চালের মজুত সন্তোষজনক, আমদানির ব্যবস্থা রাখা হয়েছে নিরাপত্তার স্বার্থেই: খাদ্যমন্ত্রী

খাদ্যনিরাপত্তার স্বার্থেই বিভিন্ন দেশের সঙ্গে চাল আমদানির ব্যবস্থা রাখা হয়েছে বলে জানিয়েছেন খাদ্যমন্ত্রী আফরোজা খানম রিতা। তিনি বলেন, দেশে চালের সরবরাহ পরিস্থিতি বর্তমানে সন্তোষজনক।
রোববার (৮ নভেম্বর) খাদ্য পরিকল্পনা ও পরিধারণ কমিটির (এফপিএমসি) সভা শেষে সচিবালয়ে তথ্য অধিদপ্তরের (পিআইডি) সম্মেলনকক্ষে সাংবাদিকদের এসব কথা জানান খাদ্যমন্ত্রী।
এ সময় খাদ্য প্রতিমন্ত্রী মো. আব্দুল বারী, খাদ্যসচিব আবু তাহের মো. মাসুদ রানা ও প্রধান তথ্য কর্মকর্তা সৈয়দ আবদাল আহমদ উপস্থিত ছিলেন।
খাদ্যমন্ত্রী বলেন, গত বোরো মৌসুমে ভালো উৎপাদন হওয়ায় বাজারে চালের পর্যাপ্ত সরবরাহ রয়েছে। সরকারও খাদ্যনিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় মজুত বজায় রাখছে। জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলায় বিভিন্ন দেশের সঙ্গে চাল আমদানির চুক্তিও রয়েছে।
তিনি বলেন, দেশের মোট চালের চাহিদার বড় অংশ বেসরকারি খাতের মাধ্যমে পূরণ হয়। তবে কোনো কারণে উৎপাদন বা সরবরাহে ঘাটতি দেখা দিলে তা মোকাবিলায় সরকারের প্রস্তুতি থাকা জরুরি।
সরকারের লক্ষ্য কৃষকদের ভালো অবস্থানে নেওয়া এবং দেশের খাদ্যনিরাপত্তা নিশ্চিত করা, যাতে খাদ্যের অভাবে কোনো মানুষকে কষ্ট পেতে না হয় — বলেন খাদ্যমন্ত্রী।
খাদ্যমন্ত্রী বলেন, কৃষকরা যাতে সরকারের নির্ধারিত দামে ধান বিক্রি করতে পারেন, সেটিই সরকারের লক্ষ্য। আমন মৌসুমে ধান সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা তিন লাখ টন। তবে লক্ষ্যমাত্রা পূরণের পরও বাজারে ধান পাওয়া গেলে তা সংগ্রহের বিষয়টি বিবেচনা করা হবে। বোরো মৌসুমেও লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে বেশি ধান সংগ্রহ করা হয়েছিল।
তিনি জানান, সরকারের কাছে বর্তমানে ১৭ লাখ টন চাল ও ৩ লাখ টন গম মজুত রয়েছে। সরকারকে সারা বছর প্রায় ১৪ লাখ টন খাদ্যশস্য মজুত রাখতে হয়। জরুরি পরিস্থিতিতে এ মজুত ১৫ লাখ টনে উন্নীত করার লক্ষ্য থাকে।
আমন মৌসুমে ধান ও চালের সংগ্রহ মূল্য নির্ধারণ প্রসঙ্গে খাদ্যমন্ত্রী বলেন, কৃষকদের উৎপাদন খরচ ও বাজার পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে দাম নির্ধারণ করা হয়েছে। এবার প্রতিকেজি ধান ৩৫ টাকা ও সিদ্ধ চাল ৪৯ টাকা দরে সংগ্রহ করা হবে। আতপ চালের উৎপাদন খরচ তুলনামূলক কম হওয়ায় এর সংগ্রহমূল্যও কম রাখা হয়েছে।
সুগন্ধি চাল রপ্তানির বিষয়ে তিনি বলেন, দেশে এ চালের চাহিদাই অনেক বেশি। আগে অল্প পরিমাণে রপ্তানি হয়েছে। তবে বর্তমানে রপ্তানি বন্ধ রয়েছে।
খাদ্যমন্ত্রী বলেন, দেশের যেসব এলাকায় এখনো সুগন্ধি চাল উৎপাদিত হয় এবং কৃষকদের আগ্রহ রয়েছে, সেসব এলাকা পরিদর্শন করবে তিন মন্ত্রণালয়ের কমিটি। কোন এলাকার আবহাওয়া ও জলবায়ু কোন ফসলের জন্য উপযোগী, তা বিবেচনায় নিয়ে কৃষি মন্ত্রণালয়ও একটি সমীক্ষা করছে। সুগন্ধি চালের উৎপাদন বাড়াতে প্রয়োজন হলে কৃষকদের বিশেষ প্রণোদনা দেওয়া হবে।



