…English
বড়লেখা টুডে লোগো
সব বড় ঘটনার খবর — নিজের ভাষায়, প্রতি ঘণ্টায়
প্রচ্ছদ › জাতীয় › খবর
জাতীয়

সাবেক বিমান কর্মকর্তা তাহসিফের মৃত্যু: দ্বীপ ও দিশাকে মুখোমুখি জিজ্ঞাসাবাদ, তৃতীয় দফায় রিমান্ডে দ্বীপ

নিজস্ব প্রতিবেদক
সাবেক বিমান কর্মকর্তা তাহসিফের মৃত্যু: দ্বীপ ও দিশাকে মুখোমুখি জিজ্ঞাসাবাদ, তৃতীয় দফায় রিমান্ডে দ্বীপ
ছবি: সংগৃহীত

বিমানবাহিনীর সাবেক ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট কে এম তাহসিফ সাউরির (২৮) রহস্যজনক মৃত্যুর ঘটনার তদন্তে নতুন নতুন তথ্য সামনে আসছে। তাঁর দুই ঘনিষ্ঠ বন্ধু আহমেদ শাহরিয়ার রেজা দ্বীপ এবং বান্ধবী জেরিকা তাসনীম দিশাকে মুখোমুখি জিজ্ঞাসাবাদে নতুন সব তথ্য বেরিয়ে আসছে বলে জানিয়েছেন তদন্ত সংশ্লিষ্টরা। তদন্তের স্বার্থে এই মুহূর্তে বিস্তারিত জানাতে অপারগতা প্রকাশ করেছেন তাঁরা।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা নৌ পুলিশের পরিদর্শক ফিরোজ উদ্দিন বলেন, ‘ঘটনার অনেক চাঞ্চল্যকর তথ্য দিচ্ছেন রিমান্ডে থাকা দ্বীপ ও নিহতের বান্ধবী দিশা। নিহত বিমানবাহিনীর কর্মকর্তার বাসা থেকে বের হওয়া, বারে যাওয়া, এরপর হেরোইন খুঁজতে মাজার বস্তিতে যাওয়া। এছাড়া সেই রাতের আরও কিছু তথ্য দিয়েছেন তাঁরা। যেসব তথ্য যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে।’

এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘কীভাবে তিনি (তাহসিফ) নদীতে পড়লেন, সে বিষয়ে এখনো পরিষ্কার ধারণা পাওয়া যায়নি। এ বিষয়টি নিশ্চিত হওয়ার জন্য রিমান্ডে থাকা আসামিদের তথ্য এবং তথ্যপ্রযুক্তির সহযোগিতা নিয়ে তদন্ত কার্যক্রম চলছে। এর বাইরে এখনই এ বিষয়ে বিস্তারিত বলা সম্ভব নয়।’

তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, নৌ-পুলিশ দ্বীপ ও দিশার দেওয়া তথ্যের গরমিল দূর করতে এবং ঘটনার আসল রহস্য উদ্‌ঘাটনে তাদের দুজনকে মুখোমুখি করে জিজ্ঞাসাবাদ করছে। তবে দ্বীপের দেওয়া বক্তব্যের সঙ্গে দিশার বক্তব্যের বড় ধরনের অসংগতি পাওয়ায় তদন্ত সংস্থা গত ২ ও ৩ নভেম্বর দুই আসামিকে মুখোমুখি বসিয়ে নিবিড়ভাবে জিজ্ঞাসাবাদ করে।

নিখোঁজ হওয়ার আগের রাতে তাহসিফকে দ্বীপ ও দিশার সঙ্গে একটি পানশালায় দেখা গিয়েছিল, যার সিসিটিভি ফুটেজ তদন্তকারীদের হাতে এসেছে। নিখোঁজ হওয়ার আগে দ্বীপের সঙ্গে তাহসিফ প্রায় সাড়ে পাঁচ ঘণ্টা সময় কাটিয়েছিলেন। তবে সেখানে তাঁদের মধ্যে কোনো ঘটনা ঘটেছিল কি না, এ বিষয়ে বিস্তারিত বলেননি দ্বীপ।

জিজ্ঞাসাবাদে দ্বীপ দাবি করেছেন, ঘটনার রাতে মাজার বস্তি এলাকায় তাহসিফ ও তাঁকে কিছু লোক ধাওয়া করে। তাঁরা পুলিশের সদস্য ছিলেন এবং ধাওয়ার মুখে তাহসিফ নদীতে ঝাঁপ দেন, দ্বীপ পালিয়ে যান। ধাওয়াকারীরা মাদক কারবারি নাকি অন্য কেউ, তা খতিয়ে দেখছেন ঘটনার তদন্তকারীরা।

দ্বীপ জিজ্ঞাসাবাদে আরও দাবি করেছেন, দিশার ওপর অভিমান করেই ঘটনার রাতে তাহসিফ টঙ্গীর মাজার বস্তি এলাকার দিকে গিয়েছিলেন। মাজার বস্তি এলাকায় পুলিশের পোশাক পরিহিত দুজনকে দেখে তাঁরা ভয় পেয়ে দুই দিকে দৌড় দেন। পুলিশ ধাওয়া দেওয়ায় নদীতে ঝাঁপ দিয়ে তাহসিফের মৃত্যু হয়েছে কি না, সে বিষয়ে তদন্তকারীরা এখনো নিশ্চিত হতে পারেননি।

অন্যদিকে, দিশা জিজ্ঞাসাবাদে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নের উত্তর কৌশলে এড়িয়ে গেছেন বা নীরব থেকেছেন বলে জানিয়েছেন তদন্ত সংশ্লিষ্টরা। কোন প্রশ্নের বিস্তারিত তিনি বলেননি।

তাহসিফের বান্ধবী দিশাকে কাফরুল থেকে গ্রেপ্তার করার পর ১ নভেম্বর আদালত তাঁর চার দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। ৪ নভেম্বর রাষ্ট্রপক্ষের আবেদনে আদালত দিশার দ্বিতীয় দফায় আরও তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন।

এদিকে, বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) তৃতীয়বারের মতো দ্বীপকে তিন দিনের রিমান্ডে নিয়েছে ঘটনার তদন্ত সংস্থা নৌ পুলিশ। রিমান্ড আবেদনে দ্বীপকে পাঁচটি কারণে পুনরায় জিজ্ঞাসাবাদ প্রয়োজন বলে জানানো হয়। সেগুলো হলো—কেন এবং কী কারণে তাহসিফকে হত্যা করা হয়েছে (পূর্বশত্রুতা, আর্থিক লেনদেন, রাজনৈতিক কিংবা ব্যক্তিগত কোন্দল) তা নিশ্চিত হওয়া; হত্যায় ব্যবহৃত আলামত উদ্ধার করা; মূল পরিকল্পনাকারী ও সহযোগীদের তথ্য সংগ্রহ করা; হত্যার পেছনে অন্য মূল পরিকল্পনাকারী, ভাড়াটে খুনি বা সহায়তাকারী জড়িত আছে কি না তা জানা; এবং ঘটনার সাক্ষী ও সিসিটিভি ফুটেজের তথ্যের সঙ্গে আসামির জবানবন্দি মুখোমুখি জিজ্ঞাসাবাদের মাধ্যমে মিলিয়ে দেখা ও অপরাধের ধরন ও প্রক্রিয়া সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহ করা।

এর আগে প্রথম দফায় চার দিনের রিমান্ডে নেওয়া হয় দ্বীপকে। সেই রিমান্ড শেষে ৩ নভেম্বর পুলিশ তাঁকে আবার আদালতে হাজির করে তিন দিনের দ্বিতীয় দফা রিমান্ডে নেয়।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, তদন্তকারীরা বর্তমানে তাহসিফ, দ্বীপ ও দিশার মোবাইল কললিস্ট (সিডিআর), সিসিটিভি ফুটেজ এবং ডিজিটাল ডিভাইসগুলো বিশ্লেষণ করছেন। দিশাকে ওই রাতে বাসায় নামিয়ে দেওয়ার পর তাহসিফের ঠিক কী ঘটেছিল এবং তাঁর সঙ্গে থাকা মোটরসাইকেলটি কীভাবে টঙ্গীর বস্তি এলাকায় গেল, তা উদ্‌ঘাটন করাই এখন পুলিশের প্রধান লক্ষ্য।

গত ২৮ অক্টোবর বিকেলে ঢাকার উত্তরখান থানার তুরাগ নদের রাজাবাড়ী ঘাট সংলগ্ন এলাকা থেকে তাহসিফ সাউরির ভাসমান মরদেহ উদ্ধার করে টঙ্গী নৌ-পুলিশ। নিখোঁজ হওয়ার একদিন পর তাঁর মরদেহ মেলে। ৩১ অক্টোবর তাহসিফের বাবা কে এম এনায়েতুল করিম বাদী হয়ে উত্তরখান থানায় অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের আসামি করে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলায় দ্বীপ ও দিশাকে গ্রেপ্তার করে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।

জাতীয় বিভাগের আরও খবর

গাজীপুরের কাপাসিয়ায় নিজের দিনমজুরির টাকায় তিন সড়কে ১১টি যাত্রীছাউনি গড়লেন বাবুল শেখ
জাতীয়

গাজীপুরের কাপাসিয়ায় নিজের দিনমজুরির টাকায় তিন সড়কে ১১টি যাত্রীছাউনি গড়লেন বাবুল শেখ

গাজীপুরের কাপাসিয়া উপজেলার দিনমজুর বাবুল শেখ নিজের টাকায় তিনটি সড়কের চার থেকে পাঁচ কিলোমিটারের মধ্যে ১১টি যাত্রীছাউনি নির্মাণ করেছেন। বয়স পঞ্চাশের…

চট্টগ্রাম বন্দরে পড়ে থাকা ১২৬ টন আপেল ও আদা নিলামে তুলছে কাস্টম হাউস, সংরক্ষিত মূল্য ১ কোটি ৭৯ লাখ টাকা
জাতীয়

চট্টগ্রাম বন্দরে পড়ে থাকা ১২৬ টন আপেল ও আদা নিলামে তুলছে কাস্টম হাউস, সংরক্ষিত মূল্য ১ কোটি ৭৯ লাখ টাকা

দীর্ঘদিন চট্টগ্রাম বন্দরে পড়ে থাকা ১২৬ টন তাজা আপেল ও আদা নিলামে বিক্রির উদ্যোগ নিয়েছে চট্টগ্রাম কাস্টম হাউস। পাঁচটি কনটেইনারে থাকা এসব পণ্যের সংরক্…

জাতীয়

বাঁশখালীর চাম্বলে সড়কের ওপর বাস উল্টে বন্ধ আনোয়ারা-বাঁশখালী-চকরিয়া সড়ক, হতাহতের খবর নেই

চট্টগ্রামের বাঁশখালী উপজেলার চাম্বল এলাকায় সড়কের ওপর একটি বাস উল্টে গেছে। এতে আনোয়ারা-বাঁশখালী-চকরিয়া (এবিসি) সড়কে যান চলাচল বন্ধ হয়ে গেছে।…

আশুলিয়ার জিরাবোতে বেতনে সংসার চলছে না পোশাকশ্রমিকদের: ‘দুই মাস হইছে, মাছের গন্ধটাই ভুইল্যা গেছি’
জাতীয়

আশুলিয়ার জিরাবোতে বেতনে সংসার চলছে না পোশাকশ্রমিকদের: ‘দুই মাস হইছে, মাছের গন্ধটাই ভুইল্যা গেছি’

ঢাকার আশুলিয়ার জিরাবো বাজারের পাশের ছোট একটি কলোনিতে দুই পাশে ২০টির মতো ছোট ছোট ঘর রয়েছে, যার সবগুলোতেই থাকেন ওই এলাকায় কর্মরত পোশাকশ্রমিকরা। কারখা…