‘চাঁদাবাজ-মাফিয়াদের হাত থেকে মুক্তি চায় দেশের মানুষ’, চট্টগ্রামে মার্চ ফর ইনসাফে ইনকিলাব মঞ্চ
চাঁদাবাজ, টেন্ডারবাজ ও মাফিয়াদের হাত থেকে বাংলাদেশের মানুষ মুক্তি চায় বলে মন্তব্য করেছেন ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক আবদুল্লাহ আল জাবের।
শুক্রবার (৬ নভেম্বর) দুপুরে চট্টগ্রাম নগরের আন্দরকিল্লা শাহী জামে মসজিদ প্রাঙ্গণ থেকে ‘মার্চ ফর ইনসাফ’ কর্মসূচির অংশ হিসেবে বিক্ষোভ মিছিল বের করে ইনকিলাব মঞ্চ। মিছিলটি জামালখান মোড়ে গিয়ে শেষ হয়। পরে সেখানে আয়োজিত সমাবেশে বক্তব্য দিতে গিয়ে এসব কথা বলেন তিনি।
সমাবেশে আবদুল্লাহ আল জাবের বলেন, জনগণের ভ্যাট-ট্যাক্সের টাকায় ৩ হাজার কোটি টাকা খরচ করে মহাসড়ক নির্মাণের পর এখন বলা হচ্ছে, ভুল হয়েছে। অথচ সারাদিন-রাত পরিশ্রম করে একজন গার্মেন্টস শ্রমিক ৩০ হাজার টাকা বেতন চাইলে তাঁকে লাথি-পেটা করা হয়।
তিনি বলেন, ঢাকা-গাজীপুর মহাসড়ক নির্মাণে ৩ হাজার কোটি টাকা ব্যয় হয়েছে। কাজ প্রায় শেষ হওয়ার পর এখন বলা হচ্ছে, মহাসড়কটির নকশায় ভুল হয়েছে। অথচ এই ৩ হাজার কোটি টাকা দিয়ে অন্তত ১০ লাখ গার্মেন্টস শ্রমিককে এক মাসের ৩০ হাজার টাকা করে বেতন দেওয়া যেত।
জনগণের করের টাকায় বেগমপাড়ায় বাড়ি তৈরি এবং সন্তানদের নিউইয়র্কে পড়তে পাঠানো হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
তিনি আরও বলেন, ‘আমার বোনকে মারবা, আমার ভাইকে গুম করবা, আমার ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে চাঁদাবাজি করবা, আর ক্ষমতায় বসে রংতামাশা করবা — রংতামাশা একদম ছুটায়া ফেলব।’
আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়েও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সমালোচনা করেন ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক। তিনি বলেন, গত আট মাসে দেশে কোনো গুম-খুন হয়নি বলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী যে বক্তব্য দিয়েছেন, তা বাস্তব পরিস্থিতির সঙ্গে সংগতিপূর্ণ নয়।
আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ব্যর্থ হয়েছেন বলে মন্তব্য করেন তিনি; তাঁর নিজের নির্বাচনী এলাকায় ৫০টি গাড়ি থামিয়ে ডাকাতির মতো ঘটনা ঘটেছে। এরপরও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতির কথা বলা হচ্ছে।
চাঁদাবাজির কারণে দেশের বিভিন্ন হাসপাতাল ও স্টুডিও গুঁড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগ তুলে আবদুল্লাহ আল জাবের বলেন, অন্তর্বর্তী সরকারের সময় চাঁদা না দেওয়ায় এক ব্যক্তিকে পাথর দিয়ে থেঁতলে হত্যা করা হয়েছে। এসব ঘটনায় সাধারণ মানুষ নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে।
নারীদের ওপর হামলার প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, পুলিশ আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করতে পারে না, মানুষের ন্যায্য অধিকার ফিরিয়ে দিতে পারে না। অথচ নারীদের ওপর হামলা হচ্ছে।
তাঁর ভাষায়, ‘আমার বোনের গায়ে যে হাত উঠেছে, সেই হাত যদি আমরা ভেঙে ফেলতে না পারি, তাহলে এই জুলাই সফল হয়নি।’
কর্মসূচিতে ইনকিলাব মঞ্চের সদস্যসচিব ফাতিমা তাসনিম জুমা, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (রাকসু) সাবেক সাধারণ সম্পাদক সালাউদ্দিন আম্মারসহ সংগঠনটির নেতা-কর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
