সমুদ্রপথে মালয়েশিয়ায় পাচারের চেষ্টা, টেকনাফে উদ্ধার ৯ জন

টেকনাফে সমুদ্রপথে মালয়েশিয়ায় মানবপাচারের চেষ্টাকালে নারীসহ নয়জনকে উদ্ধার করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) সদস্যরা।
শনিবার (৭ নভেম্বর) সন্ধ্যায় টেকনাফ সদর দক্ষিণ লম্বরীঘাট এলাকায় বিশেষ অভিযান চালিয়ে তাদের উদ্ধার করা হয়। তবে পাচারকারী চক্রের ১০ থেকে ১৫ জন সদস্য একটি নৌকা করে সমুদ্রে পালিয়ে যান।
বিজিবি জানায়, শনিবার বিকেলে টেকনাফের দক্ষিণ লম্বরীঘাট এলাকায় কয়েকজন ব্যক্তিকে জোর করে মালয়েশিয়ায় পাচারের উদ্দেশে নিয়ে আসার গোপন তথ্য পায় বিজিবি।
এ তথ্যের ভিত্তিতে ব্যাটালিয়ন অধিনায়কের নির্দেশনায় বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে বিজিবির একটি বিশেষ টহল দল ওই এলাকায় কৌশলগত অবস্থান নেয়।
পরে সন্ধ্যার পর বিজিবি সদস্যরা লম্বরীঘাট এলাকায় ২০ থেকে ২৫ জন ব্যক্তিকে অবস্থান করতে দেখেন। এ সময় সমুদ্র থেকে একটি সন্দেহজনক নৌকা ঘাটের দিকে আসতে দেখে সেটিকে ধাওয়া করে বিজিবি।
একপর্যায়ে মানব পাচারচক্রের ১০ থেকে ১৫ জন সদস্য দ্রুত নৌকায় উঠে সমুদ্রের দিকে পালিয়ে যায়। পরে ঘটনাস্থল থেকে পাচারের উদ্দেশ্যে নিয়ে আসা ৯ জনকে উদ্ধার করা হয়।
উদ্ধার ব্যক্তিদের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা গেছে, তাদের জোর করে মানব পাচারের উদ্দেশ্যে ওই এলাকায় নিয়ে আসা হয়েছিল।
উদ্ধার হওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে রয়েছেন আমির হোসেন (৪৫), মো. জীবন (১৯), জান্নাত আরা (১৭), আব্দুল খালেক (২৯), ফয়সল করিম (১৬), আরিফুল ইসলাম (২১), নুরুল ইসলাম (২২), আহমদ নবী (২৩) ও জাহিদ আলম (১৮)।
তাদের মধ্যে কয়েকজন উখিয়া ও টেকনাফের রোহিঙ্গা শিবিরের বাসিন্দা এবং অন্যরা কক্সবাজারের বিভিন্ন এলাকার বাসিন্দা।
টেকনাফ ব্যাটালিয়ন-২ বিজিবির অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম চৌধুরী বলেন, মানব পাচার ও অন্যান্য সংঘবদ্ধ অপরাধের বিরুদ্ধে বিজিবির অবস্থান অত্যন্ত কঠোর।
সীমান্ত ও উপকূলীয় এলাকায় মানবপাচার প্রতিরোধে গোয়েন্দা তৎপরতা, নজরদারি এবং বিশেষ অভিযান অব্যাহত থাকবে বলে জানান তিনি।
তিনি বলেন, উদ্ধার হওয়া নয়জনের বিষয়ে পরবর্তী প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেওয়া প্রক্রিয়াধীন।


