ল্যাবএইডে মুমূর্ষু রোগীর রক্তের নমুনা ‘উধাও’, তদন্তে তিন সদস্যের কমিটি
রাজধানীর ল্যাবএইড হাসপাতালে কিডনিজনিত রোগে মুমূর্ষু এক রোগীর পরীক্ষার রক্তের নমুনা সংগ্রহের পর তা পরীক্ষাগারে পৌঁছায়নি বলে অভিযোগ উঠেছে। রোগীর নাম সুলতানা বেগম। চিকিৎসক তাঁর বিভিন্ন পরীক্ষার জন্য দ্রুত রক্তের নমুনা সংগ্রহ করতে বলেছিলেন; নমুনা নেওয়াও হয়েছিল, কিন্তু তা পরীক্ষাগার পর্যন্ত যায়নি। নির্ধারিত সময়ে রিপোর্ট নিতে গিয়ে বিষয়টি জানতে পারে রোগীর পরিবার।
পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) সকাল ১০টার দিকে সুলতানা বেগমের কাছ থেকে বিভিন্ন পরীক্ষার জন্য রক্তের নমুনা সংগ্রহ করা হয়। সন্ধ্যায় পরীক্ষার রিপোর্ট দেওয়ার কথা ছিল। কিন্তু নির্ধারিত সময়ে রিপোর্ট নিতে গেলে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানায়, রোগীর রক্তের নমুনা পরীক্ষার জন্য ল্যাবরেটরিতে জমা দেওয়া হয়নি।
এতে রোগীর পরবর্তী চিকিৎসা নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। কারণ, ওই পরীক্ষার রিপোর্টের ওপর ভিত্তি করেই তাঁর পরবর্তী চিকিৎসা নির্ধারণ করার কথা ছিল। ঘটনায় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের দায়িত্বহীনতা ও অবহেলার অভিযোগ তুলেছেন স্বজনেরা। পরে হাসপাতালের পক্ষ থেকে নতুন করে নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষা শেষে রিপোর্ট দেওয়ার কথা জানানো হয়।
সুলতানা বেগমের ছেলে এরশাদ বলেন, ‘আমরা বুধবার টেস্টের জন্য টাকা জমা দিয়েছি। বৃহস্পতিবার সকালে আমার মায়ের কাছ থেকে রক্তের নমুনা নেওয়া হয়। সন্ধ্যায় রিপোর্ট দেওয়ার কথা ছিল। কিন্তু রিপোর্ট নিতে গেলে তাঁরা জানান, মায়ের রক্তের নমুনা পরীক্ষার জন্য জমা দেওয়া হয়নি। পরে জানতে চাইলে তাঁরা জানান, নমুনা নেওয়া হলেও তা ল্যাবরেটরিতে জমা হয়নি। এখন আবার নতুন করে নমুনা নিয়ে পরীক্ষা করে রিপোর্ট দেওয়ার কথা বলছেন।’
এরশাদ আরও বলেন, ‘আমার মা মুমূর্ষু অবস্থায় আছেন। এই পরীক্ষার রিপোর্টের ওপর ভিত্তি করেই তাঁর পরবর্তী চিকিৎসা নির্ধারণ করার কথা। এত বড় একটি হাসপাতালে রোগীদের সঙ্গে এমন অবহেলা কীভাবে হয়, তা বুঝতে পারছি না।’ তাঁর অভিযোগ, ঘটনার পর হাসপাতালের পক্ষ থেকে বিভিন্ন মাধ্যমে পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করে বিষয়টি বাইরে প্রকাশ না করার চেষ্টা করা হচ্ছে।
এ বিষয়ে ল্যাবএইড হাসপাতালের জনসংযোগ কর্মকর্তা মেহের-এ-খোদা দ্বীপ বলেন, রোগীর কাছ থেকে নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছিল, এটি শতভাগ সত্যি। নমুনাটি কেন জমা হয়নি, তা তদন্তের জন্য তিন সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। তদন্ত প্রতিবেদন পাওয়া সাপেক্ষে কারও অবহেলা পাওয়া গেলে তাঁর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন হাসপাতালের পরিচালক।
জনসংযোগ কর্মকর্তা আরও বলেন, ঘটনার পর রোগীর কাছ থেকে আবার নমুনা নিয়ে ইতিমধ্যে মেশিনে দেওয়া হয়েছে। রিপোর্ট পাওয়া মাত্রই চিকিৎসককে রিপোর্ট দেখে চিকিৎসা দেওয়ার নির্দেশ হাসপাতালের পক্ষ থেকে দেওয়া হয়েছে।


