হজের সেঞ্চুরিতে সিলেট টেস্টে চালকের আসনে ওয়েস্ট ইন্ডিজ, লিড ২৬৬
সিলেট টেস্টের চতুর্থ দিনে ব্যাট হাতে রীতিমতো দাপট দেখাচ্ছে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। বাংলাদেশের বোলারদের ওপর চড়াও হয়ে দ্রুত রান তুলছেন ক্যারিবীয় ব্যাটসম্যানরা। ৭৩ ওভার শেষে দ্বিতীয় ইনিংসে ৩ উইকেটে ২৯৬ রান করেছে তারা। এতে সফরকারীদের লিড দাঁড়িয়েছে ২৬৬ রানের। হাতে এখনো ৭ উইকেট থাকায় লিড আরও বড় করার সুযোগ রয়েছে ওয়েস্ট ইন্ডিজের।
দিনের শুরুতে ৭ রানে এগিয়ে থেকে ব্যাটিংয়ে নামে ক্যারিবীয়রা। শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ব্যাটিং করেন দুই ওপেনার। প্রথম উইকেটে ৮৬ রান যোগ করেন ব্রেন্ডন কিং ও জশুয়া ডা সিলভা।
ডা সিলভাকে ৩৬ রানে ফিরিয়ে বাংলাদেশকে প্রথম সাফল্য এনে দেন তাইজুল ইসলাম। এরপর ৬১ রান করা কিংকে ফেরান মেহেদী হাসান মিরাজ।
তবে দুই উইকেট হারিয়েও রান তোলার গতি কমায়নি ওয়েস্ট ইন্ডিজ। তৃতীয় উইকেটে কাভেম হজ ও অভিষিক্ত কেভিন উইকহ্যাম মিলে বাংলাদেশের বোলারদের ওপর আধিপত্য বিস্তার করেন।
চা বিরতির আগে দুজনের অবিচ্ছিন্ন জুটিতে এসেছিল ১৪০ রান। ৯৩ রানে অপরাজিত হজের সঙ্গে ৬৩ রান নিয়ে উইকেটে ছিলেন উইকহ্যাম। অভিষেক টেস্টের দুই ইনিংসেই ফিফটি তুলে নিয়েছেন এই তরুণ ব্যাটার। প্রথম ইনিংসে করেছিলেন ৬৭ রান।
দুই উইকেট হারানোর পর ক্রিজে এসে দারুণ প্রতিরোধ গড়েন হজ ও অভিষিক্ত উইকহ্যাম। শুরুতে দেখেশুনে খেললেও সময় গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে আক্রমণাত্মক হয়ে ওঠেন দুজন। বাংলাদেশের স্পিনারদের সামলে নিয়মিত রান তুলেছেন তাঁরা।
তাঁদের ১৬৫ রানের জুটিতে ম্যাচের চিত্রই বদলে গেছে। এই জুটিতেই লিড আড়াই শ ছাড়িয়েছে ক্যারিবীয়দের।
চা বিরতির পর ৭৮ রানে উইকহ্যামকে ফিরিয়ে স্বস্তি এনে দেন তাইজুল ইসলাম। প্রথম ইনিংসে ৬৭ রান করা এই ব্যাটার দ্বিতীয় ইনিংসেও তুলে নিয়েছেন ফিফটি। অভিষেক টেস্টের দুই ইনিংসেই পঞ্চাশ পেরোলেন তিনি।
অন্য প্রান্তে দারুণ ব্যাটিংয়ে সেঞ্চুরি পূর্ণ করেছেন হজ। তাইজুলের লেগ স্টাম্পের বাইরের বল সুইপ করে তিন অঙ্কের ঘরে পৌঁছান তিনি। টেস্ট ক্যারিয়ারে এটি তাঁর তৃতীয় সেঞ্চুরি।
প্রথম ইনিংসে ওয়েস্ট ইন্ডিজের ৩৫৬ রানের জবাবে বাংলাদেশ করেছিল ৩৮৬ রান। ক্যারিবীয়দের লিড এখন ২৬৬। হাতে রয়েছে আরও ৭ উইকেট।
টেস্টে বাংলাদেশের সর্বোচ্চ রান তাড়া করে জয়ের রেকর্ড ২১৫। ২০০৯ সালে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষেই সেই কীর্তি গড়েছিল বাংলাদেশ।
সিলেটে জিততে হলে এবার নিজেদের রেকর্ড ছাড়িয়ে নতুন ইতিহাস গড়তে হবে স্বাগতিকদের। চতুর্থ দিনের শেষ সেশনে ওয়েস্ট ইন্ডিজের লিড কতদূর যায়, সেটিই এখন দেখার।

