আবাসন সংকটের প্রতিবাদে ১১ নভেম্বর স্পেনজুড়ে ২৪ ঘণ্টার ধর্মঘট

স্পেনে আগামী ১১ নভেম্বর ২৪ ঘণ্টার দেশব্যাপী ধর্মঘটের ডাক দেওয়া হয়েছে। আবাসন সংকটের প্রতিবাদে দেশের দুই বৃহত্তম শ্রমিক সংগঠন ইউজিটি ও সিসিওও এই ধর্মঘটের আহ্বান জানিয়েছে। ধর্মঘটের কারণে ফ্লাইট, ট্রেন ও বার্সেলোনার মেট্রো পরিষেবা ব্যাহত হতে পারে।
স্পেনে যাওয়া ভ্রমণকারীদের ফ্লাইট ও ট্রেনের পরিকল্পনা আগেই যাচাই করে নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে। পরিবহন ও আতিথেয়তাসহ বিভিন্ন খাতের শ্রমিকদের ধর্মঘটে যোগ দেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে বলে জানিয়েছে মার্কিন দূতাবাস।
ফ্লাইট, ট্রেন ও স্থানীয় পরিবহনে বিঘ্ন ঘটতে পারে। বড় শহরগুলোতে বিক্ষোভের আশঙ্কা রয়েছে। তবে কোন কোন পরিষেবা বন্ধ থাকবে, তার সব বিবরণ এখনো নিশ্চিত হয়নি।
স্পেন ও অ্যান্ডোরায় অবস্থিত মার্কিন দূতাবাস ও কনস্যুলেটের সতর্কবার্তায় বলা হয়েছে, পিকেট লাইনসহ বিক্ষোভের কারণে শেষ মুহূর্তে দোকান বন্ধ, বাতিল, সড়ক অবরোধ ও পুলিশের উপস্থিতি বাড়তে পারে। দোকান, রেস্তোরাঁ, জাদুঘর ও ফার্মেসিও বন্ধ থাকতে পারে বলে সতর্কবার্তায় জানানো হয়েছে।
সতর্কবার্তায় বলা হয়েছে, 'সারা দেশে পরিকল্পিত ও স্বতঃস্ফূর্ত উভয় ধরনের বিক্ষোভ হবে। শান্তিপূর্ণ উদ্দেশ্যে আয়োজিত বিক্ষোভ, সমাবেশ ও জমায়েতও দ্রুত উত্তপ্ত হয়ে উঠতে পারে বা সহিংস হয়ে ওঠার সম্ভাবনা থাকে।'
কাতালোনিয়া সরকারের ওয়েবসাইট অনুযায়ী, স্থানীয় বিঘ্নের কিছু বিবরণ ইতিমধ্যে জানা গেছে। কাতালোনিয়ায় সকাল ও সন্ধ্যার ব্যস্ত সময়ে—সকাল সাড়ে ৬টা থেকে সাড়ে ৯টা এবং বিকেল সাড়ে ৪টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত—বার্সেলোনার মেট্রো, বাস ও আঞ্চলিক রেল স্বাভাবিক পরিষেবার ২৫ শতাংশ চালু থাকবে।
বার্সেলোনা ও এর বিমানবন্দরের মধ্যে সংযোগকারী বাস স্বাভাবিক পরিষেবার ৫০ শতাংশ চালু থাকবে। ব্যস্ত সময়ের বাইরে যাত্রী পরিবহনে কোনো ন্যূনতম পরিষেবার মাত্রা নির্ধারণ করা হয়নি, তবে তার মানে এই নয় যে সব পরিষেবা বন্ধ থাকবে।
এ ছাড়া রেনফে ট্রেনচালকদের ধর্মঘটের কারণে ১০ ও ১২ নভেম্বর কাতালোনিয়ার কমিউটার ও আঞ্চলিক রেল পরিষেবা ব্যস্ত সময়ে ৬৬ শতাংশ এবং বাকি সময়ে ৩৩ শতাংশ চালু থাকবে।
সম্প্রতি বার্সেলোনায় ক্রুজ যাত্রীদের বন্দরগামী সড়ক অবরোধের পর লাগেজ নিয়ে হেঁটে যেতে হয়েছিল। বন্দর শ্রমিকদের আলাদা এক বিক্ষোভের সময় সড়কটি অবরুদ্ধ করা হয়।
ব্যক্তিগত ফ্লাইট, ট্রেন ও স্থানীয় পরিষেবার ওপর ধর্মঘটের প্রভাব ভিন্ন ভিন্ন হতে পারে। ভ্রমণকারীদের নিজ নিজ এয়ারলাইন, ট্রেন কোম্পানি ও স্থানীয় পরিবহন সংস্থার কাছে সরাসরি খোঁজ নেওয়ার এবং বিমানবন্দর ও স্টেশনে পৌঁছাতে অতিরিক্ত সময় হাতে রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
দূতাবাস মার্কিন নাগরিকদের বিক্ষোভ ও ভিড় এড়িয়ে চলতে, স্থানীয় সংবাদ পর্যবেক্ষণ করতে এবং পুলিশ ও স্থানীয় কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা অনুসরণ করতে বলেছে।
আবাসন ব্যয় নিয়ে বিক্ষোভের মধ্যেই এই ধর্মঘট আসছে। একটি বড় শ্রমিক সংগঠন জানিয়েছে, তাদের আহ্বানের লক্ষ্য আবাসন সংকটে জরুরি পদক্ষেপ, সেই সঙ্গে ভালো মজুরি এবং শ্রম ও সামাজিক সুরক্ষা।
সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে স্পেনজুড়ে বিক্ষোভ ও শ্রমিক আন্দোলনে আরও কয়েকটি বিষয় উঠে এসেছে। এর মধ্যে রয়েছে বাড়তে থাকা ভাড়া ও স্বল্পমেয়াদি ভাড়া, মায়োর্কা ও ইবিজায় পর্যটন সীমিত করার দাবি এবং বার্সেলোনা বন্দর শ্রমিকদের সম্ভাব্য বেতন কাটছাঁট, যাঁদের বিক্ষোভে সাময়িকভাবে ক্রুজ টার্মিনালের প্রবেশপথ বন্ধ হয়ে গিয়েছিল।
ইউরোপের অন্যান্য স্থানেও সাম্প্রতিক বিক্ষোভে আবাসন খরচ, জীবনযাত্রার ব্যয় ও জনসেবার ওপর চাপসহ নানা স্থানীয় অভিযোগ উঠেছে। তবে সেগুলো স্পেনের ধর্মঘটের সঙ্গে যুক্ত কি না, তা নিশ্চিত নয়।


