খালি পায়ে মাঠ কাঁপানো নড়াইলের ফুটবলার গোপাল হাজরা, বয়স ৭৫-এও স্মৃতিতে উজ্জ্বল ১৯৬৯-এর শিরোপা
নড়াইল সদর উপজেলার মুলিয়া ইউনিয়নের বালিয়াডাঙ্গা গ্রামের বাসিন্দা গোপাল হাজরার বয়স এখন ৭৫ বছর। দারিদ্র্যের মধ্যে বেড়ে ওঠা এই মানুষটি তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তান আমলে দক্ষিণবঙ্গের একজন নামকরা ফুটবল খেলোয়াড় ছিলেন।
মাঠে গোপাল হাজরার পজিশন ছিল ব্যাক, অর্থাৎ তিনি খেলতেন রক্ষণভাগে। প্রতিপক্ষের আক্রমণ ঠাণ্ডা মাথায় প্রতিহত করতে তিনি ছিলেন সিদ্ধহস্ত, আর মাঠে তাঁর দুই পা ও মাথা চলত বিদ্যুৎগতিতে।
৫ ফুট ৬ ইঞ্চি উচ্চতার এই ফুটবলার পায়ে কখনো বুট, মোজা, অ্যাংকলেট বা সেফগার্ড পরতেন না। খালি পায়ে খেলতেই তিনি বেশি স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করতেন। তবে শাড়ির দুই পাশের পাড় কেটে তিনি ব্যান্ডেজ বানাতেন, আর সেই ব্যান্ডেজ দুই পায়ের পাতা ও গোড়ালিতে পেঁচিয়ে মাঠে নামতেন।
গোপাল হাজরার বাবা বিহারী লাল হাজরা ও মা কাঞ্চন বালা দুজনেই অনেক আগে মারা গেছেন।
ফুটবল জীবনের স্মৃতিচারণায় গোপাল হাজরা বলেন, ‘ছোটবেলায় ছোলম লেবু দিয়ে বল খেলা শিখেছি। খাঁটি দুপুরের সময় পরের গাছ থেকে ছোলম লেবু চুরি করে পাড়তাম। নড়াইল ভিক্টোরিয়া কলেজিয়েট স্কুলে ষষ্ঠ শ্রেণিতে পড়ার সময় চামড়ার বলে খেলার সুযোগ হয়।’
তিনি বলেন, ‘ষষ্ঠ শ্রেণি থেকেই আমি আন্তঃস্কুল ফুটবল খেলতে থাকি। ১৯৬৯ সালে তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তান আমলে বৃহত্তর যশোর জেলার অন্তর্গত নড়াইল মহকুমার আন্তঃস্কুল ফুটবল প্রতিযোগিতায় এবং ঢাকায় অনুষ্ঠিত জাতীয় পর্যায়ে নড়াইল ভিক্টোরিয়া স্কুল চ্যাম্পিয়ন হলে দেশব্যাপী সাড়া পড়ে যায়।’
ওই দলের সদস্যদের কথা বলতে গিয়ে তিনি জানান, গোলকিপার ছিলেন আব্দুস ছাত্তার, রক্ষণে খেলেছেন গোপাল হাজরা, নকুল সরকার, আব্দুল হামিদ ও রকিব, আর আক্রমণভাগে ছিলেন যশোরের সাচ্চু ও কায়জার, খুলনার রঘুরাম ও মুনছুরসহ অনেকে। তাঁর ভাষায়, এদের বেশিরভাগ খেলোয়াড়ই এর মধ্যে পৃথিবী থেকে বিদায় নিয়েছেন।
এর আগে ১৯৬৮ সালে নড়াইল মডেল স্কুল, যা বর্তমানে সরকারি বালক উচ্চ বিদ্যালয়, আন্তঃস্কুল ফুটবল প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়ে প্রথমে মহকুমা চ্যাম্পিয়ন, পরে বৃহত্তর যশোর জেলা চ্যাম্পিয়ন এবং তারপর তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তান চ্যাম্পিয়ন হওয়ার গৌরব অর্জন করে।
সে সময় ভিক্টোরিয়া কলেজিয়েট স্কুলের প্রধান শিক্ষক ছিলেন মো. মোসলেম উদ্দীন।


