মার্কিন হামলার পরও ‘উদীয়মান’ মহাকাশ শক্তি হয়ে উঠছে ইরান: পেন্টাগনের প্রতিবেদন

ইরানের গুরুত্বপূর্ণ মহাকাশ-সংশ্লিষ্ট স্থাপনাগুলোতে মার্কিন হামলা হলেও দেশটি ‘উদীয়মান’ মহাকাশ শক্তি হয়ে উঠছে বলে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা গোয়েন্দা সংস্থার (ডিআইএ) এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে। পেন্টাগনের এই প্রতিবেদন অনুযায়ী, মধ্যপ্রাচ্যে আমেরিকার সামরিক তৎপরতাকে চ্যালেঞ্জ জানাতে সক্ষম অবস্থানে পৌঁছাচ্ছে ইরান।
প্রতিবেদনে বলা হয়, ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’ চলাকালে ইরান ভূমি-ভিত্তিক জ্যামিং ব্যবস্থা ব্যবহার করে স্যাটেলাইটভিত্তিক জিপিএস সংকেত ব্যাহত করেছিল। ডিআইএর ভাষ্যে, এটি ছিল যুক্তরাষ্ট্রের মহাকাশ সক্ষমতার বিরুদ্ধে ইরানের আক্রমণাত্মক পদক্ষেপ।
ডিআইএ আরও জানিয়েছে, সামরিক সক্ষমতা জোরদার, অর্থনৈতিক উন্নয়ন এবং জাতীয় মর্যাদা বাড়ানোর লক্ষ্যে তেহরান তার সামরিক ও বেসামরিক—দুই ধরনের মহাকাশ কর্মসূচিই সম্প্রসারিত করছে।
যুক্তরাষ্ট্রের এন্টারপ্রাইজ ইনস্টিটিউটের তথ্য অনুযায়ী, ইরানের বর্তমানে প্রায় এক ডজন সক্রিয় কৃত্রিম উপগ্রহ রয়েছে। প্রতিবেদনের তথ্যে আরও বলা হয়েছে, গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ ও লক্ষ্যবস্তু নির্ধারণের ক্ষমতা বাড়াতে চীন ও রাশিয়া থেকে স্যাটেলাইট সহায়তা পাওয়ার কথাও জানা গেছে।
স্পেস ফোর্সেস সেন্ট্রালের কমান্ডার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল টড বেনসন গত মাসে এক ওয়েবিনার ক্লাসে বলেন, মহাকাশ এখন অভিগম্য ও সাশ্রয়ী হয়ে উঠেছে।
যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বিরুদ্ধে ‘মহাকাশ শ্রেষ্ঠত্ব’ অর্জনের দাবি করে এলেও অনেক মার্কিন প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞ সেই দাবি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। আমেরিকান এন্টারপ্রাইজ ইনস্টিটিউটের অ্যারোস্পেস বিশেষজ্ঞ টড হ্যারিসন বলেন, ইরান যদি যুক্তরাষ্ট্রের মহাকাশ সক্ষমতাকে দুর্বল করে দিতে পারে, তবে তাদের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের শ্রেষ্ঠত্ব নেই।
ডিআইএর প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, ইলেকট্রনিক হামলা থেকে নিজেদের নেভিগেশন ও গাইডেন্স ব্যবস্থাকে সুরক্ষিত রাখতে প্রতিরোধী ব্যবস্থা আরও জোরদার করার কাজ করছে ইরান।




