মাদারীপুরে ২৫০ শয্যার হাসপাতাল চলছে ১০০ শয্যার জনবলে, শিশু ওয়ার্ডে এক বিছানায় তিন রোগী

মাদারীপুর ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেলা হাসপাতালে জনবল সংকট চরম আকার ধারণ করেছে। ২৫০ শয্যার কার্যক্রম চললেও হাসপাতালটি পরিচালিত হচ্ছে ১০০ শয্যার জনবল দিয়ে।
হাসপাতালের ১৯৭টি অনুমোদিত পদের বিপরীতে কর্মরত রয়েছেন মাত্র ১৩৮ জন। শূন্য রয়েছে ৫৯টি পদ। এর মধ্যে চিকিৎসকের পদই শূন্য ৩৭টি।
প্রয়োজনীয় জনবল না থাকায় রোগীর চাপ সামলাতে হিমশিম খেতে হচ্ছে চিকিৎসক ও নার্সদের। এর প্রভাব সবচেয়ে বেশি পড়ছে শিশুদের চিকিৎসাসেবায়।
সম্প্রতি সরেজমিনে দেখা যায়, হাসপাতালের শিশু ওয়ার্ডে ৪০টি শয্যার বিপরীতে ভর্তি রয়েছে ১৩৩ শিশু। তাদের মধ্যে ৪০ জন হাম আক্রান্ত।
শয্যার তুলনায় কয়েক গুণ বেশি রোগী ভর্তি থাকায় একই বিছানায় দুই থেকে তিন শিশুকে থাকতে হচ্ছে। জায়গার সংকুলান না হওয়ায় অনেক রোগীকে থাকতে হচ্ছে মেঝেতে। ছোট শিশুদের সঙ্গে মায়েদেরও ওয়ার্ডে থাকতে হচ্ছে, ফলে সেখানে তৈরি হয়েছে গাদাগাদি পরিস্থিতি।
হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, জ্বর, সর্দি, কাশি, শ্বাসকষ্ট, নিউমোনিয়া ও ডায়রিয়াসহ বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হয়ে প্রতিদিন বিপুলসংখ্যক শিশু হাসপাতালে ভর্তি হচ্ছে। রোগীর চাপ বাড়লেও শিশু ওয়ার্ডের শয্যাসংখ্যা বাড়েনি। ফলে সীমিত শয্যা ও জনবল দিয়ে অতিরিক্ত রোগীর চিকিৎসাসেবা দিতে হচ্ছে।
জেলা সিভিল সার্জন কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, প্রথম শ্রেণির ৫৬টি পদের বিপরীতে কর্মরত রয়েছেন ১৯ জন, শূন্য ৩৭টি। দ্বিতীয় শ্রেণির ৬৮টি পদের মধ্যে একটি, তৃতীয় শ্রেণির ২৮টির মধ্যে পাঁচটি এবং চতুর্থ শ্রেণির ৪৫টির মধ্যে ১৬টি পদ শূন্য রয়েছে।
সদর উপজেলার পাঁচখোলা গ্রামের কামাল হোসেন বলেন, তার চার বছর বয়সী ছেলে জ্বর নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি রয়েছে। একই বিছানায় তিন শিশুকে থাকতে হচ্ছে। এতে শিশুদের পাশাপাশি স্বজনদেরও নানা সমস্যায় পড়তে হচ্ছে।
কালকিনির খাসেরহাট গ্রামের শিউলি বেগম বলেন, তার তিন মাস বয়সী ছেলে নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত। হাসপাতালে ভর্তি করার পর দেখেন, একই বিছানায় তিন শিশুকে রাখা হয়েছে। ছোট শিশুদের নিয়ে এভাবে থাকতে খুব কষ্ট হচ্ছে।
মাদারীপুর ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ডা. অখিল সরকার বলেন, হাসপাতালে জনবল সংকট রয়েছে। তারপরও তারা সর্বোচ্চ চিকিৎসাসেবা দেওয়ার চেষ্টা করছেন। প্রায় প্রতিদিনই হাসপাতালের নির্ধারিত শয্যাসংখ্যার চেয়ে বেশি রোগী ভর্তি থাকেন। অতিরিক্ত রোগীর চাপ সামলাতে চিকিৎসক ও নার্সদের হিমশিম খেতে হলেও তারা আন্তরিকভাবে চিকিৎসাসেবা দিয়ে যাচ্ছেন।
মাদারীপুরের ভারপ্রাপ্ত সিভিল সার্জন ডা. মোহাম্মদ খলিলুজ্জামান বলেন, ১০০ শয্যার জনবল দিয়ে ২৫০ শয্যার কার্যক্রম চালাতে হচ্ছে। এতে চিকিৎসক ও নার্সদের ওপর অতিরিক্ত চাপ তৈরি হচ্ছে। প্রয়োজনীয় জনবল নিয়োগ ও ২৫০ শয্যার পূর্ণাঙ্গ কার্যক্রম চালু করা গেলে চিকিৎসাসেবার মান আরও বাড়বে।



