৭ নভেম্বরের র্যালিতে সাংগঠনিক শক্তির জানান দিতে চায় বিএনপি, নেতৃত্ব দেবেন তারেক রহমান

জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে ৭ নভেম্বর রাজধানীতে বড় ধরনের জনসমাগম ঘটিয়ে নিজেদের সাংগঠনিক শক্তি ও রাজপথের সক্ষমতার জানান দিতে চায় বিএনপি।
সাম্প্রতিক রাজনৈতিক উত্তেজনা, ১১ দলীয় জোটের সঙ্গে মতবিরোধ, শেখ হাসিনার দেশে ফেরার ঘোষণা এবং তৈরি পোশাক খাতের অস্থিরতার মধ্যে দলটির এই কর্মসূচিকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
র্যালির মধ্য দিয়ে নেতাকর্মীদের সক্রিয় রাখার পাশাপাশি রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের কাছেও নিজেদের শক্ত অবস্থানের বার্তা দিতে চায় ক্ষমতাসীন দলটি।
শনিবার (৭ নভেম্বর) বিকেল ৩টায় নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে থেকে বর্ণাঢ্য র্যালি শুরু হবে। এতে নেতৃত্ব দেবেন দলের চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
র্যালিটি নয়াপল্টন থেকে শুরু হয়ে প্রধান বিচারপতির বাসভবনের কাছে গিয়ে ডান দিকে মোড় নেবে। এরপর হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালের সামনে দিয়ে বাংলামোটর ও ফার্মগেট হয়ে মানিক মিয়া অ্যাভিনিউয়ে গিয়ে শেষ হবে।
একই দিন দেশের জেলা ও মহানগর পর্যায়েও র্যালি করবে বিএনপি। পরদিন ৮ নভেম্বর থানা ও উপজেলা পর্যায়ে কর্মসূচি পালন করা হবে।
দলীয় সূত্র জানায়, জাতীয় নির্বাচনে বড় বিজয়ের পর বিএনপি কোনো বিজয় র্যালি করেনি। সরকার গঠনের প্রায় সাড়ে আট মাস পর এবারই বড় পরিসরে রাজপথের কর্মসূচি নিয়ে মাঠে নামছে দলটি।
ফলে এবারের র্যালিকে কেবল দিবস উদযাপনের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখতে চাইছে না বিএনপি। বরং এর মাধ্যমে সাংগঠনিক শক্তি, নেতাকর্মীদের ঐক্য এবং জনসমর্থনের উপস্থিতি দৃশ্যমান করতে চান দলটির নীতিনির্ধারকেরা।
এ লক্ষ্যে বেশ আগে থেকেই প্রস্তুতি শুরু হয়েছে। গত ২৬ অক্টোবর বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব, ঢাকা মহানগর বিএনপি এবং অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে যৌথসভা করেন দলের ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। সভায় কর্মসূচি সফল করতে সর্বোচ্চ প্রস্তুতি নেওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়।
এরপর ঢাকা মহানগরের বিভিন্ন থানা ও ওয়ার্ডে সাংগঠনিক সভা করে নেতাকর্মীদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়। বিভিন্ন টিমে ভাগ করে দায়িত্ব বণ্টনও করা হয়েছে।
ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপির সদস্য সচিব তানভীর আহমেদ রবিন বলেন, বিএনপি দেশের বৃহত্তম রাজনৈতিক দল। কোনো রাজনৈতিক দল র্যালি বা সমাবেশ করলে জাতীয় পর্যায়ে মানুষের কাছে একটি বার্তা যায়। বিএনপি সাংগঠনিকভাবে শক্তিশালী ছিল, এখনো আছে।
তিনি বলেন, দেশের যেকোনো প্রয়োজনে দল ও সাংগঠনিক নেতারা যেকোনো পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রস্তুত থাকবেন। সেটা শেখ হাসিনা, আওয়ামী লীগ কিংবা বিরোধী দল—যেই হোক না কেন।
শেখ হাসিনার দেশে ফেরার ঘোষণা প্রসঙ্গে তানভীর আহমেদ রবিন বলেন, ‘আমরা মনে করি না শেখ হাসিনা দেশে ফিরবেন। যদি ফেরেন, তাহলে দেশের মানুষই তার ব্যবস্থা নেবে। বিএনপিও বাংলাদেশের মানুষের অংশ হিসেবে সেখানে থাকবে।’
বিরোধী দলের হুমকি-ধমকির বিষয়ে তিনি বলেন, একটি সরকারের মাত্র আট-নয় মাস হয়েছে। এরই মধ্যে বিরোধীরা নানা ধরনের বক্তব্য দিচ্ছে এবং বিনা কারণে লংমার্চের মতো কর্মসূচি পালন করছে।
যুবদলের সভাপতি আবদুল মোনায়েম মুন্না বলেন, ফ্যাসিস্টদের পুনর্বাসন করতে চায়—এমন শক্তির সঙ্গে জামায়াত, এনসিপি ও গুপ্তরা মিলেমিশে একাকার হয়ে গেছে বলে স্পষ্ট হচ্ছে। বিএনপি রাজপথে রয়েছে।
তিনি বলেন, শ্রমিকদের উসকানি দিয়ে এবং বহিরাগতদের ব্যবহার করে অস্থিরতা তৈরির চেষ্টা সফল হয়নি। দেশের যেকোনো কঠিন পরিস্থিতিতে বিএনপি জনগণের পাশে থাকবে।
র্যালি ঘিরে যুবদলের প্রস্তুতির বিষয়ে তিনি বলেন, জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবসের কর্মসূচিতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান নেতৃত্ব দেবেন। এ কর্মসূচি নিয়ে নেতাকর্মীদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা রয়েছে। যুবদলের পক্ষ থেকে বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মীর উপস্থিতি নিশ্চিত করা হবে।
জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে ৫ থেকে ১১ নভেম্বর পর্যন্ত সাত দিনব্যাপী কর্মসূচি পালন করছে বিএনপি। এর অংশ হিসেবে ৭ নভেম্বর সকাল ৬টায় নয়াপল্টনে কেন্দ্রীয় কার্যালয়সহ সারা দেশের দলীয় কার্যালয়ে জাতীয় ও দলীয় পতাকা উত্তোলন করা হবে।
সকাল ৮টায় বিএনপির চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এবং দলের জাতীয় নেতারা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার সমাধিতে পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ ও ফাতেহা পাঠ করবেন। বিকেল ৩টায় অনুষ্ঠিত হবে কেন্দ্রীয় র্যালি।
এ ছাড়া অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনগুলোও পৃথক কর্মসূচি পালন করছে। ৫ নভেম্বর শ্রমিক দলের আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। ৭ নভেম্বর সকাল ১১টায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে আলোকচিত্র প্রদর্শনীর আয়োজন করেছে ছাত্রদল।
৮ নভেম্বর ছাত্রদলের আলোচনা সভা এবং সারা দেশের থানা ও উপজেলা পর্যায়ে র্যালি অনুষ্ঠিত হবে। ৯ নভেম্বর কৃষক দলের আলোচনা সভা এবং একই দিন বিকেলে জাতীয়তাবাদী সামাজিক সাংস্কৃতিক সংস্থার (জাসাস) আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান রয়েছে। ১০ নভেম্বর যুবদলের আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হবে। এ ছাড়া ওলামা দল এতিম শিক্ষার্থীদের মধ্যে শিক্ষা উপকরণ বিতরণ করবে।
১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বর দেশের রাজনৈতিক ও সামরিক অঙ্গনে সংঘটিত ঘটনাপ্রবাহের মধ্য দিয়ে রাষ্ট্রক্ষমতা ও রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে বড় পরিবর্তন আসে। বিএনপি দিনটিকে জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস হিসেবে পালন করে। দলটির প্রতিষ্ঠাতা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের রাজনৈতিক উত্থানের ক্ষেত্রেও দিনটি গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করে বিএনপি।

