দ্বিতীয় দিনে তিন জাহাজে সেন্টমার্টিন গেলেন ১ হাজার ৫৫৪ পর্যটক, টিকিটের দাম নিয়ে ক্ষোভ
প্রশাসনিক ও পরিবেশগত অনুমোদনসংক্রান্ত জটিলতা কাটিয়ে কক্সবাজার-সেন্টমার্টিন নৌপথে জাহাজ চলাচলের দ্বিতীয় দিনে আরও দুটি নৌযান যুক্ত হয়েছে। শুক্রবার (৬ নভেম্বর) সকালে কক্সবাজার শহরের নুনিয়ারছড়া বিআইডব্লিউটিএ ঘাট থেকে চলতি মৌসুমে প্রথমবারের মতো সেন্টমার্টিনের উদ্দেশে যাত্রা করে এমভি কর্ণফুলী ও এমভি টেকনাফ।
এর আগে বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) উদ্বোধনী দিনে পর্যটক নিয়ে যাত্রা করা এমভি বারো আউলিয়া রাতেই ফিরে আসে। দ্বিতীয় দিনে এই তিনটি জাহাজে করে মোট ১ হাজার ৫৫৪ জন পর্যটক সেন্টমার্টিনের উদ্দেশে রওনা হন। এর মধ্যে এমভি বারো আউলিয়ায় ৬১৯ জন, এমভি কর্ণফুলীতে ৩৮৭ জন এবং এমভি টেকনাফে ৫৪৮ জন যাত্রী ছিলেন।
সি ক্রুজ অপারেটর ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (স্কোয়াব) সাধারণ সম্পাদক হোসাইন ইসলাম বাহাদুর জানিয়েছেন, অনুমোদিত এই তিনটি জাহাজ আগামী বছরের ১৫ মার্চ পর্যন্ত নিয়মিতভাবে পর্যটক পরিবহন করবে।
জাহাজ তিনটির সম্মিলিত যাত্রী ধারণক্ষমতা ২ হাজার ৩০০ জন। সরকারের পক্ষ থেকে দ্বীপে দৈনিক সাড়ে ৩ হাজার পর্যটক গমনের অনুমতি থাকায় যাত্রীচাপ বিবেচনায় ভবিষ্যতে জাহাজের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
সরকারি সিদ্ধান্ত অনুসারে ১ নভেম্বর থেকে সেন্টমার্টিন ভ্রমণের অনুমতি থাকলেও প্রশাসনিক ছাড়পত্র ও পরিবেশগত শর্ত পূরণের প্রক্রিয়ার কারণে নির্ধারিত সময়ের কয়েক দিন পর এই জাহাজ চলাচল শুরু হয়।
ঘাটে জেলা প্রশাসন, বিআইডব্লিউটিএ, ট্যুরিস্ট পুলিশ ও কোস্টগার্ডসহ বিভিন্ন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কঠোর নজরদারি ও নিরাপত্তা তৎপরতা লক্ষ্য করা গেছে।
দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর সমুদ্রযাত্রার সুযোগ পেয়ে ভ্রমণপিপাসুরা উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেন এবং পরিবেশ রক্ষায় সরকারি নিয়ম মেনে চলার অঙ্গীকার করেন। তবে টিকিটের অতিরিক্ত দাম নিয়ে অনেক পর্যটক ক্ষোভ ও হতাশা জানিয়েছেন। ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা ভ্রমণকারীরা সাধারণ মানুষের সাধ্যের কথা ভেবে নৌভাড়া আবার পর্যালোচনার দাবি জানিয়েছেন।
সেন্টমার্টিনের ভঙ্গুর বাস্তুসংস্থান ও সামুদ্রিক জীববৈচিত্র্য রক্ষায় এবার একগুচ্ছ কঠোর শর্ত ও বিধিনিষেধ আরোপ করেছে কর্তৃপক্ষ। প্রতিটি পর্যটককে বাধ্যতামূলকভাবে ১০০ টাকা পরিবেশ সংরক্ষণ ফি দিতে হচ্ছে এবং পরিচয় নিশ্চিতের জন্য কিউআর কোডযুক্ত টিকিট ও ট্রাভেল পাস নেওয়া বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।
রাতে সৈকত এলাকায় যেকোনো ধরনের আলো জ্বালানো, উচ্চ শব্দ করা ও বারবিকিউ পার্টি সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা হয়েছে। কেয়া বনে প্রবেশ, কেয়া ফল সংগ্রহ, সৈকতে মোটরসাইকেল বা সি-বাইক চালানো এবং প্রবাল, শামুক, ঝিনুক, তারামাছ, সামুদ্রিক কাছিম কিংবা ঘাস-শৈবালের ক্ষতি করার ওপরও কঠোর নিষেধাজ্ঞা রয়েছে।
পরিবেশ বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, কেবল নিয়ম জারি করলেই হবে না; দ্বীপের ভারসাম্য বজায় রাখতে এসব বিধিমালার নিয়মিত ও কঠোর তদারকি নিশ্চিত করতে হবে।


