নিউগিনি প্রপার্টিজে আবার হামলা-ভাঙচুর, গ্রেপ্তার ১৪

রাজধানীর ক্যান্টনমেন্টের ইসিবি চত্বর এলাকায় নিউগিনি প্রপার্টিজের ভেতরে আবার হামলা, ভাঙচুর ও মারামারির ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় ১০ জন পুরুষ ও চারজন নারীসহ ১৪ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
আজ শনিবার বিকেল ৪টা ১০ মিনিটের দিকে ক্যান্টনমেন্ট থানাধীন এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। পরে ঢাকা মহানগর পুলিশের উপকমিশনার (মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশনস) মো. আকতার হোসেন এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানান।
স্থানীয় সূত্রের বরাত দিয়ে পুলিশ জানায়, জমি কেনাবেচা নিয়ে আর্থিক বিরোধের জেরে এ ঘটনার সূত্রপাত।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, দেশীয় অস্ত্র নিয়ে ১০০ থেকে ১৫০ জনের একটি দল নিউগিনি প্রপার্টিজের ভেতরে প্রবেশ করে। এরপর সেখানে ভাঙচুর ও মারামারি শুরু হয়। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং ১৪ জনকে গ্রেপ্তার করে।
পুলিশ জানায়, মারামারিতে গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে তিনজনের অবস্থা গুরুতর। তাঁদের উদ্ধার করে কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
এর আগে গত ২৬ সেপ্টেম্বর রাতেও নিউগিনি প্রপার্টিজের আবাসন প্রকল্পে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনা ঘটে। ওই সময় কনটেন্ট ক্রিয়েটর সালমান মুক্তাদিরের স্টুডিওতেও ভাঙচুর ও লুটপাট করা হয়। এ ঘটনায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সালমান মুক্তাদিরের প্রকাশ করা ভিডিও ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়।
ওই হামলার ঘটনার অন্যতম 'সমন্বয়ক' হিসেবে চিহ্নিত মো. যুবরাজকে এখনো গ্রেপ্তার করতে পারেনি ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)।
তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, মিরপুরের দুটি সন্ত্রাসী বাহিনীর সদস্যদের নিয়ে হামলার সমন্বয় করেন ভাষানটেক থানা বিএনপির আহ্বায়ক মো. ইব্রাহিম ওরফে 'কিলার' ইব্রাহিমের বাহিনীর সদস্য যুবরাজ।
তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, গত ২৬ সেপ্টেম্বরের হামলার দিন ইসিবি চত্বরের একটি খাবারের দোকানে বসে ১৩ জন হামলার পরিকল্পনা করেন। এ সময় মামলার ১ নম্বর আসামি শাহরিয়ার মাহমুদ মো. ইব্রাহিমের সঙ্গে যোগাযোগ করে হামলার জন্য এক কোটি টাকার চুক্তি করেন। পরে ইব্রাহিম লোকজন সংগ্রহ করে হামলার দায়িত্ব দেন যুবরাজকে।
ওই ঘটনায় হামলার পরিকল্পনা ও সরাসরি অংশ নেওয়ার অভিযোগে এ পর্যন্ত ১১ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাঁদের মধ্যে আটজন জামিনে মুক্তি পেয়েছেন। তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, হামলায় জড়িত আরও ৯ জনকে শনাক্ত করা হয়েছে। তাঁদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।



