মজুদ না থাকলেও অনলাইনে পণ্য বিক্রি করা যাবে কি? শরিয়তের বিধান যা বলে
আমাদের একটি অনলাইন শপ আছে। যেখানে আমরা বিজ্ঞাপন দিয়ে বিভিন্ন মেডিকেল প্রোডাক্ট বিক্রি করি। এখন আমরা যদি এমন প্রোডাক্টের বিজ্ঞাপন দিই, যে প্রোডাক্টটা আমাদের মালিকানায় নেই। কিন্তু কেউ অর্ডার করলে আমরা অন্য কারো থেকে কিনে তাকে ডেলিভারি দিই। ডেলিভারির সময় ক্রেতা থেকে মূল্য হস্তগত করে পণ্য হস্তান্তর করে থাকি। এক্ষেত্রে এটা কি জায়েজ হবে?—এমন প্রশ্নের জবাব দেওয়া হয়েছে একটি ধর্মীয় প্রশ্নোত্তরে।
জবাবে বলা হয়েছে, ‘নিজেদের মালিকানায় নেই’ এমন পণ্যের বিক্রির ব্যাপারে হাদিস শরিফে নিষেধাজ্ঞা এসেছে। কারণ, এতে ধোঁকা ও প্রতারণার সম্ভাবনা থাকে। বিক্রেতা পরবর্তীতে পণ্য পাবে কি না বা পেলেও পণ্যের যে গুণাবলির কথা উল্লেখ ছিল, সে ধরনের পণ্য ক্রেতাকে বুঝিয়ে দিতে পারবে কি না—এসবের নিশ্চয়তা কম থাকে।
তাই অনলাইনে হোক বা অফলাইনে, পণ্য বিক্রি করতে চাইলে আগে পণ্য ক্রয় করে নিজের হস্তগত হওয়ার পরই তা অন্যের কাছে বিক্রি করবে বলে জবাবে উল্লেখ করা হয়েছে।
অবশ্য প্রশ্নে উল্লেখিত পদ্ধতিতে বর্তমানে অনলাইনে পণ্য বিক্রির যে প্রচলন রয়েছে সেক্ষেত্রে ক্রেতারা সাধারণত অর্ডার করার সময়ই অবগত থাকে যে, অনেক অনলাইন বিক্রিকারী প্রতিষ্ঠানের কাছে পণ্য মজুদ থাকে না; বরং অর্ডার পাওয়ার পর সে অন্যের কাছ থেকে পণ্য সংগ্রহ করে ডেলিভারি দেয়।
তাই এক্ষেত্রে ক্রেতার অর্ডারটিকে ক্রয় না ধরে সরবরাহের আদেশ হিসাবে গণ্য করা যায় বলে জবাবে বলা হয়েছে। এ হিসাবে তা নাজায়েজ হবে না। এক্ষেত্রে পণ্য ডেলিভারির পর ক্রেতা এর মূল্য প্রদান করে তা বুঝে পাওয়ার মাধ্যমেই বিক্রি সম্পন্ন হয়েছে বলে ধর্তব্য হবে।
তবে মনে রাখতে হবে, এ ধরনের বেচা-কেনাতেও শরীয়তের যাবতীয় নিয়ম-নীতি মেনে চলা আবশ্যক। প্রদর্শিত পণ্য ও সরবরাহকৃত পণ্যের মাঝে যেন কোনো অমিল না হয় তা নিশ্চিত করাও জরুরি বলে জবাবে সতর্ক করা হয়েছে।

