ওল্ড ট্র্যাফোর্ডে নাটকীয় ৪-৪ ড্র ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের, তবু অবনমন অঞ্চলেই থাকল
ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড ওল্ড ট্র্যাফোর্ডে অ্যাস্টন ভিলার বিপক্ষে ম্যাচের শুরুতেই দুই গোলে পিছিয়ে পড়েও শেষ মুহূর্তের দুই গোলে ৪-৪ ড্র আদায় করে নিয়েছে। তবে ড্রয়ের পরও প্রিমিয়ার লিগের অবনমন অঞ্চলেই রয়ে গেছে ১৩ বারের লিগ চ্যাম্পিয়নরা।
রোববার ম্যানচেস্টারে অনুষ্ঠিত ম্যাচে স্বাগতিক ইউনাইটেড প্রথম চার মিনিটের মধ্যেই দুই গোল হজম করে। অ্যালিসন প্রথম মিনিটেই গোল করেন; তাঁর শট গোলরক্ষক সেনে ল্যামেন্সের নিচ দিয়ে জালে জড়ায়। তিন মিনিট পর নিকোলাস জ্যাকসন দ্বিতীয় গোলটি করেন, যখন ল্যামেন্সের দুর্বল সেভ থেকে বল তাঁর পায়ে চলে আসে।
১৬ মিনিটে ব্রুনো ফার্নান্দেজ পেনাল্টি থেকে এক গোল শোধ করেন। বুবাকার কামারা ম্যাথিউস কুনহাকে ফাউল করলে পেনাল্টিটি পায় ইউনাইটেড। ৪৪ মিনিটে সাবেক ভিলা মিডফিল্ডার ইউরি টিলেমান্সের গোলে সমতায় ফেরে স্বাগতিকরা।
দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতে আবার এগিয়ে যায় ভিলা। দিয়োগো দালোতের অ্যালিসনের ওপর করা ফাউলের পর ৪৮ মিনিটে পেনাল্টি থেকে গোল করেন জন ম্যাকগিন। ৫৩ মিনিটে লিয়ন গোরেৎস্কা কাছ থেকে ভিলার চতুর্থ গোলটি করেন, যখন ইউনাইটেডের লেনি ইয়োরোর হেড নিজেদের ক্রসবারে লেগে ফিরে আসে।
তবে যোগ করা সময়ে ইউনাইটেড দুবার গোল করে ম্যাচ বাঁচায়। ছয় মিনিটের অতিরিক্ত সময়ে জোশুয়া জির্কজির গোল আশা জাগায়, আর শেষ মুহূর্তে ভিলা গোলরক্ষক জিয়ন সুজুকির দুর্বল পাঞ্চের পর প্যাট্রিক ডর্গুর হেডে নাটকীয় সমতা আসে।
এই ড্রয়ের ফলে ইউনাইটেড ১০ ম্যাচে ৮ পয়েন্ট নিয়ে লিগ টেবিলের ১৮তম স্থানে রয়েছে। মৌসুমে এখন পর্যন্ত ১৫ ম্যাচে তাদের জয় মাত্র তিনটি।
ম্যানেজার মাইকেল ক্যারিকের জন্য এই ড্র কিছুটা স্বস্তি এনেছে। তিনি পঞ্চম হারের মুখে ছিলেন, যা আন্তর্জাতিক বিরতির আগে তাঁর চাকরি নিয়ে আরও প্রশ্ন তুলত। গত সপ্তাহে চেলসির কাছে হারের পরও ক্লাব কর্তৃপক্ষ তাঁকে দায়িত্বে রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল।
মঙ্গলবার চ্যাম্পিয়ন্স লিগে রোমাকে ৩-২ গোলে হারিয়ে সব প্রতিযোগিতায় নয় ম্যাচের জয়হীন ধারা ভেঙেছিল ইউনাইটেড। দুই গোলে পিছিয়ে থেকে সেদিন জয় পেয়েছিল তারা। কিন্তু রোববার আবার শুরুতেই দুই গোলে পিছিয়ে পড়ে দলটি।
ম্যাচ শেষে টানেলে যাওয়ার সময় ক্যারিককে হতবাক দেখাচ্ছিল। ইউনাইটেডের পরের ম্যাচ ২২ নভেম্বর লিভারপুলের বিপক্ষে।
একই দিনে চেলসি হতাশাজনক হার মেনেছে। চ্যাম্পিয়ন্স লিগের শীর্ষ চারে থাকার লক্ষ্যে স্টেডিয়াম অব লাইটে গিয়েছিল তারা। কিন্তু টেবিলের তৃতীয় তলা থেকে নিচের দল সান্ডারল্যান্ডের কাছে হেরে ফিরতে হয়েছে পঞ্চম স্থানে থাকা চেলসিকে। মৌসুমে এ নিয়ে ১০ লিগ ম্যাচে চতুর্থবার হারল তারা, সাবেক রিয়াল মাদ্রিদ কোচ জাবি আলোনসোর অধীনে।
৩৬ মিনিটে এনজো লে ফি পেনাল্টি থেকে সান্ডারল্যান্ডকে এগিয়ে দেন। লেভি কোলউইল ব্রায়ান ব্রবিকে ফাউল করলে পেনাল্টিটি পায় স্বাগতিকরা। ম্যাচ শেষে আলোনসো বলেন, নিচু ব্লকের বিপক্ষে ফাইনাল থার্ডে যথেষ্ট সুযোগ তৈরি করতে পারছিল না তাঁর দল, আক্রমণ ধরে রাখা যাচ্ছিল না।
অন্যদিকে লিভারপুল ক্রিস্টাল প্যালেসের মাঠে ৩-১ গোলে জিতে ছন্দে ফিরেছে। আর্সেনাল ও ফেনারবাহচের কাছে হারের পর দক্ষিণ লন্ডনে গিয়েছিল তারা। ৪০ মিনিটে দমিনিক সোবোসলাইয়ের ক্রস থেকে হেডে গোল করে লিভারপুলকে এগিয়ে দেন অ্যালেক্সিস ম্যাক অ্যালিস্টার।
৫৪ মিনিটে ব্র্যাডলি বারকোলার ক্রস থেকে নিখুঁত ফিনিশে লিভারপুলের দ্বিতীয় গোলটি করেন ফ্লোরিয়ান ভির্টজ। ৮৯ মিনিটে ভির্টজের পাস থেকে গোল করে জয় নিশ্চিত করেন আলেকজান্ডার ইসাক। যোগ করা সময়ে মিলোস কেরকেজের ফাউলের পর এডি নকেতিয়ার পেনাল্টি গোল প্যালেসের জন্য শুধুই সান্ত্বনা হয়ে থাকে।
ম্যাচ শেষে লিভারপুল ম্যানেজার আন্দোনি ইরাওলা বলেন, গত সপ্তাহের পর আন্তর্জাতিক বিরতিতে যাওয়ার আগে এই জয় দলের জন্য গুরুত্বপূর্ণ ছিল। এই জয়ে চতুর্থ স্থানে থাকা লিভারপুল দুই ম্যাচের হারের ধারা ভাঙল।


