সিডনিতে বানান প্রতিযোগিতায় জিতল ষষ্ঠ শ্রেণির আফিফ আহমেদ, হারালেন দুই লাখ প্রতিযোগীকে

অস্ট্রেলিয়ার সিডনির পশ্চিমে একটি ছোট থিয়েটার হলে শুক্রবার বিকেলে অনুষ্ঠিত প্রিমিয়ার্স স্পেলিং বি-র রাজ্য ফাইনালে জিতেছেন ষষ্ঠ শ্রেণির শিক্ষার্থী আফিফ আহমেদ। ফাইনালের মঞ্চে ছিলেন ৩৪ জন প্রাথমিক শিক্ষার্থী।
এই ৩৪ জন ফাইনালে উঠেছেন নিউ সাউথ ওয়েলসজুড়ে প্রায় দুই লাখ শিক্ষার্থীকে পেছনে ফেলে। রাজ্যের ১ হাজার ৭০টি সরকারি স্কুলে বানান প্রতিযোগিতা হয়েছিল, আর আগস্টে অনলাইনে আঞ্চলিক ফাইনাল জিতে তাঁরা রাজ্য ফাইনালে জায়গা করে নেন। তাঁরা শীর্ষ ০.০৩ শতাংশের মধ্যে রয়েছেন বলে আয়োজনে জানানো হয়।
ফাইনালিস্টদের মধ্যে পাঁচজন তৃতীয়বারের মতো এই পর্যায়ে এসেছেন। তাঁদের মধ্যে রয়েছেন হান্টার এলাকার পঞ্চম শ্রেণির ওয়াফিক আইয়াশ, যিনি ২০২৪ সালে জুনিয়র রাজ্য শিরোপা জিতেছিলেন, এবং ইনার ওয়েস্টের ষষ্ঠ শ্রেণির ববি ইভানেজা, যিনি একই বছর রানার্সআপ হয়েছিলেন। সেন্ট্রাল ওয়েস্টের এওয়ান ম্যাটিক, রিভারিনার ক্যালেব বোর্গ এবং হান্টারের আলেশা কাহফান্দিও তিনবার করে রাজ্য ফাইনালে উঠেছেন।
প্রতিযোগিতার নিয়ম অনুযায়ী শিক্ষার্থীরা প্রথমে বাড়িতে অনুশীলন করা ‘দেখা’ শব্দ বানান করে, এরপর আসে আগে না দেখা শব্দ। প্রতিটি রাউন্ডই হঠাৎ-বিদায়ের—একটি ভুল মানেই প্রতিযোগিতা থেকে ছিটকে যাওয়া। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন এবিসির উপস্থাপক রে জনস্টন।
ফাইনালিস্টদের ২৩ জন বাড়িতে ইংরেজি ছাড়া অন্য ভাষায় কথা বলেন, আর ১৮ জন এসেছেন সিডনির বাইরে থেকে। প্রথম রাউন্ডে ‘টরমালাইন’ ও ‘ম্যালাপ্রোপিজম’-এর মতো শব্দে হোঁচট খেয়ে সাতজন বিদায় নেন। দ্বিতীয় রাউন্ডে ‘লেপিডপ্টেরিস্ট’ শব্দে আরও সাতজন ছিটকে যান।
পরের চার রাউন্ডে আরও ১৩ জন বিদায় নেন। ওই পর্যায়ে ম্যাটিক সঠিকভাবে ‘সেঞ্চুরিয়ন’ বানান করে পরিবারের দিকে থাম্বসআপ দেখান। এরপর ‘পারনিশাস’ ও ‘স্যাগাশাস’ শব্দে আরও দুজন বাদ পড়লে শেষ পাঁচে থাকেন আফিফ আহমেদ, ইভানেজা, কাহফান্দি, ক্যারোলাইন ওয়াং ও ম্যাক্সিমিলিয়ান লুমলি—তাঁরা সবাই ষষ্ঠ শ্রেণির শিক্ষার্থী।
অষ্টম রাউন্ডে পাঁচজনই নিজ নিজ শব্দ সঠিকভাবে বানান করেন, যদিও ইভানেজা ‘হুইমজিক্যাল’ শব্দটি বলতে গিয়ে আবার শুরু করেন। নবম রাউন্ডে ‘আনসার্ভিসেবল’ শব্দের দ্বিতীয় ‘ই’ বাদ পড়ায় ইভানেজা বিদায় নেন। বিমর্ষ ইভানেজা মাথা হাতে রেখে আসনে বসে পড়েন এবং পরে কাঁদতে কাঁদতে দর্শকসারিতে পরিবারের কাছে ফিরে যান, যেখানে বাবা তাঁকে জড়িয়ে ধরেন।
এরপর আহমেদ সঠিকভাবে ‘ইমেমোরিয়াল’ বানান করার পর বাকি তিনজনই ভুল করেন। কাহফান্দি ‘অ্যান্টিপেনাল্টিমেট’, ওয়াং ‘পারমিজিয়ানা’ এবং লুমলি ‘জিনিয়ালজি’ শব্দে এক অক্ষরের ব্যবধানে আটকে যান। তাতেই আহমেদের জয় নিশ্চিত হয়।
রানার্সআপ নির্ধারণে আবার প্রতিযোগিতা হয়। ‘গ্র্যান্ডিলোকুয়েন্ট’ শব্দে ওয়াং সঙ্গে সঙ্গে বিদায় নেন। কাহফান্দি ও লুমলি পরের পাঁচ রাউন্ডে হয় দুজনেই সঠিক, নয় দুজনেই ভুল করেন। শেষে কাহফান্দি ‘ভোসিফেরাস’ শব্দে ভুল করলে লুমলি ‘অ্যাপোক্যালিপস’ সঠিকভাবে বানান করে রানার্সআপ হন।
লুমলির দাদি সু বলেন, প্রতিযোগিতাটি ছিল খুবই চাপের, আর লুমলি দেখতে শান্ত ছিলেন। তিনি বলেন, লুমলি অনেক পরিশ্রম করেছে, কয়েকটি শব্দের অর্থ তিনিও জানতেন না, এবং তাঁরা খুব গর্বিত। তৃতীয় হওয়া কাহফান্দি বলেন, কক্ষে প্রচণ্ড চাপ ছিল; দ্বিতীয় হতে না পেরে কিছুটা হতাশ হলেও তৃতীয় স্থানও তাঁর কাছে খুব ভালো অর্জন।
আহমেদ বলেন, জয়ের মুহূর্তে প্রথমে তিনি বুঝতেই পারেননি; বিজয়ী ঘোষণার পর তিনি খুশি হন, এবং তাঁর মতে রানার্সআপদের শব্দগুলো তাঁর শব্দের চেয়ে কঠিন ছিল। আহমেদের মা বলেন, তিনি মাসের পর মাস ছেলেকে প্রশিক্ষণে সাহায্য করেছেন—প্রতি রাতে ঘুমানোর আগে আধা ঘণ্টা করে অনুশীলন হতো। আহমেদ প্রচুর বই পড়ে এবং স্কুলে তিনবারের চ্যাম্পিয়ন ছিল বলেও জানান তিনি।



