বিয়ের পর একসঙ্গে থাকার আগেই স্ত্রী মারা গেলে মোহর দিতে হবে কি? যা বলছে ইসলামি বিধান
স্বামীর জন্য স্ত্রীর মোহরানা আদায় করা ওয়াজিব। পবিত্র কোরআনে আল্লাহ তায়ালা বলেছেন, 'আর মুমিন সচ্চরিত্রা নারী ও তোমাদের আগে যাদেরকে কিতাব দেওয়া হয়েছে তাদের সচ্চরিত্রা নারীদেরকে তোমাদের জন্য বৈধ করা হল, যদি তোমরা তাদের মোহর প্রদান কর বিয়ের জন্য, প্রকাশ্য ব্যভিচার বা গোপন প্রণয়িনী গ্রহণকারী হিসেবে নয়।' (সুরা মায়েদা, আয়াত: ৫)
অন্যত্র বর্ণিত হয়েছে, 'তোমরা তাদেরকে বিয়ে করলে তোমাদের কোনো অপরাধ হবে না যদি তোমরা তাদেরকে তাদের মোহর দাও।' (সুরা মুমতাহিনা, আয়াত: ১০)
প্রশ্ন ওঠে—বিয়ের পর স্বামী-স্ত্রী একসঙ্গে থাকার এবং সহবাসের আগে যদি স্ত্রী মারা যান, তাহলে কি স্বামীর জন্য স্ত্রীর দেনমোহর আদায় করা ওয়াজিব?
ইসলামি বিধানমতে, বিয়ের পর স্ত্রীর সঙ্গে স্বামীর কোনো দেখা-সাক্ষাৎ না হলেও স্ত্রীর মৃত্যুর পর ধার্যকৃত পূর্ণ মোহর আদায় করা স্বামীর ওপর আবশ্যক। কারণ বিবাহের পর স্বামী-স্ত্রী উভয়ের কোনো একজন মারা গেলে এর পূর্বে তাদের পরস্পর নির্জনবাস না হলেও এক্ষেত্রে ধার্যকৃত পূর্ণ মোহরই স্বামীর ওপর ওয়াজিব হয়ে যায়।
অবশ্য অনাদায়ী মোহরের টাকা এখন স্ত্রীর মীরাছ সম্পত্তি হিসেবে গণ্য হবে। আর মীরাছ অনুযায়ী স্বামীও স্ত্রীর অর্ধেক সম্পদের হকদার, তাই দেনমোহর পরিশোধের আগে স্ত্রী মারা গেলে মোহরের অর্ধেক পরিশোধ করলেও হবে।
যেমন, কেউ বিয়েতে ৪ লাখ টাকা দেনমোহর নির্ধারণ করলো এবং এরপর স্বামী-স্ত্রী একসঙ্গে বসবাস বা সহবাসের আগেই স্ত্রী মারা গেল, তাহলে স্বামী চাইলে চার লাখ টাকা পুরোটাই আদায় না করে অর্ধেক অর্থাৎ দুই লাখ টাকা রেখে দিয়ে স্ত্রীর ওয়ারিশদেরকে শুধু বাকি দুই লাখ টাকা দিলেই হবে।
অর্থাৎ ধার্যকৃত পূর্ণ মোহর স্বামীর ওপর ওয়াজিব হলেও মীরাছের হিসাবের কারণে বাস্তবে অর্ধেক পরিশোধ করলেই দায়িত্ব আদায় হয়ে যায়, কারণ বাকি অর্ধেকের মালিক হিসেবে স্বামী নিজেই ওয়ারিশ।

