সর্দি-কাশি ছাড়াই গলা খুসখুস ও স্বর ভাঙার কারণ হতে পারে অ্যাসিড রিফ্লাক্স, বলছেন চিকিৎসক

সর্দি-কাশি নেই, অথচ দিনের পর দিন গলায় কিছু একটা আটকে থাকার অনুভূতি হচ্ছে, কখনও স্বরও ভেঙে যাচ্ছে—বারবার গলা পরিষ্কার করেও স্বস্তি মিলছে না। চিকিৎসকদের মতে, সর্দি-কাশি ছাড়াই দীর্ঘদিন এমন সমস্যা চলতে থাকলে তা সাধারণ ঠান্ডা লাগা ভেবে এড়িয়ে যাওয়া ঠিক নয়, এর কারণ খুঁজে দেখা জরুরি।
চিকিৎসকদের মতে, অ্যাসিড রিফ্লাক্সের কারণেও এমন উপসর্গ দেখা দিতে পারে। বেঙ্গালুরুর চিকিৎসক এইচ কে সুশীন দত্তের মতে, বারবার গলা খুসখুস করা কিংবা স্বর ভেঙে যাওয়া অ্যাসিড রিফ্লাক্সের অন্যতম লক্ষণ।
পাকস্থলীর অ্যাসিড যখন খাদ্যনালি দিয়ে উল্টো পথে উপরে উঠে আসে, তখন তাকে অ্যাসিড রিফ্লাক্স বলা হয়। কখনও সেই অ্যাসিড গলার পেছনের অংশ ও স্বরযন্ত্রে পৌঁছে জ্বালা ও অস্বস্তি তৈরি করতে পারে।
এর ফলে গলায় খুসখুস ভাব, বারবার গলা পরিষ্কার করার প্রবণতা, শুকনো কাশি কিংবা স্বর কর্কশ হয়ে যাওয়ার মতো সমস্যা দেখা দেয়। কারও কারও বুক জ্বালা করে, মুখে টক স্বাদ লাগে কিংবা খাবার গলা দিয়ে উপরে উঠে আসছে বলে মনে হয়। খাওয়ার পর বা রাতে শুয়ে পড়লে উপসর্গ বাড়তে পারে।
দীর্ঘদিন ধরে অ্যাসিডের সংস্পর্শে থাকলে শুধু গলায় অস্বস্তি নয়, স্বরযন্ত্রও ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। ভোকাল কর্ডে প্রদাহ বা জ্বালাভাব তৈরি হতে পারে, এমনকি বারবার জ্বালার কারণে ভোকাল কর্ডে গ্র্যানুলোমার মতো ছোট, নিরীহ বৃদ্ধি দেখা দিতে পারে।
এর ফলে দীর্ঘস্থায়ী স্বরভঙ্গ, কণ্ঠস্বর কর্কশ হয়ে যাওয়া কিংবা স্বরের ওঠানামা নিয়ন্ত্রণে অসুবিধা হতে পারে। যাদের পেশাগত কারণে দীর্ঘক্ষণ কথা বলতে হয় বা গান গাইতে হয়, তাদের ক্ষেত্রে সমস্যা আরও অস্বস্তিকর হয়ে উঠতে পারে।
অ্যাসিড রিফ্লাক্স নিয়ন্ত্রণে জীবনযাপনে কিছু পরিবর্তন আনা জরুরি বলে চিকিৎসকেরা জানিয়েছেন। অতিরিক্ত ঝাল ও তেল-মশলাদার খাবারে সমস্যা বাড়লে সেগুলো এড়িয়ে চলতে হবে। ঘুমাতে যাওয়ার ঠিক আগে খাবার না খেয়ে রাতের খাবার ও শুতে যাওয়ার মধ্যে অন্তত দুই থেকে তিন ঘণ্টার ব্যবধান রাখার চেষ্টা করতে হবে।
রাতে উপসর্গ বাড়লে চিকিৎসকের পরামর্শে বিছানার মাথার দিক কিছুটা উঁচু করে ঘুমানো যেতে পারে। ওজন বেশি থাকলে তা নিয়ন্ত্রণে রাখাও উপকারী হতে পারে।
পর্যাপ্ত পানি পান করতে হবে এবং গলার ওপর অতিরিক্ত চাপ দেওয়া যাবে না; চিৎকার করে কথা বলা কিংবা দীর্ঘক্ষণ জোরে কথা বলা এড়িয়ে চলতে হবে। প্রয়োজনে চিকিৎসকের পরামর্শে অ্যান্টাসিড বা অন্য ওষুধ খাওয়া যেতে পারে, তবে নিজে থেকে নিয়মিত ওষুধ খাওয়া ঠিক নয়। গলার সমস্যা দীর্ঘস্থায়ী হলে স্পিচ থেরাপিস্টের সাহায্যে কণ্ঠস্বরের উপযোগী কিছু ব্যায়ামও শেখা যেতে পারে।
গলা খুসখুস করা, স্বর ভেঙে যাওয়া বা বুক জ্বালার সমস্যা দীর্ঘদিন চললে নাক-কান-গলা বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়ার কথা বলা হয়েছে। সব সময় গলার অস্বস্তির কারণ ঠান্ডা লাগা নয়; সময়মতো কারণ চিহ্নিত করে চিকিৎসা শুরু করলে স্বরযন্ত্রের দীর্ঘমেয়াদি ক্ষতি এড়ানো সম্ভব।


