যুক্তরাষ্ট্রে প্রথম ডিজিটাল বিমান চলাচল নিয়ন্ত্রণ টাওয়ার চালু, ফ্লোরিডা ও আলাস্কায় শুরু

যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল এভিয়েশন অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (এফএএ) জানিয়েছে, দেশে প্রথমবারের মতো ডিজিটাল বিমান চলাচল নিয়ন্ত্রণ টাওয়ার আনুষ্ঠানিকভাবে চালু হয়েছে। ফ্লোরিডা ও আলাস্কার ছোট বিমানবন্দরে নতুন এই প্রযুক্তি প্রথম চালু করা হলো।
ফ্লোরিডার বারটো এক্সিকিউটিভ বিমানবন্দর (কেবিওডব্লিউ) ও আলাস্কার কেনাই মিউনিসিপ্যাল বিমানবন্দরে (পিএইএন) এই ব্যবস্থা এখন চালু রয়েছে। আরও পাঁচটি আঞ্চলিক বিমানবন্দরে এই প্রযুক্তি দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।
ডিজিটাল টাওয়ারে উন্নত ক্যামেরা ব্যবস্থা ও ডিজিটাল পর্দা ব্যবহার করা হয়। এর মাধ্যমে নিয়ন্ত্রকেরা রানওয়ে, ট্যাক্সিওয়ে ও আশপাশের আকাশসীমাসহ বিমানবন্দরের কার্যক্রমের ৩৬০ ডিগ্রি দৃশ্য দেখতে পান বলে জানিয়েছে সংস্থাটি।
এফএএ বলছে, এই প্রযুক্তি মানব নিয়ন্ত্রকদের প্রতিস্থাপনের জন্য নয়। বরং নিয়ন্ত্রকদের আরও বেশি দৃশ্যমানতা ও অতিরিক্ত তথ্য দিয়ে তাঁদের বর্তমান দায়িত্ব পালনে সহায়তা করাই এর উদ্দেশ্য।
এফএএর প্রশাসক ব্রায়ান বেডফোর্ড এক বিবৃতিতে বলেন, ‘আমাদের বিমান চলাচল নিয়ন্ত্রকেরা বিমান নিরাপদে আলাদা রাখার গুরুত্বপূর্ণ কাজটি করে যাচ্ছেন, আর আমরা তাঁদের সেই কাজের জন্য আরও ভালো প্রযুক্তি দিচ্ছি।’ তিনি আরও বলেন, ডিজিটাল টাওয়ার নিয়ন্ত্রকদের বিমানবন্দরের কার্যক্রম সম্পর্কে আরও বেশি দৃশ্যমানতা ও গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়ার জন্য আরও তথ্য দেবে।
বেডফোর্ড আগামী সপ্তাহে প্রতিনিধি পরিষদের পরিবহন ও অবকাঠামো কমিটির সামনে হাজির হওয়ার কথা রয়েছে। সেখানে প্রশাসনের ১ হাজার ২৫০ কোটি ডলারের আধুনিকায়ন উদ্যোগের অগ্রগতি ও চ্যালেঞ্জ নিয়ে তাঁকে প্রশ্নের মুখে পড়তে হবে।
এই উদ্যোগের লক্ষ্য বিমান চলাচল ব্যবস্থায় এখনো ব্যবহৃত কয়েক দশকের পুরোনো যন্ত্রপাতি বদলে ফেলা। এর মধ্যে রয়েছে তামার টেলিযোগাযোগ লাইন, ফ্লপি ডিস্ক ও বিমান চলাচল পর্যবেক্ষণে ব্যবহৃত কাগজের স্ট্রিপ।
২০২৫ সালের জুনে কংগ্রেস পাঁচ বছরে বিমান চলাচল নিয়ন্ত্রণ সংস্কারে ১ হাজার ২৫০ কোটি ডলার অনুমোদন করে। তবে ট্রাম্প প্রশাসন আরও উন্নয়নের জন্য আইনসভার কাছে আরও ৩ হাজার কোটি ডলার চাইছে।
বিমান চলাচল নিয়ন্ত্রণে কী ধরনের প্রযুক্তি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে, তা নিয়ে উদ্বেগও বাড়ছে। সেপ্টেম্বরে এফএএ ‘স্ট্র্যাটেজিক ম্যানেজমেন্ট অব এয়ারস্পেস, রুটস অ্যান্ড ট্র্যাজেক্টরিজ’ (স্মার্ট) নামে একটি নতুন কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা সফটওয়্যার চালু করে।
গত বছরের সরকারি শাটডাউনের পর বিমান চলাচল নিয়ন্ত্রকের জাতীয় ঘাটতি নিয়ে ট্রাম্পের প্রতিক্রিয়া ব্যাপক সমালোচনার মুখে পড়ে।
নিয়ন্ত্রণ টাওয়ারে জনবল ও যুক্তরাষ্ট্রের বিমান নিরাপত্তা ব্যবস্থার অনেক দিক ২০২৫ সালে ওয়াশিংটন ডিসির উপকণ্ঠে একটি যাত্রীবাহী বিমান ও সামরিক হেলিকপ্টারের মধ্যে মাঝআকাশে সংঘর্ষের পর বিশেষ নজরে আসে। ওই দুর্ঘটনায় ৬৭ জন নিহত হন। এটি ছিল ২০ বছরের বেশি সময়ের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে প্রাণঘাতী দুর্ঘটনা। পরে কর্তৃপক্ষ একে ‘শতভাগ প্রতিরোধযোগ্য’ বলে অভিহিত করে।



