এক কর্মীকে হত্যার উদ্দেশ্যে তাঁর শরীরে আগুন দেওয়ারও চেষ্টা করা হয় বলে তিনি জানান।
এর আগে গত ২০ অক্টোবর রাজধানীর হাজারীবাগে এ জে আর পার্সেল অ্যান্ড কুরিয়ার সার্ভিস লিমিটেডের একটি ওয়্যারহাউসে হামলা, ভাঙচুর ও প্রায় ৩১ লাখ টাকা মূল্যের সরঞ্জাম লুটের অভিযোগ ওঠে ৭০ থেকে ৮০ জনের একটি দলের বিরুদ্ধে। প্রতিষ্ঠানটির পক্ষ থেকে ডাকাতির অভিযোগে মামলা করতে চাওয়া হলেও পুলিশ জানিয়েছিল, ঘটনার মূল উদ্দেশ্য ছিল চাঁদাবাজি। এ কারণে চাঁদাবাজির ঘটনায় মামলা নেওয়ার কথা জানায় পুলিশ।
ওই দিন সন্ধ্যা ৬টা ৪৪ মিনিটে মেন্ডি ডেন্টাল কলেজ রোডে সিকদার মেডিকেল কলেজের পেছনে প্রতিষ্ঠানটির সেন্ট্রাল সর্টিং সেন্টারের ওয়্যারহাউসে এ ঘটনা ঘটে। পরদিন সকালে প্রতিষ্ঠানটির মানবসম্পদ ও প্রশাসন বিভাগের ব্যবস্থাপক আফসার উদ্দিন হাজারীবাগ থানায় অজ্ঞাতনামা ৭০ থেকে ৮০ জনের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দেন। পরে মামলা করায় মোবাইল ফোনে অজ্ঞাত ব্যক্তি তাঁকে হত্যার হুমকি দেয় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়।
মামলার অভিযোগে বলা হয়, ঘটনার দিন মুখে মাস্ক ও মাথায় হেলমেট পরা ব্যক্তিরা ৩৫ থেকে ৪০টি মোটরসাইকেলে করে ওয়্যারহাউসের পশ্চিম গেটে আসেন। তাঁদের মধ্যে ৪০ থেকে ৫০ জন সিসিটিভি ক্যামেরা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করেন, বাকিরা বাইরে অবস্থান নেন। হামলাকারীদের আট থেকে নয়জনের হাতে আগ্নেয়াস্ত্র এবং দুই-তিনজনের হাতে শটগানসদৃশ অস্ত্র ছিল বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়।
প্রতিষ্ঠানটির দাবি, হামলাকারীরা একটি সিসকো কোর ডিভাইস, একটি রাউটার, বিভিন্ন সক্ষমতার ৯টি ডাহুয়া এনভিআর, ১০ টেরাবাইটের ৩৮টি হার্ডডিস্ক, একটি সার্ভার র্যাক, ৪০টি ক্যামেরা, আটটি সিপিইউ, আটটি মনিটর ও একটি ল্যাপটপ নিয়ে যান। এসব সরঞ্জামের আনুমানিক বাজারমূল্য ৩১ লাখ টাকা।
লিখিত অভিযোগে আরও বলা হয়, গত ১৮ অক্টোবর রাত সাড়ে ১০টার দিকে দুই ব্যক্তি মোটরসাইকেলে করে ওয়্যারহাউসে এসে অপারেশন ম্যানেজার নিজাম উদ্দিনের খোঁজ করেন। তাঁকে না পেয়ে নিরাপত্তাকর্মীদের ভয়ভীতি দেখিয়ে চলে যান তাঁরা। এ ঘটনার সিসিটিভি ফুটেজ রয়েছে বলে দাবি প্রতিষ্ঠানটির।
অভিযোগে আরও বলা হয়, পরে জুয়েল নামের এক ব্যক্তি প্রতিষ্ঠানটির আরেকটি কার্যালয়ে হামলা, ডাকাতি ও দখলের পরিকল্পনার কথা জানান। ঘটনার পর সাইফুল নামের এক ব্যক্তি ফোন করে ডাকাতির ঘটনা ধামাচাপা দিতে হুমকি দিচ্ছেন বলেও অভিযোগ করেন আফসার উদ্দিন। এর আগেও ‘ক্যাপ্টেন ইমন’-এর নামে প্রতিষ্ঠানটির কাছে চাঁদা দাবি করা হয়েছিল বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়।
জয়ন্ত চৌধুরী বলেন, প্রতিষ্ঠানটির বেশির ভাগ কর্মী নিম্ন আয়ের মানুষ। এ ঘটনার কারণে তাঁদের কর্মসংস্থান অনিশ্চিত হয়ে পড়তে পারে। কর্মীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং প্রতিষ্ঠানের স্বাভাবিক কার্যক্রম চালু রাখতে সরকারের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেন তিনি। একই সঙ্গে হামলা ও নাশকতায় জড়িত ব্যক্তিদের দ্রুত আইনের আওতায় আনার দাবি জানান।




