কহুয়া নদীর বাঁধে ভারতের ব্লক বসানোর কাজ স্থগিত, বিজিবির হস্তক্ষেপে থামল নির্মাণ
ফেনীর পরশুরাম সীমান্তে কহুয়া নদীর ভারতীয় অংশে সিসি ব্লক স্থাপনের কাজ স্থগিত করেছে ভারত। বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) হস্তক্ষেপের পর আপাতত কাজটি বন্ধ রাখা হয়েছে। এদিকে বাংলাদেশের অংশে বাঁধের ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কায় সরেজমিন পরিদর্শন করেছেন পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) ও উপজেলা প্রশাসনের কর্মকর্তারা।
শনিবার (৭ নভেম্বর) পরশুরাম পৌরসভার উত্তর কোলাপাড়া এলাকায় নদীর বাঁধের অবস্থা পরিদর্শন করেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। পরিদর্শনে পাউবো ফেনীর নির্বাহী প্রকৌশলী মোহাম্মদ মনিরুল ইসলাম, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) অতনু বড়ুয়া, পাউবোর উপবিভাগীয় প্রকৌশলী শিহাব আহম্মেদ ও উপসহকারী প্রকৌশলী মোহাম্মদ ইউসুফ আহমেদসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
বিজিবির ফেনী ব্যাটালিয়ন (৪ বিজিবি) অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল হাসিবুল ইসলাম বলেন, ব্লক স্থাপনের কাজ শুরুর আগে বিষয়টি বিজিবিকে অবহিত করার কথা ছিল ভারতের। তিনি বলেন, বিষয়টি জানার পর ভারতের সঙ্গে যোগাযোগ করে কাজ বন্ধ রাখতে বলা হয়েছে। বর্তমানে কাজটি স্থগিত রয়েছে।
এর আগে শুক্রবার (৬ নভেম্বর) কহুয়া নদীর ভারতীয় অংশে বাঁধের বিভিন্ন স্থানে সিসি ব্লক স্থাপনের কাজ শুরু হয়। এ নিয়ে সীমান্তের বাংলাদেশ অংশে উত্তর ও দক্ষিণ কোলাপাড়াসহ আশপাশের জনবসতিতে ভাঙন আতঙ্ক দেখা দেয়।
বিষয়টি নিয়ে গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশের পর সংশ্লিষ্ট বিভাগ ও প্রশাসনের কর্মকর্তারা তৎপর হন। এরপর বিজিবির হস্তক্ষেপে কাজটি স্থগিত করা হয় এবং বাংলাদেশের অংশের বাঁধ পরিদর্শনে যান পাউবো ও উপজেলা প্রশাসনের কর্মকর্তারা।
পাউবো ফেনীর নির্বাহী প্রকৌশলী মোহাম্মদ মনিরুল ইসলাম বলেন, সরেজমিন পরিদর্শনে এসে বিষয়টি জেনেছি। তিনি বলেন, ভারতীয় অংশে বাঁধে ব্লক স্থাপন করা হলে বাংলাদেশের অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এ বিষয়ে বিজিবি অধিনায়কের সঙ্গে পরামর্শ করে প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
পরশুরাম উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা অতনু বড়ুয়া বলেন, বাংলাদেশের অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আগেই প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে হবে। তিনি বলেন, বাংলাদেশের অংশে বাঁধের কী ধরনের ব্যবস্থা গ্রহণ করলে ভাঙন থেকে রক্ষা পাওয়া যাবে, সে বিষয়ে আলোচনা চলছে।
স্থানীয়দের আশঙ্কা, বাংলাদেশের বাঁধ টেকসই করা না হলে উত্তর কোলাপাড়া, দক্ষিণ কোলাপাড়া, বাসপদুয়া ও পরশুরাম বাজারসহ বিস্তীর্ণ এলাকা বন্যার ঝুঁকিতে পড়তে পারে। বাঁধের বাংলাদেশ অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হলে এসব এলাকার জনবসতি ক্ষতির মুখে পড়বে বলে আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।
বিজিবি অধিনায়কের সঙ্গে পরামর্শ করে এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন পাউবোর কর্মকর্তারা। বাংলাদেশের অংশের বাঁধ রক্ষায় কী ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া যায়, তা নিয়ে আলোচনা চলছে।


