প্রায় দেড় হাজার ইইউ নাগরিকের বসবাসের অধিকার কেড়ে নেওয়ায় হোম অফিসের বিরুদ্ধে মামলা

ব্রেক্সিট-পরবর্তী চুক্তি লঙ্ঘনের অভিযোগে যুক্তরাজ্যের হোম অফিসের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে; প্রায় দেড় হাজার ইইউ নাগরিকের যুক্তরাজ্যে বসবাসের পূর্ণ অধিকার কেড়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে।
প্রচারণা গোষ্ঠী দ্য থ্রি মিলিয়ন শুক্রবার হাইকোর্টে এ সংক্রান্ত কাগজপত্র জমা দিয়েছে। ব্রেক্সিটের পর যেসব ইইউ নাগরিককে দেশে থাকার জন্য প্রি-সেটেলড স্ট্যাটাস দেওয়া হয়েছিল, সম্প্রতি তাদের কয়েকজনকে জানানো হয়েছে যে সেই সিদ্ধান্তগুলো ছিল একটি ‘ভুল’।
দাবির বিবরণ অনুযায়ী, প্রি-সেটেলড স্ট্যাটাস পাওয়া নাগরিকদের সব বা কিছু অধিকার কেড়ে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে ব্রেক্সিট প্রত্যাহার চুক্তির অধীনে প্রয়োজনীয় ‘পদ্ধতিগত সুরক্ষা’ ছাড়াই।
এই সুরক্ষাগুলোর মধ্যে রয়েছে আপিলের অধিকার এবং ‘আনুপাতিকতা’র মূল্যায়ন, যা নির্ধারণ করবে হোম অফিসের মূল সিদ্ধান্তের ভিত্তিতে যারা যুক্তরাজ্যে জীবন গড়েছেন, তাদের ক্ষেত্রে অধিকার কেড়ে নেওয়া যথাযথ কি না।
ক্ষতিগ্রস্তদের মধ্যে রয়েছেন একজন ৩৩ বছর বয়সী ব্রাজিলিয়ান-ইতালীয় প্রকৌশলী, যিনি ২০১৮ সাল থেকে লন্ডনে আছেন। প্রথমে তাকে জানানো হয়েছিল, তার সেটেলড স্ট্যাটাস পাওয়া উচিত হয়নি: তিনি থাকতে পারবেন, কিন্তু তার ব্রাজিলিয়ান স্ত্রী পারবেন না। আপত্তি জানানোর পর গত কয়েক সপ্তাহে সেই সিদ্ধান্ত বদলে গেছে।
আরেকজন ক্ষতিগ্রস্ত নারী এনএইচএসে কাজ করেন এবং দন্তচিকিৎসায় পিএইচডি করছেন। তিনি বলেছেন, হোম অফিসের নোটিশ তার জীবন ‘উল্টে দিয়েছে’।
২০২৬ সালের অক্টোবরে হোম অফিস স্বীকার করেছে, কোনো ব্যক্তি ইতালীয় নাগরিকত্বের প্রমাণের সঙ্গে জুস স্যাংগুইনিসের মাধ্যমে তা পাওয়ার প্রমাণ দিলে, এখন থেকে তাকে জন্ম থেকেই ইতালীয় বলে মানা হবে।
এর আগে বেশ কয়েকজন ব্রাজিলিয়ান-ইতালীয়কে বলা হয়েছিল, আবেদনের সময় তারা ইতালীয় পাসপোর্ট দেখাননি, শুধু নিজেদের ইতালীয় নাগরিক বলে জানিয়েছিলেন বলে তাদের ‘ভুলে’ স্ট্যাটাস দেওয়া হয়েছে।
দ্য থ্রি মিলিয়নের ভারপ্রাপ্ত প্রধান নির্বাহী মনিক হকিন্স বলেন, ‘হোম অফিস গাড়ির আগে ঘোড়া জুড়ছে। প্রত্যাহার চুক্তি যে সুরক্ষা দেয়—ন্যায্য মূল্যায়ন ও আপিলের অধিকার—তা সে দিচ্ছে না, কারণ তার মতে তারা চুক্তির আওতায় ‘স্পষ্টতই’ পড়ে না। এটা এমন বলার মতো যে কারও বিচারের প্রয়োজন নেই, কারণ সে ‘স্পষ্টতই’ দোষী।’ হকিন্স বলেন, জুস স্যাংগুইনিসের মাধ্যমে ইতালীয় নাগরিকদের বিষয়ে হোম অফিসের অবস্থান বদল প্রমাণ করে, ভুল ধরা পড়লে নীতি বদলানো যায়।
তিনি আরও বলেন, ‘এটি যথাযথ প্রক্রিয়া দেওয়ার একটি সহজ বিষয়। ২০২৫ সালের শুরু থেকে আমাদের প্রচেষ্টা সত্ত্বেও হোম অফিস পথ বদলাতে অস্বীকার করেছে, তাই নীতিটিকে আদালতে চ্যালেঞ্জ করা ছাড়া আমাদের আর কোনো উপায় নেই।’
প্রচারণা গোষ্ঠীটি আদালতের কাছে ‘ভুলে অনুমোদন’ নীতিকে প্রত্যাহার চুক্তি ও সাধারণ আইন লঙ্ঘনে বেআইনি ঘোষণা করার এবং প্রকাশিত নীতির আপত্তিকর অংশগুলো বাদ দেওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় আদেশ দেওয়ার আবেদন জানিয়েছে।
অনেকে অভিযোগ করেছেন, তারা জুস স্যাংগুইনিসের মাধ্যমে—অর্থাৎ সরাসরি ও অবিচ্ছিন্ন ইতালীয় আত্মীয়ের সূত্রে—ইতালীয় নাগরিক হলেও করোনাভাইরাস মহামারির সময় লকডাউনে সরকারি প্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকায় পাসপোর্ট পাননি।
আইনজীবীরা আরও যুক্তি দিয়েছেন, ব্রেক্সিটের পর থাকার আবেদনে যুক্তরাজ্য ইচ্ছাকৃতভাবে প্রমাণের প্রয়োজন কমিয়ে উদার নীতি নিয়েছিল, যা বর্তমানে অধিকার কেড়ে নেওয়ার নীতিকে আরও জটিল করে তুলেছে।
হকিন্স বলেন, ‘কিছু ক্ষেত্রে প্রমাণের নমনীয়তা এবং বিবেচনামূলক সিদ্ধান্তের মাধ্যমে অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। ফলে অনেক স্ট্যাটাসধারী জানতে পারেন না এবং জানার কোনো উপায়ও দেওয়া হয় না যে তাদের স্ট্যাটাস দেওয়া হয়েছে প্রত্যাহার চুক্তির শর্ত পূরণ করায়, দেশীয় আইনের শর্ত পূরণ করায়, কেসওয়ার্কারের প্রমাণের নমনীয়তা বা বিবেচনার কারণে, নাকি সত্যিই ভুলে।’ ইতালীয় আইনে ইতালীয় বাবা-মা বা দাদা-দাদির সন্তান জন্মসূত্রেই ইতালীয় নাগরিক। তবু হোম অফিস অভিযোগ করেছে, আবেদনের সময় ইতালীয় পাসপোর্ট না থাকায় তারা ইতালীয় ছিলেন না।
প্রত্যাহার চুক্তি বাস্তবায়ন নিয়ে হোম অফিসের বিরুদ্ধে এটিই প্রথম মামলা নয়। ২০২২ সালে চুক্তি সঠিকভাবে বাস্তবায়ন হচ্ছে কি না তা তদারকির জন্য গঠিত স্বাধীন তদারকি কর্তৃপক্ষ, দ্য থ্রি মিলিয়নের সমর্থনে, হোম অফিসের বিরুদ্ধে মামলা করেছিল। তখন অভিযোগ ছিল, প্রি-সেটেলড স্ট্যাটাসের মেয়াদ শেষে পুনরায় আবেদন করতে বাধ্য করে ইইউ নাগরিকদের কাজ বা বাড়ি ভাড়া করার অধিকার হারানোর ঝুঁকিতে ফেলা হচ্ছে। হাইকোর্টের বিচারকরা তদারকি কর্তৃপক্ষের পক্ষে রায় দেন এবং আরোপিত শর্তগুলো বেআইনি বলে সিদ্ধান্ত দেন।
হোম অফিসের একজন মুখপাত্র বলেছেন, মামলা চলমান থাকায় এ বিষয়ে তারা মন্তব্য করতে পারবেন না।




