ইরানের অবরোধ ভাঙতে যাওয়া আরেকটি জাহাজ অচল করল যুক্তরাষ্ট্র

ইরানের বন্দরগুলোর ওপর যুক্তরাষ্ট্রের নৌ অবরোধ ভাঙার চেষ্টা করা আরেকটি জাহাজ অচল করে দিয়েছে মার্কিন বাহিনী।
মার্কিন কেন্দ্রীয় কমান্ড (সেন্টকম) জানায়, একটি বিমান থেকে গুলি চালিয়ে এমভি হুদা নামের পণ্যবাহী জাহাজের পেছনের অংশে আঘাত করা হয়। জুলাইয়ে অবরোধ শুরুর পর এ নিয়ে ১১তম জাহাজ অচল করা হলো।
ফেব্রুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলায় ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ শুরু হয়। শুরুর হামলায় সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনিসহ ইরানের শীর্ষস্থানীয় অনেক কর্মকর্তা ও কমান্ডার নিহত হন।
২৮ ফেব্রুয়ারি প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের বিরুদ্ধে 'বড় ধরনের যুদ্ধ অভিযান' ঘোষণা করেন।
জুনে যুদ্ধ শেষের লক্ষ্যে একটি সমঝোতা স্মারকে সই করলেও যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে আলোচনা থমকে আছে। দুই পক্ষের মধ্যে হামলা-পাল্টা হামলা চলছে, তবে যুদ্ধের শুরুর দিকের তীব্র লড়াই আর ফিরে আসেনি।
যুক্তরাষ্ট্র বলছে, তারা পারস্য উপসাগর ও ওমান উপসাগরের বন্দরগুলোতে নৌ অবরোধ কার্যকর করছে। অন্যদিকে ইরান বলছে, কৌশলগত হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ তাদের হাতে রয়েছে এবং জলপথে চলাচলকারী জাহাজে তারা হামলা চালিয়ে যাচ্ছে।
শনিবার ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোরের (আইআরজিসি) নৌবাহিনী এক বিবৃতিতে জানায়, হরমুজ প্রণালির পূর্বে মাইনের আঘাতে দুটি তেলের ট্যাংকারে বিস্ফোরণ ঘটে আগুন ধরে যায়। ইসলামিক রিপাবলিক নিউজ এজেন্সি এ খবর জানিয়েছে।
আইআরজিসি অভিযোগ করেছে, ট্যাংকার দুটি 'অননুমোদিত পথ' দিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছিল এবং তাদের নেভিগেশন ও অবস্থান নির্ণয়ের ব্যবস্থা বন্ধ করে দিয়েছিল।
শনিবার সকালে সেন্টকম ২০ সদস্যের 'টাস্ক ফোর্স আয়রন গেট' নামে একটি দল গঠনের ঘোষণা দেয়। স্থলপথে উন্নত অস্ত্র পরিবহনে ইরানকে বাধা দিতে দলটি অন্যান্য সংস্থার সঙ্গে কাজ করবে।
এদিকে ইয়েমেনে সৌদি-সমর্থিত বাহিনী ও ইরান-সমর্থিত হুথি বিদ্রোহীদের মধ্যে তীব্র লড়াই চলছে। হুথিরা সৌদি সামরিক, তেল অবকাঠামো ও পরিবহন স্থাপনায় বারবার হামলা চালাচ্ছে।
ইয়েমেনের হুথিরা দাবি করেছে, শনিবার তারা রিয়াদ বিমানবন্দর ও আরামকোর তেল স্থাপনায় হামলা চালিয়েছে। এসব দাবি যাচাই করা যায়নি। সৌদি আরবের কর্তৃপক্ষও এসব স্থানে ক্ষয়ক্ষতির খবর জানায়নি।
হুথি সামরিক বাহিনীর মুখপাত্র ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ইয়াহিয়া সারেয়ার ভাষ্য অনুযায়ী, ছয়টি অভিযানে 'বিপুলসংখ্যক ব্যালিস্টিক ও ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র এবং ড্রোন' ব্যবহার করা হয়। রিয়াদের খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর, খুরাইসে আরামকোর তেলের ট্যাংক ও টাওয়ার এবং দাওয়াদমি এলাকা ছিল লক্ষ্যবস্তু।
সারেয়া আরও দাবি করেন, বিভিন্ন এলাকায় সৌদি সেনাদের ওপর হামলায় 'বিপুলসংখ্যক হতাহত' হয়েছে।
শুক্রবার ইরানের কেশম দ্বীপের কাছে হামলার খবর নিয়ে এক সাংবাদিকের প্রশ্নের জবাবে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সেগুলোকে ছোট ও প্রতিরক্ষামূলক বলে উড়িয়ে দেন। তিনি বলেন, 'আমি এ নিয়ে কথা বলতে চাই না। আমরা ছোটখাটো হামলা করি, কিন্তু সেগুলো ধ্বংস করে দেয়। তারা ছোট একটি বিমানবিধ্বংসী ব্যবস্থা তৈরি করেছিল, আমরা প্রায় ১৫ মিনিটে, হয়তো পাঁচ মিনিটে, তা ধ্বংস করে দিয়েছি।'
ট্রাম্প আরও বলেন, ইরানের সঙ্গে চুক্তি নিয়ে 'অগ্রগতি' হয়েছে।




