ইরানে আবারও ‘ছোটখাটো’ হামলা চালাল যুক্তরাষ্ট্র, লক্ষ্য আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা: ট্রাম্প

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী শুক্রবার ইরানে নতুন করে সীমিত হামলা চালিয়েছে। একটি আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে লক্ষ্য করে চালানো এই হামলাকে তিনি ‘ছোটখাটো’ (মাইনর) বলে বর্ণনা করেছেন।
ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালিতে অবস্থিত কেশম দ্বীপের সুজা এলাকায় দুটি বিস্্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে। তেল পরিবহনের জন্য গুরুত্বপূর্ণ এই জলপথ ফেব্রুয়ারিতে ইরানে যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে বিঘ্নিত হচ্ছে।
শুক্রবার সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ট্রাম্প বলেন, ‘তারা একটি ছোট আকাশ প্রতিরক্ষা যন্ত্র তৈরি করেছিল, আর আমরা প্রায় ১৫ মিনিটে, হয়তো পাঁচ মিনিটে, তা ধ্বংস করে দিয়েছি।’
এর আগে সোমবার যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী ‘প্রতিরক্ষামূলক’ হামলা চালানোর কথা জানিয়েছিল। সেদিন কেশম ও হেঙ্গাম দ্বীপ এবং কাছের মূল ভূখণ্ডের বন্দর আব্বাস এলাকায় বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গিয়েছিল।
মঙ্গলবারের মধ্যবর্তী নির্বাচনে ট্রাম্পের রিপাবলিকান পার্টির বড় পরাজয়ের পর এটাই প্রথম হামলা। ভোটারদের মধ্যে ইরান যুদ্ধ পরিচালনা নিয়ে অসন্তোষ এবং যুদ্ধের কারণে বেড়ে যাওয়া জ্বালানি মূল্য নিয়ে ক্ষোভ এই পরাজয়ের পেছনে আংশিক ভূমিকা রেখেছে।
গত কয়েক দিনে ট্রাম্প কখনো ইরানকে ‘ধ্বংস’ করে দেওয়ার হুমকি দিয়েছেন, আবার কখনো যুদ্ধের সমাধান নিকটে বলে ইঙ্গিত দিয়েছেন।
ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে মতপার্থক্য এখনো সবচেয়ে কঠিন বিষয় হয়ে আছে। যুদ্ধ শেষ করতে হলে এই বিষয়টির সমাধান করতেই হবে বলে জোর দিয়েছেন ট্রাম্প।
মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড শুক্রবার গভীর রাতে এক্সে দেওয়া এক পোস্টে জানিয়েছে, ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি সম্পর্কে তথ্য দিলে ২০ মিলিয়ন ডলার পর্যন্ত পুরস্কার ও সম্ভাব্য পুনর্বাসনের প্রস্তাব দেওয়া হচ্ছে।
তথ্যের মধ্যে রয়েছে পারমাণবিক স্থাপনা, সরঞ্জাম ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি—বৈজ্ঞানিক সম্প্রদায়সহ—কিংবা এসবের চলাচল সম্পর্কে তথ্য। পোস্টটিতে পররাষ্ট্র দপ্তরের রিওয়ার্ডস ফর জাস্টিস কর্মসূচির লিংক দেওয়া হয়েছে।
শুক্রবার সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ট্রাম্প বলেন, ইরানের সঙ্গে মধ্যস্থতাকারীদের আলোচনা চলছে। ‘আমরা ইরানের সঙ্গে কথা বলছি। বলেই আসছি,’ বলেন তিনি।
গত কয়েক দিনে উপসাগরীয় অঞ্চলের ও তার বাইরের নেতাদের মধ্যে উত্তেজনা কমানোর লক্ষ্যে একের পর এক টেলিফোন আলোচনা হয়েছে। ট্রাম্প যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনীকে ইরানে নতুন হামলা চালানোর নির্দেশ দিতে পারেন কি না, তা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে।
কাতার সরকারের তথ্য অনুযায়ী, মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ শুক্রবার তাঁর কাতারি প্রতিপক্ষ শেখ সাউদ বিন আবদুলরহমান আল থানির সঙ্গে পরিস্থিতি নিয়ে কথা বলেছেন। ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে যুদ্ধ শেষ করতে কাতার মধ্যস্থতা করছে।
কাতার সরকার আরও জানিয়েছে, এর আগে ট্রাম্প ও কাতারের আমিরের মধ্যে উত্তেজনা কমানোর প্রচেষ্টা নিয়ে আলাদা টেলিফোন আলোচনা হয়েছে।


