জনরোষের মুখে পিছু হটল অস্ট্রেলিয়া, ঐতিহাসিক ভিক্টোরিয়া ব্যারাকস থাকছে জনগণের

অস্ট্রেলিয়ার চারটি ঐতিহ্যবাহী প্রতিরক্ষা স্থাপনা জনগণের হাতেই থাকছে। এসব স্থাপনা বিক্রির পরিকল্পনা থেকে সরে এসেছে আলবানিজ সরকার।
সিডনি ও মেলবোর্নের ভিক্টোরিয়া ব্যারাকস, ফোর্ট কুইন্সক্লিফ এবং ভিক্টোরিয়ার আরএএএফ বেস পয়েন্ট কুক—এই চারটি স্থাপনা সরকারি মালিকানায় থাকবে এবং প্রতিরক্ষা বাহিনী সরে যাওয়ার পর সেগুলোর ঐতিহাসিক অংশ সংরক্ষণ করে জনসাধারণের ব্যবহারের জন্য খুলে দেওয়া হবে।
একটি স্বতন্ত্র নিরীক্ষায় প্রতিরক্ষা বাহিনীর কম ব্যবহৃত, কাজের অনুপযোগী ও রক্ষণাবেক্ষণে ব্যয়বহুল সম্পত্তি হিসেবে এসব স্থাপনাসহ দেশজুড়ে আরও ৬৩টি স্থান চিহ্নিত করা হয়েছিল। সেগুলো বিক্রি করে ফেডারেল বাজেটে ৩০০ কোটি ডলার আদায়ের পরিকল্পনা ছিল।
তবে ঐতিহ্যবাহী স্থাপনা বিক্রির পরিকল্পনা তীব্র বিরোধিতার মুখে পড়ে। ‘সেভ ভিক্টোরিয়া ব্যারাকস সিডনি’ নামের জনপ্রচার গোষ্ঠী, যুদ্ধফেরত সেনারা এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী জন হাওয়ার্ড ও পল কিটিংসহ প্রভাবশালী রাজনীতিকরা এর বিরোধিতা করেন।
বাজেট নিয়ে মন্ত্রিসভার গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকের আগের দিন, রোববার আলবানিজ সরকার চারটি স্থাপনা সংরক্ষণের বিষয়টি নিশ্চিত করে।
প্রধানমন্ত্রী অ্যান্থনি আলবানিজ বলেন, সিডনির ভিক্টোরিয়া ব্যারাকস দেশের ইতিহাসে ‘বিশেষ স্থান’ দখল করে আছে।
প্রতিরক্ষামন্ত্রী রিচার্ড মার্লস বলেন, সামরিক বাহিনীকে জনগণকে নিরাপদ রাখার কাজে ব্যয়ে মনোযোগ দিতে হবে। তিনি বলেন, ‘আমরা যে কৌশলগত পরিস্থিতির মুখোমুখি, তাতে অর্থ অপচয় করার সুযোগ নেই। প্রতিরক্ষার অর্থ প্রতিরক্ষা সক্ষমতায় সবচেয়ে ভালোভাবে কীভাবে ব্যবহার করা যায়, তা আমাদের দেখতে হবে।’
মার্লস আরও বলেন, ‘এসব স্থান থেকে কর্মীদের সরিয়ে এবং জনসাধারণের জন্য খুলে দেওয়ার কাজ করে আমরা নিশ্চিত করছি যে ভিক্টোরিয়া ব্যারাকসের ইতিহাস সংরক্ষণ করা যাবে এবং সব অস্ট্রেলিয়ানকে ফিরিয়ে দেওয়া যাবে।’
স্থাপনাগুলো খালি হওয়ার পর অস্ট্রেলিয়ান ওয়ার মেমোরিয়ালের সঙ্গে কাজ করে সরকার সেগুলোকে এমন জনপরিসরে রূপান্তর করবে, যেখানে অস্ট্রেলিয়ার সামরিক ইতিহাস তুলে ধরা হবে।
সিডনির ভিক্টোরিয়া ব্যারাকস নির্মিত হয়েছিল ১৮৪০ থেকে ১৮৪৮ সালের মধ্যে এবং শুরুতে সেখানে ব্রিটিশ সেনাবাহিনী অবস্থান করত। এখানে শহরের সবচেয়ে পুরনো ওয়াইন সেলারও রয়েছে।
ছায়া প্রতিরক্ষামন্ত্রী জেমস প্যাটারসন বলেন, মেলবোর্ন ও সিডনিতে সামরিক উপস্থিতি ও সক্ষমতা থাকা উচিত কি না, সে প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে। তিনি বলেন, ‘এটি অস্ট্রেলিয়ার প্রতিরক্ষা ঐতিহ্যের জন্য বিজয় হলেও এটি কেবল শুরু। এইচএমএএস পেঙ্গুইন, ল্যান্সার ব্যারাকস, আরউইন ব্যারাকসসহ আরও গুরুত্বপূর্ণ প্রতিরক্ষা স্থাপনা রক্ষায় জোট লড়াই চালিয়ে যাবে।’
নিউ সাউথ ওয়েলসের বিরোধীদলীয় নেতা কেলি স্লোন বলেন, স্থাপনাটি ‘আমাদের সামরিক ঐতিহ্যের অপরিবর্তনীয় অংশ, যা ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য সংরক্ষণ করা উচিত’। তিনি বলেন, ‘স্বল্পমেয়াদি অর্থ আদায়ের আগে আমাদের সামরিক ঐতিহ্য ও প্রতিরক্ষা সক্ষমতাকে অগ্রাধিকার দিতে হবে।’
২০২৩ সালে সম্পন্ন বহুবছরের নিরীক্ষায় দেখা গেছে, কম ব্যবহৃত স্থাপনাগুলো ‘উচ্চ অগ্রাধিকারের প্রয়োজন থেকে সম্পদ শুষে নিচ্ছে’। নিরীক্ষায় বলা হয়, ‘আজকের সম্পত্তির তালিকায় এমন অসংখ্য পুরনো স্থান রয়েছে, যেগুলোর সঙ্গে বর্তমান বা ভবিষ্যৎ সক্ষমতার কোনো স্পষ্ট সংযোগ নেই। দশকের পর দশক ধরে বিতর্কিত সম্পত্তি নিয়ে সিদ্ধান্ত স্থগিত থাকায় সৃষ্ট অস্থিতিশীল ধারাটি সংশোধনে জরুরি পদক্ষেপ প্রয়োজন।’
সিডনি ও মেলবোর্নের ভিক্টোরিয়া ব্যারাকস বিক্রি থেকে ১৩০ কোটি ডলার আদায়ের আশা করা হচ্ছিল, কারণ দুটি স্থাপনাই দেশের সবচেয়ে বড় দুই রাজধানী শহরের গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় অবস্থিত।
২৬টি বড় মহানগর স্থাপনা বিক্রি থেকে ২৪০ কোটি ডলার পর্যন্ত আদায়ের আশা করা হয়েছিল এবং ১০ বছরে রক্ষণাবেক্ষণ ও নিরাপত্তা ব্যয়ে প্রায় ৩০০ কোটি ডলার সাশ্রয় হতো। এসব স্থাপনার মধ্যে রয়েছে সিডনির র্যান্ডউইক, মেলবোর্নের স্যান্ডরিংহাম ও সেন্ট কিলডা, ব্রিসবেনের পেট্রি টেরেস এবং পশ্চিম অস্ট্রেলিয়ার ফ্রিম্যান্টলের স্থান।
সরকার আশা করছে, এসব বিক্রি নতুন আবাসন উন্নয়নের জন্য জমি খালি করবে। দীর্ঘমেয়াদি লক্ষ্য ৬ হাজার নতুন বাড়ি নির্মাণ।
প্রতিরক্ষা বাহিনী আশা করছে, বছরের শেষ নাগাদ ছয়টি স্থাপনা থেকে কর্মীরা সরে যাবেন।
এই ঘোষণা এমন সময় এলো, যখন সরকারি সুদের হার ১৮ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ ৪ দশমিক ৮৫ শতাংশে উন্নীত হওয়ার পর সোমবার মন্ত্রিসভার ব্যয় পর্যালোচনা কমিটি বৈঠকে বসছে। কোষাধ্যক্ষ জিম চ্যালমার্স এই সপ্তাহে বলেন, মধ্যপ্রাচ্য সংঘাতের কারণে জ্বালানির দাম বৃদ্ধিই মুদ্রাস্ফীতির ‘প্রধান কারণ’, সরকারের বাজেট নয়।




