খালি পেটে ও খাবারের পর রক্তে শর্করা কত হলে স্বাভাবিক, কত হলে ডায়াবেটিস—জানালেন বিশেষজ্ঞ
সারা দিন আমাদের দেহে রক্তে শর্করার মাত্রা একই থাকে না। খাদ্যাভ্যাস, শারীরিক পরিশ্রম, ঘুমের ধরন ও মানসিক চাপসহ বিভিন্ন কারণে এটি কমবেশি হতে পারে।
বর্তমানে বিশ্বে ডায়াবেটিস ও প্রি-ডায়াবেটিসে আক্রান্তের সংখ্যা বাড়ছে। এর ফলে অনেকেই বাড়িতে গ্লুকোমিটার রেখে নিয়মিত রক্তে শর্করার মাত্রা পরীক্ষা করেন।
এ বিষয়ে ধারণা দিয়েছেন ভারতের কলকাতার ডায়াবেটিস ও মেটাবলিজম রোগ বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক আশিস মিত্র।
রক্তে শর্করার মাত্রা নির্ণয়ে গুরুত্বপূর্ণ দুটি পরীক্ষা হলো ফাস্টিং ব্লাড সুগার ও পোস্ট-প্র্যান্ডিয়াল ব্লাড সুগার। ফাস্টিং পরীক্ষা করতে অন্তত আট ঘণ্টা না খেয়ে থাকতে হয়। এতে খাবার গ্রহণ না করার অবস্থায় শরীর কীভাবে রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা নিয়ন্ত্রণ করে, সে সম্পর্কে ধারণা পাওয়া যায়।
পোস্ট-প্র্যান্ডিয়াল বা খাবারের পরের রক্তে শর্করা পরীক্ষা করা হয় খাওয়ার দুই ঘণ্টা পর। এ পরীক্ষায় খাবার থেকে উৎপন্ন গ্লুকোজ শরীর কতটা কার্যকরভাবে নিয়ন্ত্রণ করতে পারছে, তা বোঝা যায়।
চিকিৎসক আশিস মিত্রের দেওয়া তালিকা অনুযায়ী, খালি পেটে ব্লাড সুগার ১১০-এর নিচে থাকলে তা স্বাভাবিক। ১১০ থেকে ১২৫-এর মধ্যে হলে তা প্রি-ডায়াবেটিস, আর ১২৬ ছুঁয়ে ফেললে তা ডায়াবেটিস।
খাওয়ার পরে, মূলত মধ্যাহ্নভোজের দুই ঘণ্টা পরে পরীক্ষায়, মাত্রা ১৪০-এর নিচে থাকলে তা স্বাভাবিক। ১৪০ থেকে ১৯৯-এর মধ্যে থাকলে তা প্রি-ডায়াবেটিস এবং ২০০-র বেশি থাকলে তা ডায়াবেটিসের সংকেত দেয়।
সুগারের মাত্রার গত তিন মাসের গড়, অর্থাৎ এইচবিএ১সি পরীক্ষায় ৫ দশমিক ৭ শতাংশ স্বাভাবিক, ৫ দশমিক ৭ থেকে ৬ দশমিক ৪ শতাংশ প্রি-ডায়াবেটিস এবং ৬ দশমিক ৫ শতাংশে পৌঁছে গেলে তা ডায়াবেটিস বলে তালিকায় উল্লেখ করা হয়েছে।
ডা. আশিস মিত্রের পরামর্শ, খালি পেটে রক্তে শর্করার মাত্রা ৯০ থেকে ১১০ এবং খাবার খাওয়ার পর ১৪০ থেকে ১৬০-এর মধ্যে রাখার চেষ্টা করা উচিত।
তিনি বলেছেন, যারা বাড়িতে গ্লুকোমিটারে সুগার পরীক্ষা করেন, তাদের শুধু দিনে একবার পরীক্ষা করলেই চলবে না। বিভিন্ন সময়ে পরীক্ষা করে রক্তে শর্করার ওঠানামা পর্যবেক্ষণ করতে হবে।
কারণ হিসেবে তিনি বলেছেন, কোনো কোনো রোগীর ক্ষেত্রে খালি পেটে ও ভরা পেটে সুগারের মাত্রা স্বাভাবিক থাকলেও এইচবিএ১সি ৬ দশমিক ৫ শতাংশের বেশি দেখা গেছে। কেবল মধ্যাহ্নভোজের পর পরীক্ষা করলে সম্পূর্ণ ধারণা পাওয়া যায় না; প্রাতরাশ বা নৈশভোজের পর মাত্রা বেড়ে গেলেও পরীক্ষা না করলে তা জানা যায় না।
তাই প্রতিবার খাবার খাওয়ার দুই ঘণ্টা পর কিংবা ঘুরিয়ে ফিরিয়ে ভোজের পর সুগার মাপা উচিত, কেবল এক বেলা নয়—বলেছেন এই চিকিৎসক।
হাইপোগ্লাইসেমিয়া, অর্থাৎ সুগারের মাত্রা স্বাভাবিকের চেয়ে কম থাকা নিয়েও সতর্ক করেছেন তিনি। তাঁর মতে, সুগার ৭০-এ নেমে গেলে তা হাইপোগ্লাইসেমিয়া, তাই সব সময়ে ৮০-র উপরে রাখা দরকার।



