কয়েক সপ্তাহের খরা কাটিয়ে খাগড়াছড়ির পর্যটনকেন্দ্রে ফিরেছে প্রাণ, বেড়েছে পর্যটকের ভিড়
কয়েক সপ্তাহের পর্যটক খরা কাটিয়ে আবার প্রাণচাঞ্চল্য ফিরতে শুরু করেছে খাগড়াছড়ির পর্যটনকেন্দ্রগুলোতে। বিশেষ করে জেলা পরিষদ হর্টিকালচার পার্কে বেড়েছে পর্যটকের আনাগোনা।
সবুজ পাহাড়, লেক, ঝুলন্ত সেতু ও জিপলাইনসহ নানা বিনোদন আয়োজন ঘিরে পর্যটকদের মধ্যে বাড়তি উচ্ছ্বাস দেখা গেছে। স্থানীয়দের পাশাপাশি দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে পরিবার-পরিজন ও বন্ধুদের নিয়ে ঘুরতে এসেছেন অনেকে।
শুক্রবার (৬ নভেম্বর) বিকেলে জেলা পরিষদ হর্টিকালচার পার্কে দেখা যায় পর্যটকদের সরব উপস্থিতি। কেউ পরিবার নিয়ে ঘুরে বেড়াচ্ছেন, কেউ বন্ধুদের সঙ্গে ছবি তুলছেন, আবার কেউ বিভিন্ন রাইড উপভোগ করছেন।
কুমিল্লা থেকে বন্ধুদের সঙ্গে মোটরসাইকেলে খাগড়াছড়ি ঘুরতে এসেছেন হুমায়ুন আহমেদ। তিনি বলেন, সকালে রওনা হয়ে দুপুর ১টার দিকে তারা পৌঁছেছেন। রিছাং ঝর্ণা ও আলুটিলা পার্ক ঘুরে তারা জেলা পরিষদ পার্কে এসেছেন। সাত-আট বছর পর খাগড়াছড়িতে এসে তিনি পার্কগুলোতে অনেক পরিবর্তন ও নতুন নতুন রাইড দেখেছেন।
নারায়ণগঞ্জ থেকে পরিবার নিয়ে এসেছেন তানজিল চৌধুরী। তিনি বলেন, হর্টিকালচার পার্কে তারা দারুণ সময় কাটিয়েছেন। সবুজ পাহাড় ও লেক এবং ঝুলন্ত সেতু তার ভালো লেগেছে। জীবনে প্রথমবার জিপলাইনে চড়ার অভিজ্ঞতাকে তিনি দারুণ বলেছেন। আলুটিলা পর্যটনকেন্দ্রে সড়কসহ কিছু সংস্কারকাজ চলছে বলেও তিনি জানান।
জেলা পরিষদ হর্টিকালচার পার্কের দায়িত্বে থাকা মনতোষ ত্রিপুরা বলেন, গত কয়েক সপ্তাহের তুলনায় শুক্রবার পার্কে পর্যটকের ভিড় বেড়েছে। মূলত দুপুরের পর থেকে পর্যটকেরা আসতে শুরু করেন। সাজেকে অবরোধ শুরুর পর থেকে পার্কে পর্যটকের সংখ্যা কমে গিয়েছিল; শুক্রবার অনেকটা স্বাভাবিক সময়ের মতো সমাগম হয়েছে।
পার্কের জিপলাইন রাইড পরিচালনার দায়িত্বে থাকা অভি কুমার দে বলেন, শুক্রবার অন্তত শতাধিক পর্যটক জিপলাইনে চড়েছেন। অথচ গত কয়েক দিন ধরে দিনে তিন-চারজনের বেশি পর্যটক পাওয়া যাচ্ছিল না।
অরণ্য বিলাশ আবাসিক হোটেলের ব্যবস্থাপক মো. সাগর বলেন, সাজেক পর্যটকদের অন্যতম প্রধান আকর্ষণ। সাজেক বন্ধ থাকার প্রভাব সরাসরি পড়েছে খাগড়াছড়ির পর্যটননির্ভর ব্যবসায়—হোটেল, রেস্তোরাঁসহ প্রায় সব ব্যবসায় মন্দা দেখা দিয়েছে। সাজেকে পর্যটক না এলে খাগড়াছড়িতে রাত্রিযাপনের প্রবণতা কমে যায়; অধিকাংশ পর্যটক দিনভর ঘুরে রাতের গাড়িতে ফিরে যান। তবে অনেক দিন পর শহরে এমন উপস্থিতি দেখে তারা আশাবাদী।
খাগড়াছড়ি টুরিস্ট পুলিশের উপপরিদর্শক মো. আব্দুস ছামাদ বলেন, পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে জেলার প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ পর্যটনকেন্দ্রে টুরিস্ট পুলিশের সার্বক্ষণিক নজরদারি ও টহল রয়েছে। টুরিস্ট পুলিশের পাশাপাশি আনসার ও সাধারণ পুলিশ সদস্যরাও নিরাপত্তার দায়িত্ব পালন করছেন।
সংশ্লিষ্টদের মতে, পর্যটকদের এই উপস্থিতি খাগড়াছড়ির পর্যটন খাতের জন্য ইতিবাচক বার্তা। পর্যটকদের আগমন অব্যাহত থাকলে স্থানীয় ব্যবসায়ী, পরিবহনসংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ও পর্যটনকেন্দ্রের সঙ্গে যুক্ত কর্মীদের মধ্যেও কর্মচাঞ্চল্য বাড়বে।



