…English
বড়লেখা টুডে লোগো
সব বড় ঘটনার খবর — নিজের ভাষায়, প্রতি ঘণ্টায়
প্রচ্ছদ › রাজনীতি › খবর
রাজনীতি

সরকার বদলালেও থামছে না রাজনৈতিক সহিংসতা: জানুয়ারি–সেপ্টেম্বরে ৪৬৭ ঘটনায় ৯৪ জনের মৃত্যু, জানাল আসক

নিজস্ব প্রতিবেদক

গত ১৮ অক্টোবর রাতে নারায়ণগঞ্জ জেলার পাইস্কায় কয়েকজন ব্যক্তি রিপন মিয়াকে ধাওয়া করে। একপর্যায়ে ধারালো অস্ত্র দিয়ে তাঁর ওপর হামলা চালানো হয়। পরিবারের সদস্যরা তাঁকে হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

রিপন ছিলেন ক্ষমতাসীন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) যুব সংগঠন যুবদলের স্থানীয় নেতা। স্থানীয় বিএনপি কর্মীদের ভাষ্য, একটি ধর্মীয় অনুষ্ঠানের অতিথি তালিকায় কারা থাকবেন, তা নিয়ে সম্প্রতি দুই পক্ষের বিরোধ আরও তীব্র হয়ে উঠেছিল।

রিপনের মেয়ে শীলা গণমাধ্যমকে বলেন, কয়েকজন লোক তাঁর বাবাকে তাড়া করে এবং কুপিয়ে হত্যা করে। স্থানীয় বিএনপি সভাপতি এই হত্যাকাণ্ডকে রাজনৈতিক প্রভাব বিস্তার ও আধিপত্যের লড়াইয়ের সঙ্গে সম্পর্কিত বলে উল্লেখ করেছেন।

চলতি বছরের ২৮ ফেব্রুয়ারি পশ্চিমাঞ্চলের জেলা চুয়াডাঙ্গায় বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীর সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষে দুই ভাই নিহত হন। পুলিশ জানায়, রমজানের ইফতারের পর একটি তর্কবিতর্ক সহিংসতায় রূপ নেয়। কয়েক ঘণ্টা পর হাফিজুর রহমান মারা যান। তাঁর ভাই, স্থানীয় জামায়াত নেতা মফিজুর রহমান গত ১০ মার্চ ঢাকার একটি হাসপাতালে মারা যান।

এই সহিংসতার জন্য বিএনপি ও জামায়াত একে অপরকে দোষারোপ করে। পরিবার একটি হত্যা মামলা করার পর পুলিশ স্থানীয় এক বিএনপি নেতা ও দলটির স্বেচ্ছাসেবক শাখার সাবেক এক নেতাসহ তিন সন্দেহভাজনকে গ্রেপ্তার করে। বিএনপি ক্ষমতায় ফেরার দুই সপ্তাহেরও কম সময়ের মধ্যে এই সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।

মানবাধিকার সংস্থা আইন ও সালিশ কেন্দ্র (আসক) চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত রাজনৈতিক সহিংসতার ৪৬৭টি ঘটনায় ৯৪ জনের মৃত্যু এবং ৩ হাজার ৫৮৭ জন আহত হওয়ার তথ্য নথিবদ্ধ করেছে।

এর মধ্যে ১১২টি সংঘর্ষকে ‘বিএনপি বনাম বিএনপি’ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। এসব সংঘর্ষে ১৮ জন নিহত এবং ১ হাজার ২১৫ জন আহত হয়েছেন। পরিসংখ্যানগুলোতে অন্তর্বর্তী সরকার এবং নির্বাচিত সরকার—উভয় সময়ের ঘটনাই অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। গত ১৭ ফেব্রুয়ারি প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন বিএনপিপ্রধান তারেক রহমান।

সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বাংলাদেশে ব্যাপক রাজনৈতিক পরিবর্তন ঘটেছে। দীর্ঘ ১৫ বছরের শাসনের পর ২০২৪ সালে জুলাই গণঅভ্যুত্থানে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ক্ষমতাচ্যুত হন। এরপর মূলত অরাজনৈতিক ব্যক্তিদের নেতৃত্বে একটি অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব গ্রহণ করে। পরবর্তী সময়ে জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয় এবং একটি রাজনৈতিক সরকার গঠিত হয়। কিন্তু এত পরিবর্তনের মধ্যেও স্থানীয় পর্যায়ে কার নিয়ন্ত্রণ থাকবে, সেই লড়াইয়ে প্রাণহানি এখনো অব্যাহত রয়েছে।

২০০২ সাল পর্যন্ত পেছনের রেকর্ড বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, প্রতিদ্বন্দ্বী রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে সংঘর্ষ, ক্ষমতাসীন দলের অভ্যন্তরীণ কোন্দল এবং নির্বাচনকেন্দ্রিক সহিংসতা নিয়মিত ঘটেছে। একটি দলীয় পদ, একটি ব্যবসা, একখণ্ড জমি, এমনকি কোনো সামাজিক অনুষ্ঠানের অতিথি তালিকাও একটি এলাকার ওপর কার কর্তৃত্ব থাকবে, তা নিয়ে বিরোধের কেন্দ্রে পরিণত হতে পারে।

রাষ্ট্রবিজ্ঞানী রওনক জাহানের ২০১৪ সালের গবেষণাপত্র ‘পলিটিক্যাল পার্টিজ ইন বাংলাদেশ’-এ স্থান পাওয়া আসকের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০০২ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত বিএনপির নেতৃত্বাধীন সরকারের সময়ে আসক বিএনপির অভ্যন্তরীণ কোন্দলের ২৮৪টি ঘটনা এবং ৫৫ জনের মৃত্যু নথিবদ্ধ করেছিল। একই সময়ে আওয়ামী লীগের অভ্যন্তরীণ কোন্দলে ৩৭ জনের মৃত্যু হয়। ওই সময়ে বিএনপি ও জামায়াতের মধ্যে ১৩৪টি সংঘর্ষে আটজন এবং আওয়ামী লীগ ও জামায়াতের মধ্যে ৪২টি সংঘর্ষে সাতজন নিহত হন।

২০০৭–২০০৮ সালের সামরিক বাহিনী-সমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময়ে নিবন্ধিত দলীয় সংঘর্ষের হার কমে আসে। বিএনপির অন্তর্কোন্দলে মাত্র আটটি সংঘর্ষে দুজনের মৃত্যু হয় এবং ওই সময়কালে রাজনৈতিক সহিংসতায় মোট নয়জনের প্রাণহানি ঘটে, যেখানে ২০০২–২০০৬ মেয়াদে কেবল আওয়ামী লীগ ও বিএনপির সংঘর্ষেই ১১৮ জনের মৃত্যু হয়েছিল। তবে হিউম্যান রাইটস ওয়াচ ওই সময়ে বেআইনি গ্রেপ্তার, নির্যাতন এবং হেফাজতে মৃত্যুর ঘটনা নথিবদ্ধ করে।

২০০৯ সালে আওয়ামী লীগ পুনরায় ক্ষমতায় ফেরার পর দলটির অভ্যন্তরীণ সহিংসতা আবারও বৃদ্ধি পায়। ২০০৯ থেকে ২০১২ সালের মধ্যে আওয়ামী লীগের ৭৯৯টি অভ্যন্তরীণ কোন্দলের ঘটনায় ৯৭ জন নিহত হন। একই সময়ে বিএনপির ক্ষেত্রে সংঘর্ষের সংখ্যা ছিল ২২৯টি এবং মৃত্যুর সংখ্যা ২১।

২০১৩ সালে আসক রাজনৈতিক সহিংসতায় ৫০৭ জনের মৃত্যুর তথ্য নথিবদ্ধ করে। সংস্থাটির বার্ষিক প্রতিবেদনে হরতালজনিত সহিংসতায় ১৮৫ জনের মৃত্যু এবং ২৫ নভেম্বর থেকে শুরু হওয়া অবরোধ কর্মসূচিতে আরও ৮৫ জনের মৃত্যুর কথা উল্লেখ করা হয়। ওই বছর মোট ৫০৭ জন মারা যাওয়ার মধ্যে ৯৬ জনই নিহত হয়েছেন জামায়াত বা শিবির জড়িত থাকা সংঘাতগুলোতে।

স্থানীয় নির্বাচনগুলো ছিল প্রাণহানির আরেকটি নিয়মিত উৎস। ২০১৬ সালে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন ঘিরে সহিংসতায় ১৪৭ জনের মৃত্যুর তথ্য নথিবদ্ধ করে আসক; সেই বছর রাজনৈতিক সহিংসতায় রেকর্ড করা মোট মৃত্যু ছিল ১৭৭। ২০২১ সালে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন ঘিরে সৃষ্ট সহিংসতায় সারাদেশে নথিবদ্ধ ১৫৭ জনের মৃত্যুর মধ্যে ১১৩ জন প্রাণ হারান।

সহিংসতার পেছনের কারণ নিয়ে ব্র্যাক ইনস্টিটিউট অব গভর্নেন্স অ্যান্ড ডেভেলপমেন্টের একটি গবেষণায় ২০০৮ থেকে ২০১৩ সালের মধ্যে প্রতিবেদনভুক্ত রাজনৈতিক সহিংসতা পর্যালোচনা করা হয়। ২০০৮–২০১২ সালের কারণ বিশ্লেষণ করে গবেষণাটিতে দেখা যায়, দলগুলোর অভ্যন্তরে আধিপত্য বিস্তারের লড়াই ছিল সবচেয়ে বড় ক্যাটাগরি। এ ছাড়া ঠিকাদারি, সম্পত্তি, জমি ও চাকরিসংক্রান্ত বিরোধও ছিল সহিংসতার অন্যতম কারণ।

রাজনীতি বিভাগের আরও খবর

শ্রমিকের ছদ্মবেশে নাশকতার অভিযোগ তুলে গাজীপুরের শ্রীপুরে ছাত্রদলের বিক্ষোভ মিছিল
রাজনীতি

শ্রমিকের ছদ্মবেশে নাশকতার অভিযোগ তুলে গাজীপুরের শ্রীপুরে ছাত্রদলের বিক্ষোভ মিছিল

পোশাকশ্রমিকদের ন্যূনতম ৩০ হাজার টাকা মজুরির দাবিতে চলমান আন্দোলনের সুযোগ নিয়ে ‘ছদ্মবেশে’ পরিকল্পিত নাশকতা, ভাঙচুর ও নৈরাজ্য সৃষ্টির প্রতিবাদে গাজীপুর…

পার্বত্য চট্টগ্রামে অ-উপজাতীয়দের রেশন কার্ডে অনিয়ম দূর করে প্রকৃত উপকারভোগীদের কার্ড দেওয়ার সুপারিশ সংসদীয় কমিটির
রাজনীতি

পার্বত্য চট্টগ্রামে অ-উপজাতীয়দের রেশন কার্ডে অনিয়ম দূর করে প্রকৃত উপকারভোগীদের কার্ড দেওয়ার সুপারিশ সংসদীয় কমিটির

পার্বত্য চট্টগ্রামে প্রত্যাগত শরণার্থী ও গুচ্ছগ্রামে বসবাসরত অ-উপজাতীয়দের মধ্যে রেশন কার্ড বিতরণে অনিয়ম দূর করে প্রকৃত উপকারভোগীদের কার্ড দেওয়ার সু…

সরকার বদলালেও মানুষের জীবনে মৌলিক পরিবর্তন আসেনি: স্মৃতিসৌধে গণসংহতি আন্দোলনের রুবেল
রাজনীতি

সরকার বদলালেও মানুষের জীবনে মৌলিক পরিবর্তন আসেনি: স্মৃতিসৌধে গণসংহতি আন্দোলনের রুবেল

গণসংহতি আন্দোলনের নির্বাহী সমন্বয়কারী আবুল হাসান রুবেল বলেছেন, নির্বাচিত সরকার ক্ষমতায় আসার পর কিছু কিছু ক্ষেত্রে পরিবর্তন দেখা গেলেও মানুষের জীবনে …

রাজনীতি

শিল্পকারখানায় অস্থিরতার পেছনে পলাতক আওয়ামী লীগের ইন্ধন রয়েছে: চট্টগ্রামে রিজভী

বিএনপি নেতা রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, শ্রমিকদের ন্যায্য দাবির বিষয়ে সরকার আশ্বাস দেওয়ার পর প্রকৃত শ্রমিকদের বড় অংশ আন্দোলন থেকে সরে গেছে। এখন একটি প…