মরক্কোর সৈকতে ধাতব শনাক্তকারী যন্ত্রে লুকানো ধন খুঁজছেন সৈকতপ্রেমীরা
মরক্কোর আগাদিরের কর্নিশ সৈকতে বালির ওপর দিয়ে ধীরে ধীরে ধাতব শনাক্তকারী যন্ত্র ঘোরাচ্ছেন মুস্তফা হারমুশ। তীরের বাইরে সার্ফাররা ঢেউয়ে ভাসছে, শিশুরা চিৎকার করছে, পরিবারগুলো গল্প করছে — কিন্তু হারমুশের মনোযোগ কেবল এক শব্দের দিকে: সেই বিপ, যা জানায় যন্ত্রের কয়েলের নিচে বালির তলায় কিছু লুকিয়ে আছে।
৩৩ বছর বয়সী এই কনটেন্ট নির্মাতার কাছে এই অনিশ্চয়তাই পুরো আকর্ষণ। যন্ত্রটি ধন আর আবর্জনার মধ্যে পার্থক্য করতে পারে না; নিচে মুদ্রা, আংটি, ফেলে দেওয়া অ্যালুমিনিয়ামের টুকরো বা পুরোনো মাছ ধরার সরঞ্জাম — যা-ই থাকুক, একই সংকেত দেয়।
'বালির নিচে কী আছে, তা না জানার মধ্যেই উত্তেজনার একটা অংশ আছে', আল জাজিরাকে বলেন হারমুশ।
প্রায় চার বছর আগে তিনি অনলাইনে একটি তিয়ানশুন টিএক্স ৮৫০ ধাতব শনাক্তকারী যন্ত্র কিনেছিলেন। শখ হিসেবে শুরু হওয়া এই কাজ এখন তার ইউটিউব চ্যানেল স্টোফিশিংয়ের ভিডিওর অংশ, যেখানে ভ্রমণ ও মাছ ধরার ভিডিও থাকে এবং প্রায় এক লাখ ২৩ হাজার সাবস্ক্রাইবার রয়েছে।
'এটা একটা সুন্দর শখ, কারণ এ ধরনের অনুসন্ধানে আমি কিছু খুঁজে পাই এবং নতুন কিছু শিখি', বলেন তিনি। 'প্রতিটি অভিযানই এমন কিছুর সঙ্গে দেখা হওয়ার সুযোগ, যা আমি নইলে কখনো জানতাম না।'
এই কৌতূহল তাকে পুরোনো মুদ্রার সন্ধান দিয়েছে, যার মধ্যে আল হাউজ অঞ্চল ও ফেজের মতো ঐতিহাসিক সময় ও জায়গার সঙ্গে যুক্ত মুদ্রাও আছে।
আগাদির থেকে প্রায় ৬৫ কিলোমিটার দক্ষিণে উপকূলীয় শহর সিদি উয়াসায়ে তিনি তার বিরলতম আবিষ্কারগুলোর একটি পান: এক জায়গায় ১৪টি মরক্কান ফালুস, পুরোনো ব্রোঞ্জ বা তামার মুদ্রা।
কিছু মুদ্রা লবণ ও সময়ের কারণে এতটাই ক্ষতিগ্রস্ত ছিল যে তার লেখা সহজে পড়া যাচ্ছিল না, তবে হারমুশ বলেন, সবচেয়ে পুরোনোটি হিজরি ১২৮৯ সালের।
হারমুশের কাছে মুদ্রাগুলোর মূল্য দামের চেয়ে বেশি — এগুলো অতীত সম্পর্কে যা জানায়, সেটাই আসল। 'আমি এগুলো শুধু স্মৃতি হিসেবে সংগ্রহ করি', চোখে ঝিলিক নিয়ে বলেন তিনি।
একই এলাকায় তিনি একবার উল্কাপিণ্ড ভেবে একটি সাধারণ, সস্তা খনিজ পেয়েছিলেন। 'জিজ্ঞেস করার আগে ভেবেছিলাম, সেরা আবিষ্কারটাই পেয়ে গেছি', হেসে বলেন তিনি।
টাগাজাউটে তিনি একবার একটি ছোট সোনার আংটি পেয়েছেন। সৈকত থেকে গয়না, মরক্কান মুদ্রা ও বিদেশি মুদ্রাও পাওয়া গেছে, যার মধ্যে একটি ফরাসি ২০ ফ্রাঁ রৌপ্য মুদ্রাও আছে। 'হারানো মূল্যবান জিনিস সবসময় তার প্রকৃত মালিকের কাছে ফিরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করি', বলেন হারমুশ।
তিনি মাসে প্রায় চারবার শনাক্তকারী যন্ত্র নিয়ে বের হন, প্রায়ই মরক্কান অ্যাসোসিয়েশন ফর রিসার্চ অ্যান্ড এক্সপ্লোরেশন এনথুজিয়াস্টসের সদস্যদের সঙ্গে। টাগাজাউট ও আগাদিরের কর্নিশ তার পছন্দ, কারণ সেখানে আবর্জনা কম।
মরক্কোর ঐতিহাসিক স্মৃতিস্তম্ভ, প্রত্নতাত্ত্বিক স্থান, শিল্পকর্ম ও পুরাকীর্তি রক্ষার প্রধান আইনি কাঠামো হলো আইন ২২-৮০, যা প্রত্নতাত্ত্বিক অনুসন্ধান ও ঐতিহাসিক আবিষ্কারের বিষয়টি নিয়ন্ত্রণ করে। সরকার আবারও জানিয়েছে, স্থলে বা সমুদ্রে অননুমোদিত প্রত্নতাত্ত্বিক অনুসন্ধান নিষিদ্ধ।
আইন অনুযায়ী, ঐতিহাসিক, প্রত্নতাত্ত্বিক বা নৃতাত্ত্বিক গুরুত্বের স্মৃতিস্তম্ভ বা চলনশীল বস্তু খুঁজে বের করার উদ্দেশ্যে অনুসন্ধানের জন্য অনুমোদন লাগে, আর দুর্ঘটনাবশত কোনো আবিষ্কার হলে তা জানানোর বাধ্যবাধকতা আছে। কোনো অ-প্রত্নতাত্ত্বিক কাজের সময় স্মৃতিস্তম্ভ, মুদ্রা, শিল্পকর্ম বা পুরাকীর্তি পাওয়া গেলে তা কর্তৃপক্ষকে জানাতে হয়। সুরক্ষার প্রয়োজনে ছাড়া সেগুলো ক্ষতিগ্রস্ত বা সরানো যাবে না।
মরক্কোর উপকূলে প্রত্নতত্ত্ববিদরা বলেন, কোনো বস্তু কোথায় পাওয়া গেছে, সেই প্রসঙ্গ বস্তুটির মতোই গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে। পানির নিচের প্রত্নতত্ত্ববিদ বাসমা উমাইমা ব্যাখ্যা করেন, 'কখনো কখনো ধাতুর একটি সাধারণ টুকরো, একটি মুদ্রা বা একটি ছোট যন্ত্রও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে, কারণ সেটা কোথায় পাওয়া গেছে এবং তার আশপাশে কী ছিল'।
তিনি বলেন, 'এর মানে এই নয় যে কৌতূহলকে নিরুৎসাহিত করা উচিত। সঠিক প্রত্নতাত্ত্বিক জরিপের অংশ হিসেবে ব্যবহার করা হলে ধাতব শনাক্তকারী যন্ত্র আসলে প্রত্নতত্ত্বে কার্যকর হতে পারে, যেখানে প্রতিটি আবিষ্কার তার প্রসঙ্গসহ স্থান নির্ধারণ, নথিভুক্ত ও অধ্যয়ন করা হয়।'
হারমুশ বলেন, তিনি আইন মানেন। সংস্থার সদস্যরা পরিচয়পত্র বহন করেন, ব্যক্তিগত সম্পত্তি ও ঐতিহ্যবাহী স্থান এড়িয়ে চলেন এবং শনাক্তকরণকে পেশা নয়, শখ হিসেবে দেখেন। তার আয়ের প্রধান উৎস কনটেন্ট তৈরি ও মাছ ধরার সরঞ্জামের দোকান।
মোহাম্মদ বোতাইবের কাছে ধাতব শনাক্তকরণ কখনোই আয়ের প্রধান উৎস ছিল না। সাবেক ক্রীড়া কোচ, বর্তমানে কাজ খুঁজছেন, তিনি শখ হিসেবে সৈকত, বন ও পাহাড়ে খোঁজেন। তার আবিষ্কার সাধারণ: সাধারণ মুদ্রা, মরক্কান দিরহাম ও আংটি।
আরেক শনাক্তকারী জালাল জেগনুনের কাছে অবাঞ্ছিত ধাতু সরানো শখের একটি ব্যবহারিক দিক। তার যন্ত্রে মুদ্রা, গয়না, চশমা ও ঘড়ির পাশাপাশি মরচে ধরা সার্ডিনের ক্যানের টুকরো, পেরেক ও হারানো মাছ ধরার সরঞ্জামও উঠেছে। 'আমি এসব বস্তু সৈকত থেকে সরাই, কারণ কিছু কিছু সৈকতে আসা মানুষের জন্য বিপজ্জনক হতে পারে', বলেন তিনি।
ক্যাসাব্লাঙ্কায় পূর্ণকালীন রক্ষণাবেক্ষণ প্রযুক্তিবিদ হিসেবে কাজ করা জেগনুন অবসর সময়ে বা সন্ধ্যায় সীমিত সময়ের জন্য ধাতব শনাক্তকরণে যান। 'যারা এই শখ চর্চা করেন, তাদের সঙ্গে দেখা হওয়া ও তারা যা পেয়েছেন তা ভাগ করে নেওয়াও আমি উপভোগ করি', বলেন তিনি।
'আমরা যখন সৈকতের দিকে তাকাই, তা ধন খুঁজতে নয়', বলেন বোতাইব। 'এটা আমাদের সৈকত পরিষ্কার রাখতে অবদান রাখারও একটি উপায়। আমরা যে ধাতব ও অ্যালুমিনিয়ামের টুকরো পাই, তা তুলে ফেলে দিই।'

