বিমানে বোমা হুমকি আর সুপারমার্কেটে সাইবার হামলা: ইউরোপে ‘হাইব্রিড আক্রমণের’ শঙ্কা
ইউরোপজুড়ে একের পর এক বোমা হুমকি আর সাইবার হামলার ঘটনায় নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। এ সপ্তাহে ধারাবাহিক বোমা হুমকির কারণে একাধিক ফ্লাইট বন্ধ রাখতে হয়েছে এবং বিমানবন্দরগুলোতে সর্বোচ্চ সতর্কতা জারি করা হয়েছে। তল্লাশিতে কোনো বিস্ফোরক পাওয়া যায়নি; হুমকিগুলো ভুয়া বলে মনে হচ্ছে।
তবে ব্যাঘাত শুধু বিমান চলাচলে সীমাবদ্ধ নেই। একাধিক দেশের সুপারমার্কেটের ফ্রিজারেও সাইবার হামলা চালিয়েছে হ্যাকাররা। এতে ফ্রিজারের তাপমাত্রা বেড়ে গিয়ে খাবার নষ্ট হয়েছে।
ইতালি বলেছে, ইউরোপের বেসামরিক অবকাঠামো ‘আক্রমণের মুখে’ রয়েছে। এই ঘটনাগুলো একসঙ্গে একটি ব্যাপক হাইব্রিড আক্রমণ অভিযানের আশঙ্কা বাড়িয়ে তুলেছে।
বোমা হুমকির ঘটনায় এ সপ্তাহে ফ্লাইট বাতিল ও বিলম্ব হয়েছে এবং বিমানবন্দরগুলোতে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। তল্লাশি শেষে কোনো বিস্ফোরক না পাওয়ায় কর্তৃপক্ষ হুমকিগুলোকে ভুয়া বলে মনে করছে।
অন্যদিকে সুপারমার্কেটের ফ্রিজারে হামলা চালিয়ে তাপমাত্রা বাড়িয়ে দেওয়ায় মজুত খাবার নষ্ট হয়েছে। এটি সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনকে সরাসরি আঘাত করেছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
এখন প্রশ্ন উঠেছে—এই হুমকি ও হামলার পেছনে কারা রয়েছে? ঘটনাগুলো কি একে অপরের সঙ্গে যুক্ত? আর ইউরোপের দেশগুলো কি একসঙ্গে মিলে এমন আগ্রাসনের মোকাবিলা করতে পারবে?
বিশ্লেষকরা বলছেন, বিমানবন্দর, সুপারমার্কেটের মতো বেসামরিক স্থাপনায় একযোগে হামলার ধরনই হাইব্রিড যুদ্ধের পরিচয় বহন করে। এ ধরনের অভিযানে সরাসরি সামরিক হামলা না চালিয়ে জনজীবনে ব্যাঘাত ও আতঙ্ক সৃষ্টি করাই লক্ষ্য হয়।
এই ঘটনাগুলো নিয়ে আলোচনায় অংশ নিয়েছেন ডায়ামি সিকিউরিটি ইন্টেলিজেন্সের প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান নির্বাহী এরিক শাউটেন, সাইবার ইন্টেলিজেন্স ইনস্টিটিউটের গবেষণা পরিচালক ডেনিস-কেনজি কিপকার এবং বাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিরক্ষা ও নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞ প্যাট্রিক বুরি।
ইউরোপের দেশগুলো এখন এই হুমকির উৎস শনাক্ত করা এবং ভবিষ্যতে এমন হামলা ঠেকাতে সমন্বিত পদক্ষেপ নেওয়ার চেষ্টা করছে।


