হৃদয়ের অভিষেক সেঞ্চুরিই ডাবল সেঞ্চুরি, তবু ওপেনিং জুটি ভাঙতে পারেনি বাংলাদেশ
সিলেট টেস্টের চতুর্থ দিনের খেলা চলছে। বাংলাদেশের বিপক্ষে ৩০ রানে পিছিয়ে থেকে দ্বিতীয় ইনিংসে খেলতে নামা ওয়েস্ট ইন্ডিজ এখনো কোনো উইকেট না হারিয়ে পঞ্চাশের বেশি রান তুলে ফেলেছে। এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত বাংলাদেশ এখনো সফরকারীদের ওপেনিং জুটি ভাঙতে পারেনি।
এর আগে নিজেদের প্রথম ইনিংসে ১১১ দশমিক ৫ ওভারে ৯ উইকেট হারিয়ে ৩৮৬ রান করে বাংলাদেশ। দলের হয়ে সর্বোচ্চ অপরাজিত ২৪২ রান করেন হৃদয়। ফিল্ডিংয়ের সময় ব্যথা পাওয়ায় ব্যাটিংয়ে নামতে পারেননি সাদমান ইসলাম। তাই ৯ উইকেট হারিয়েই শেষ হয় বাংলাদেশের ইনিংস। এর আগে ওয়েস্ট ইন্ডিজ নিজেদের প্রথম ইনিংসে করেছিল ৩৫৬ রান।
আজ (শনিবার) ৩ উইকেটে ৮৮ রান নিয়ে সিলেট টেস্টের তৃতীয় দিনে ব্যাটিংয়ে নামে বাংলাদেশ। শুরুতে ঘুরে দাঁড়িয়ে দারুণ কিছুর ইঙ্গিত দিলেও মুশফিকের অহেতুক এক শটে তা ভেস্তে গেছে। জোমেল ওয়ারিকানের ভাসানো বলে রাউন্ড দ্য উইকেটে শট খেলে শর্ট কাভারে ক্যাচ দিলেন মুশফিক। ফিরলেন ৩৪ রানে। ফলে হৃদয়ের সঙ্গে তাঁর জুটি থামে ৭৩ রানে।
নতুন ব্যাটার হিসেবে ক্রিজে নেমেই লিটন দাস আগ্রাসী ব্যাটিং শুরু করেন। দুটি বাউন্ডারি পেলেও তাঁর আক্রমণাত্মক মনোভাবকে কাজে লাগিয়ে ফাঁদ তৈরি করেছেন ওয়ারিকান। ফুল লেংথে এবং অফ স্টাম্প বরাবর আসা বলে লিটন ড্রাইভ করতে গিয়ে মুশফিকের মতোই কাভারে দাঁড়ানো ব্রেন্ডন কিংকে ক্যাচ দিয়েছেন।
হৃদয়-মেহেদি মিরাজের জুটিও আশা দেখিয়ে ভেঙেছে ৪১ রানে। বেশ সাবলীল ব্যাটিং করতে থাকা মিরাজ রোস্টন চেজের বলে প্যাডেল শট খেলার মনস্থির করেছিলেন আগে থেকেই। ফলে ঠিকঠাক ব্যাটে না হওয়ায় ক্যাচ উঠে যায়, প্রথম স্লিপ থেকে দৌড়ে গিয়ে জাস্টিন গ্রিভস ঝাঁপিয়ে সেটি লুফে নেন। ১৬ রানে থামলেন মিরাজ।
৬ রানের ব্যবধানে আউট হয়েছেন হাসান মাহমুদও। ওয়ারিকানের বাইরে বেরিয়ে যাওয়া বল তাঁর ব্যাটের আলতো স্পর্শ নিয়ে উইকেটরক্ষকের হাতে জমা পড়ে। ফলে ১৮৪ রানে বাংলাদেশ সপ্তম উইকেট হারায়, তখনো ক্যারিবীয়রা ১৭২ রানে এগিয়ে। ফলে এই ম্যাচে বাংলাদেশের ফেরার সম্ভাবনা ছিল খুবই কম। তবে হাল ছাড়েননি হৃদয়।
তাইজুলকে সঙ্গে নিয়ে অষ্টম উইকেটে ১১৭ রানের জুটি গড়েন হৃদয়। যেখানে বড় অবদান হৃদয়ের। তবে তাইজুলও এক প্রান্তে দারুণ সঙ্গ দিয়েছেন। ৫৬ বলে ২২ রান করে তিনি ফিরলে ভাঙে এই জুটি।
এরপর তাসকিনকে সঙ্গে নিয়ে লড়াই চালিয়ে যান হৃদয়। পেয়েছেন ডাবল সেঞ্চুরির দেখা। ৩০৪ বলে এই মাইলফলক স্পর্শ করেন তিনি। এটিই তাঁর প্রথম তিন অঙ্কের ইনিংস, অর্থাৎ নিজের অভিষেক সেঞ্চুরিকেই ডাবল সেঞ্চুরিতে রূপ দিলেন হৃদয়। নবম উইকেট জুটিতে আরও ৮৫ রান যোগ করেন তাসকিন-হৃদয়। ২৯ বলে ১২ রান করে তাসকিন ফিরলে ভাঙে সেই জুটি। হৃদয় অপরাজিত ছিলেন ৩৫৯ বলে ২৪২ রান করে।
বাংলাদেশের বিপক্ষে ৩০ রানে পিছিয়ে থেকে ওয়েস্ট ইন্ডিজ দ্বিতীয় ইনিংসে খেলতে নামে। তৃতীয় দিন শেষ বিকেলে মাত্র চার ওভার খেলে সেই ব্যবধান ২৩ করেছিল তারা। তাসকিন আহমেদ একই ওভারে দুটি রিভিউ নষ্ট করে বাংলাদেশকে হতাশায় ভাসান। চার ওভারে বিনা উইকেটে ৭ রানে দিনের খেলা শেষ করেছিল উইন্ডিজ। ব্র্যান্ডন কিং ও জোশুয়া ডা সিলভা ৫ ও ২ রানে অপরাজিত ছিলেন।
চতুর্থ দিন এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত আরও ১৪ ওভার খেলা হয়েছে। বাংলাদেশ এখনো ওপেনিং জুটি ভাঙতে পারেনি। মেহেদী হাসান মিরাজ, তাইজুল ইসলামের স্পিন কিংবা তাসকিন আহমেদ ও হাসান মাহমুদের পেস টলাতে পারেনি সফরকারীদের প্রথম দুই ব্যাটারকে। বরং ১১তম ওভারের চতুর্থ বলে তাসকিনকে চার মেরে কিং দলকে লিড এনে দেন। ইতোমধ্যে দলের রান পঞ্চাশ ছাড়িয়ে গেছে। ডা সিলভা ও কিং দুজনেই হাফ সেঞ্চুরির পথে ছুটছেন। বাংলাদেশ এখন এই জুটি ভাঙার লক্ষ্যে খেলছে।


