কপ৩১-এর আগে তুরস্কে তরুণ জলবায়ু সম্মেলনে অনড় বাংলাদেশের প্রতিনিধিরা
আন্তর্জাতিক জলবায়ু সম্মেলন কপ৩১-এর আগে তরুণদের ২১তম সম্মেলন (কই২১) অনুষ্ঠিত হচ্ছে তুরস্কের আনতালিয়ায়। বৃহস্পতিবার থেকে শুরু হওয়া এই সম্মেলনে বৈশ্বিক জলবায়ু আলোচনায় বাংলাদেশের তরুণ প্রতিনিধিরা সক্রিয় ভূমিকা রাখছেন।
আকদেনিজ বিশ্ববিদ্যালয়ে আয়োজিত এ সম্মেলনে বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলের তরুণ জলবায়ুকর্মীরা অংশ নিয়েছেন। জাতিসংঘের জলবায়ু বিষয়ক যুব নেটওয়ার্ক ইয়ুঙ্গো (YOUNGO) কপ-৩১ সম্মেলনকে সামনে রেখে তরুণদের অবস্থান ও দাবি-দাওয়া তুলে ধরছে।
নীতিনির্ধারণী আলোচনা, বৈশ্বিক যুব বিবৃতি তৈরি এবং বিভিন্ন অধিবেশনে অংশ নিয়ে তারা জলবায়ু ঝুঁকিতে থাকা দেশগুলোর দাবিগুলো তুলে ধরছেন।
বাংলাদেশের সংগঠন মিশন গ্রিন বাংলাদেশের (এমজিবি) প্রতিনিধি হিসেবে সম্মেলনে অংশ নিয়েছেন আহসান রনি। তিনি নীতিগত আলোচনা, অভিজ্ঞতা বিনিময় এবং বিভিন্ন অধিবেশনে বাংলাদেশের জলবায়ু সংকটের বাস্তব চিত্র তুলে ধরছেন।
আহসান রনি জানান, সম্মেলনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কাজ হলো গ্লোবাল ইয়ুথ স্টেটমেন্ট (জিওয়াইএস) বা বৈশ্বিক যুব বিবৃতি তৈরি। বিশ্বের বিভিন্ন দেশের তরুণদের দাবি ও সুপারিশ নিয়ে তৈরি এই নথি কপ৩১-এর আলোচকদের কাছে তুলে ধরা হবে। এতে জলবায়ু অর্থায়ন, ক্ষয়ক্ষতি মোকাবিলা এবং মানবাধিকারের মতো বিষয়গুলো গুরুত্ব পাচ্ছে।
এই প্রক্রিয়ায় বাংলাদেশের তরুণ প্রতিনিধিদের মধ্যে জাসমিমা সাবাতিনা ও মাহদি ওয়াকিল সক্রিয় ভূমিকা রাখছেন। তারা ইয়ুঙ্গোর পক্ষে বিভিন্ন অধিবেশনে অংশ নিয়ে জলবায়ু পরিবর্তনে ক্ষতিগ্রস্ত বাংলাদেশের মানুষের বাস্তব সমস্যাগুলো তুলে ধরছেন।
এ ছাড়া জাতিসংঘ মহাসচিবের যুববিষয়ক উপদেষ্টা দলের সদস্য ফারজানা ফারুক ঝুমু এবং আরকই লিড মাহবুবুল আলম তামিম তরুণদের জবাবদিহি ও জলবায়ু অভিযোজন নিয়ে একটি অধিবেশন পরিচালনা করেছেন। আন্তর্জাতিক আয়োজক দলের সদস্য হিসেবে সম্মেলন পরিচালনায় কাজ করছেন বাংলাদেশের আশিক ইকবাল।
সম্মেলনে এমজিবি, আরকই এশিয়া-প্যাসিফিক ২০২৬ এবং সিক্টো বাংলাদেশের যৌথ উদ্যোগে ‘ডিফাইনিং এশিয়া-প্যাসিফিক ইয়ুথ রেড লাইনস’ শীর্ষক একটি অধিবেশন অনুষ্ঠিত হয়। এতে সহযোগী ছিল মিশন গ্রিন বাংলাদেশ। যেখানে এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের তরুণ প্রতিনিধিরা জলবায়ু আলোচনায় তাদের কয়েকটি অনড় অবস্থান তুলে ধরেন। এর মধ্যে রয়েছে ক্ষয়ক্ষতি মোকাবিলায় ঋণের পরিবর্তে সরাসরি অনুদান, জীবাশ্ম জ্বালানি থেকে ন্যায্য উত্তরণ এবং জাতীয় পর্যায়ের সিদ্ধান্ত গ্রহণে তরুণদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা।
সম্মেলনে বাংলাদেশের উপকূলীয় এলাকায় লবণাক্ততা বৃদ্ধি এবং আকস্মিক বন্যায় কৃষকের ফসলহানির মতো সমস্যাগুলোও আলোচনায় উঠে আসে। তরুণ প্রতিনিধিদের মতে, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলায় শুধু প্রতিশ্রুতি নয়, কার্যকর পদক্ষেপ ও অর্থায়ন প্রয়োজন।
কই২১ সম্মেলনের আলোচনা শেষে তৈরি হবে বৈশ্বিক যুব বিবৃতি। তরুণ প্রতিনিধিরা আশা করছেন, তাদের দাবিগুলো কপ৩১-এর আলোচনায় গুরুত্ব পাবে। তাদের বক্তব্য, জলবায়ু সংকট মোকাবিলায় তরুণেরা আর শুধু আলোচনার অংশ হতে চান না। তারা সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়াতেও কার্যকর ভূমিকা রাখতে চান।

