শীতের আগে বকেয়া বিলে সহায়তা বাড়াতে জ্বালানি কোম্পানিগুলোকে বললেন ব্রিটিশ মন্ত্রী, আসছে ২৫০ কোটি পাউন্ডের ঋণমুক্তি পরিকল্পনা

এই শীতে পরিবারগুলোকে বকেয়া জ্বালানি বিল পরিশোধে আরও সহায়তা করতে গ্রেট ব্রিটেনের সবচেয়ে বড় জ্বালানি সরবরাহকারী কোম্পানিগুলোর প্রধানদের বলেছেন দেশটির এক জ্বালানি মন্ত্রী। সরকার রেকর্ড পরিমাণ ঋণের বোঝা কমাতে প্রায় ২৫০ কোটি পাউন্ড ব্যয়ের পরিকল্পনা নেওয়ার আগেই এই আহ্বান জানানো হলো।
বৃহস্পতিবার জ্বালানি কোম্পানিগুলোর প্রধানদের একটি গোলটেবিল বৈঠকে ডাকা হয়। সেখানে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত প্রায় ২৪ লাখ পরিবারের জ্বালানি ঋণ পরিশোধে সরকারের পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা হয়।
এই ঋণমুক্তি কর্মসূচি একটি বৃহত্তর কৌশলের অংশ, যা গত মাসে বার্ষিক বাজেট বক্তব্যে চ্যান্সেলর তুলে ধরেছিলেন। এর আওতায় পরিবারগুলোর জ্বালানি ঋণ মোকাবিলার ব্যবস্থা রয়েছে; এই ঋণ বছরের শেষ নাগাদ ৭০০ কোটি পাউন্ডে পৌঁছাতে পারে।
জ্বালানি ভোক্তাবিষয়ক মন্ত্রী পলি বিলিংটন অক্টোপাস এনার্জি, ব্রিটিশ গ্যাস ও ইডিএফ এনার্জিসহ কোম্পানিগুলোর প্রধানদের বলেছেন বলে জানা গেছে, সরকারের বহু শত কোটি পাউন্ডের সহায়তা প্যাকেজের পাশাপাশি দীর্ঘদিনের এই ঋণ সমস্যা মোকাবিলায় সরবরাহকারীদেরও ‘গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা’ রাখতে হবে।
সরবরাহকারীদের কাছ থেকে আশা করা হচ্ছে, তারা আগেভাগে আর্থিক চাপে থাকতে পারেন এমন গ্রাহকদের শনাক্ত করবেন এবং ঋণ পরিশোধের পরিকল্পনা কিংবা ঋণ পরামর্শ সেবার দিকে নির্দেশনার মতো সহায়তা দেবেন।
সরকার শিল্প খাতের সঙ্গে কাজ করে অতিরিক্ত সহায়তা প্রয়োজন হতে পারে এমন পরিবারগুলোকে সহজে শনাক্ত করার এবং পরিশোধব্যবস্থা আধুনিক করার পরিকল্পনাও করছে। পরিবারগুলো যাতে খরচের হিসাব রাখতে পারে এবং বকেয়ায় না পড়ে, সে জন্য সরকার স্মার্ট মিটার ও স্মার্ট প্রি-পে মিটারের ব্যবহারকে সমর্থন দিয়েছে। বাড়ি বদলের সময় ভাড়াটিয়া আসা-যাওয়ার ক্ষেত্রে বাড়িওয়ালাদের মিটার রিডিং ও বদলের তারিখ সরবরাহকারীকে জানানোর নতুন বাধ্যবাধকতাসহ সংস্কারের কথাও পরিকল্পনায় রয়েছে।
অনলাইন গোলটেবিল বৈঠকে অংশ নেওয়া এক ব্যক্তি বলেন, সরকারের পরিকল্পনার পেছনে ‘স্পষ্টতই অনেক উচ্চাকাঙ্ক্ষা’ রয়েছে, এবং মন্ত্রী চেয়েছেন সরবরাহকারীদের ভোক্তা গোষ্ঠীগুলোর সঙ্গে একত্র করে বিষয়টির বাস্তবায়ন নিশ্চিত করতে।
বৈঠকে সবচেয়ে বড় ছয়টি জ্বালানি সরবরাহকারীর জ্যেষ্ঠ নেতারা, শিল্প সংগঠন এনার্জি ইউকের প্রতিনিধিরা, জ্বালানি দারিদ্র্যবিষয়ক দাতব্য সংস্থা ন্যাশনাল এনার্জি অ্যাকশন এবং সিটিজেন্স অ্যাডভাইসসহ পাঁচটি ভোক্তা পরামর্শ গোষ্ঠীর প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
বৈঠকের পর এক বিবৃতিতে বিলিংটন বলেন, ‘আমি জানি, জ্বালানি ঋণ সারা দেশের লাখ লাখ পরিবারের ওপর ভারী বোঝা হয়ে আছে। এর খরচ অন্য বিল পরিশোধকারীদের ওপর চাপিয়ে দেওয়া হয় বলে এটি আমাদের সবাইকে প্রভাবিত করে।’ বর্তমানে একটি সাধারণ পরিবার বাজারের বকেয়া বিল সামলাতে বছরে প্রায় ৫০ পাউন্ড তাদের জ্বালানি বিলে দিয়ে থাকে; ঋণের স্তূপ কমাতে পদক্ষেপ না নিলে এই অঙ্ক আরও বাড়তে পারে।
সরকারের বিশ্বাস, এককালীন এই ঋণমুক্তি কর্মসূচি এবং ভবিষ্যতে আবার ঋণ জমতে না দেওয়ার নতুন ব্যবস্থা মিলিয়ে আগামী ১০ বছরে সব পরিবারের গড়ে প্রায় ১৩০ পাউন্ড সাশ্রয় হতে পারে।
বৈঠকে উপস্থিত সিটিজেন্স অ্যাডভাইসের জ্বালানিবিষয়ক পরিচালক গিলিয়ান কুপার বলেন, জানুয়ারিতে সাধারণ বার্ষিক জ্বালানি বিল আবার বাড়বে বলে ধারণা করা হচ্ছে; তাই সরকারের নতুন উদ্যোগে বিদ্যমান ঋণ মোকাবিলার পাশাপাশি পরিবারগুলোকে ঋণে পড়া থেকে রক্ষার সুরক্ষা থাকা ‘অপরিহার্য’।
দেশটির সবচেয়ে বড় জ্বালানি সরবরাহকারী অক্টোপাস এনার্জির পরিচালক র্যাচেল ফ্লেচার বলেন, গ্রাহকদের প্রথমেই ঋণে পড়া ঠেকাতে সরবরাহকারীরা যা করে, তা উন্নত করার দিকে মনোযোগ দেখে তিনি খুশি। তিনি আরও বলেন, এই প্যাকেজের কোনো কিছুই যেন গ্রাহকদের ঋণ এড়াতে ও সামলাতে সাহায্যে সরবরাহকারীদের উদ্ভাবন ও বিনিয়োগের প্রণোদনা দুর্বল না করে।



