২৪ বছর পর প্রকাশ্যে ব্রিজেট ফন্ডা, লস অ্যাঞ্জেলেসে দুপুরের খাবারে দেখা গেল সাবেক তারকাকে

শেষবার পর্দায় দেখা যাওয়ার ২৪ বছর পর লস অ্যাঞ্জেলেসে প্রকাশ্যে দেখা গেল অভিনেত্রী ব্রিজেট ফন্ডাকে। ৬২ বছর বয়সী এই অভিনেত্রীকে বিরল এক প্রকাশ্য সফরে দেখা গেছে।
সোমবার, ২ নভেম্বর দুপুরের খাবার খেতে বেরিয়ে তিনি ক্যামেরায় ধরা পড়েন। সেদিন তাঁর পরনে ছিল কালো সোয়েটপ্যান্ট ও সাদা ট্যাংক টপ, তার ওপর হলুদ রঙের কলারওয়ালা বোতাম লাগানো শার্ট। সঙ্গে ছিল কালো ক্রসবডি ব্যাগ ও সানগ্লাস, আর চুল বাঁধা ছিল পনিটেলে।
ব্রিজেট বিখ্যাত ফন্ডা পরিবারের সদস্য। তিনি অস্কারজয়ী অভিনেতা হেনরি ফন্ডার নাতনি; হেনরি ফন্ডা ‘দ্য গ্রেপস অব র্যাথ’, ‘১২ অ্যাংরি মেন’ ও ‘অন গোল্ডেন পন্ড’-এর মতো ছবিতে অভিনয় করেছেন। তাঁর বাবা পিটার ফন্ডা, আর খালা অস্কারজয়ী অভিনেত্রী জেন ফন্ডা।
মাত্র পাঁচ বছর বয়সে বাবা পিটার ফন্ডার সঙ্গে ১৯৬৯ সালের ‘ইজি রাইডার’ ছবিতে অভিনয়ের মধ্য দিয়ে তাঁর চলচ্চিত্রে অভিষেক হয়।
১৯৮৯ সালে ‘স্ক্যান্ডাল’ ছবিতে অভিনয় করে তিনি বড় সাফল্য পান। এরপর ‘সিঙ্গেল হোয়াইট ফিমেল’, ‘পয়েন্ট অব নো রিটার্ন’, ‘ইট কুড হ্যাপেন টু ইউ’ ও ‘জ্যাকি ব্রাউন’-এর মতো ছবিতে অভিনয় করেন।
১৯৯০-এর দশকের শেষ দিকে ও ২০০০-এর দশকে তিনি অভিনয় থেকে ধীরে ধীরে সরে আসেন। তাঁর শেষ চলচ্চিত্রের ভূমিকা ছিল ২০০১ সালের টেলিভিশন চলচ্চিত্র ‘আফটার অ্যামি’-তে, আর শেষবার পর্দায় দেখা যায় ২০০২ সালে ‘স্নো কুইন’ মিনিসিরিজের দুটি পর্বে।
২০২৩ সালের এপ্রিলে তিনি পাপারাজ্জিদের জানিয়েছিলেন, অভিনয়ে ফেরার কোনো পরিকল্পনা তাঁর নেই। সেসময় তিনি বলেছিলেন, সাধারণ নাগরিক হিসেবে থাকাটা তাঁর খুব ভালো লাগছে।
বিখ্যাত পরিবার থেকে আসায় তাঁকে বারবার তুলনা করা হতো বলে তিনি জানিয়েছেন। ২০০০ সালে দ্য গার্ডিয়ানকে তিনি বলেন, একসময় সংবাদমাধ্যম তাঁকে জেনের বিরুদ্ধে দাঁড় করাতে চাইত; তাঁরা চাইত দুজনকে তিক্ত প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে দেখাতে। তাঁকে বাবার বিরুদ্ধেও ব্যবহার করার চেষ্টা করা হতো বলে তিনি জানান।
অভিনয় থেকে সরে আসার পর ২০০৩ সালে তিনি বিয়ে করেন চলচ্চিত্র সুরকার ও ওইঙ্গো বোইঙ্গো ব্যান্ডের প্রধান ড্যানি এলফম্যানকে। ২০০৫ সালে তাঁদের ছেলে অলিভারের জন্ম হয়।
১৯৯৩ সালে মুভিলাইনকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, বিখ্যাত পরিবারের সদস্য না হলে নিজের সাফল্য নিয়ে তাঁর সন্তুষ্টি কেমন হতো, তা ভেবে দেখেন তিনি। নিজের যোগ্যতায় পুরোপুরি সফল হয়েছেন — এটা জানতে পারলে হয়তো তিনি আরও শান্তিতে থাকতেন বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
তিনি আরও বলেন, কতবার তাঁর নামই তাঁকে দরজা খুলে দিয়েছে, তা নিয়ে তাঁকে ভাবতে হয় — আর এই ভাবনাই তাঁকে তাড়া করে।




