দেশের সব খুনের বিচার করতে চাই, নবীন আইনজীবীদের অনুষ্ঠানে বললেন আইনমন্ত্রী আসাদুজ্জামান
আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী আসাদুজ্জামান বলেছেন, সরকার এ দেশের সমস্ত খুনের বিচার করতে চায়।
শুক্রবার (৬ নভেম্বর) ঢাকা আইনজীবী সমিতির আয়োজনে নবীন আইনজীবীদের ওরিয়েন্টেশন প্রোগ্রামে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ঢাকা আইনজীবী সমিতির সভাপতি মো. আনোয়ার জাহিদ ভূঁইয়া।
মন্ত্রী বলেন, যে রক্তাক্ত পথ ধরে তারা এসেছেন, সেই রক্তের পথ অনেক পিচ্ছিল ছিল। বিগত ষোলো বছরের বেশি সময় ধরে ফ্যাসিস্টদের বিরুদ্ধে আন্দোলন করতে গিয়ে তারা সাড়ে চার হাজারের বেশি সহযোদ্ধাকে হারিয়েছেন, যাদের ক্রসফায়ার করা হয়েছে। সাত শর বেশি সহযোদ্ধাকে হারিয়েছেন, যাদের গুম করা হয়েছে।
তিনি বলেন, যারা গুম হয়েছেন, তাদের স্বজনরা এখনও নামাজে বসে আল্লাহর কাছে কাঁদেন—কখন তাদের স্বজন ফিরে আসবে। তাদের ৬০ লক্ষের বেশি নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে মিথ্যা গায়েবি মামলা করা হয়েছিল, যাদের অনেকেই ঘটনার ২০ বছর আগে মারা গেছেন।
আসাদুজ্জামান বলেন, তারা জনগণের কাছে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন, বাংলাদেশের মাটিতে সমস্ত অন্যায়-অবিচারের বিচার করতে চান। এ ব্যাপারে তারা বদ্ধপরিকর।
আইনজীবীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, তারা সেই পথ ধরেই হেঁটে যাচ্ছেন এবং সেই পথে আইনজীবীদের সঙ্গে চেয়েছেন। তারা একটি সোনার বাংলাদেশ গড়ে তোলার সোপান তৈরি করে দিয়ে যেতে চান, যে পথ ধরে বাংলাদেশে আইনের শাসনের পথ সুগম হবে।
মন্ত্রী বলেন, আইনজীবীদের জন্য সম্পূরক কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করতে তারা চান। দুই সপ্তাহ আগে তিনি বাণিজ্যমন্ত্রীকে বলেছেন, প্রতিটি কোম্পানির হিসাব দেখার জন্য যেমন বাধ্যতামূলক একজন অডিটর লাগে, তেমনি প্রতিটি কোম্পানির একজন করে বাধ্যতামূলক আইনজীবী থাকতে হবে। তিনি কোম্পানি আইন পরিবর্তনের কথা বলেছেন এবং তা যাচাই করে দেবেন বলে জানিয়েছেন।
তিনি বলেন, ইতিমধ্যে আইন মন্ত্রণালয় থেকে ঘোষণা করা হয়েছে—সারা দেশে যেসব আইনজীবী প্রশিক্ষণ পান না, তাদের প্রশিক্ষণের জন্য এ বছর তিনি ৫০ কোটি টাকা বরাদ্দের ঘোষণা দিয়েছেন। এই পেশাকে আরও সামনে নেওয়াই তাদের অঙ্গীকার।
নবীন আইনজীবীদের উদ্দেশে মন্ত্রী বলেন, তারা যেন ছোট বারান্দার আইনজীবী হওয়ার চেষ্টা না করেন; সব সময় বড় বারান্দার আইনজীবী হিসেবে থাকেন। ছোট বারান্দা হলো বিচারকদের বারান্দা—ওই বারান্দায় ঢুকে বিচারকের সঙ্গে লেনদেনের দিকে যেন তারা না যান।
তিনি বলেন, সরকার পেশাগত উৎকর্ষের জন্য বিভিন্ন পথ খুঁজছে এবং একই সঙ্গে সমস্ত অন্ধগলি বন্ধ করতে চায়। তাদের সরকার পরিবর্তনের সরকার, জনগণের ম্যান্ডেট নিয়ে ক্ষমতায় এসেছে সুশাসন, সুখী-সমৃদ্ধ বাংলাদেশ, আইনের শাসন ও দুর্নীতিমুক্ত বিচার ব্যবস্থা গড়ার প্রত্যয়ে।
মন্ত্রী বলেন, প্রশ্ন এসেছে এত আইনজীবীর দরকার আছে কি না, এত আইনজীবী কী করবেন। তিনি বলেন, বাংলাদেশের ২০ কোটি মানুষের জন্য ৮০ হাজার আইনজীবী কিছুই না। তবে আইন পেশাকে যে জায়গায় নিয়ে ফেলা হয়েছে, সেখান থেকে ফেরানোর দায়িত্ব নবীনদের হাতে। আইনজীবী হওয়ার প্রক্রিয়া বিসিএসের চেয়েও কঠিন বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
ঢাকা আইনজীবী সমিতির জ্যেষ্ঠ সহ-সাধারণ সম্পাদক মো. ইলতুৎমিশ সওদাগর (এ্যানী)-এর সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন ঢাকা-৭ আসনের সংসদ সদস্য হামিদুর রহমান হামিদ, ঢাকার জ্যেষ্ঠ জেলা ও দায়রা জজ মো. রফিকুল ইসলাম, ঢাকা মহানগর দায়রা জজ মো. শাহজাহান কবির, ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. জাকির হোসাইন, ঢাকার ভারপ্রাপ্ত চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মো. মাহবুবুর রহমান, ঢাকা জেলা ও দায়রা জজ আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর মো. ইকবাল হোসেন, ঢাকা মহানগর দায়রা জজ আদালতের পিপি মো. ওমর ফারুক ফারুকী এবং ঢাকা আইনজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদক কালাম খান প্রমুখ।



