রেকর্ড হাতছাড়া হলেও অখুশি নন মুশফিক, হৃদয়ের ইনিংসে বাড়ল আশা
ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে চলমান সিলেট টেস্টের আগে বাংলাদেশের ব্যাটারদের মধ্যে ফরম্যাটটিতে সর্বোচ্চ ব্যক্তিগত ইনিংসটি ছিল মুশফিকুর রহিমের। তাঁর ২১৯ রানের সেই রেকর্ড গতকাল (শনিবার) ভেঙে দিয়েছেন তাওহীদ হৃদয়। ড্রেসিংরুম থেকে মুশফিকও সেই দৃশ্যের সাক্ষী হলেন। তবে রেকর্ড হাতছাড়া হওয়ায় তিনি অখুশি নন।
ঢাকার মতো সিলেট টেস্টেও ডুবতে বসেছিল বাংলাদেশ। ক্যারিবীয়দের বিপক্ষে ধ্বংসস্তূপে দাঁড়িয়ে হৃদয় খেললেন বীরোচিত ইনিংস, যা স্বাগতিকদের লড়াইয়ে ফিরিয়েছে। শেষ দুই টেল-এন্ডারকে নিয়ে তিনি দলীয় খাতায় ২০২ রান যোগ করেন। এতে ফলো-অনের শঙ্কায় থাকা বাংলাদেশকে ক্যারিবীয়দের সংগ্রহ পেরিয়ে ৩০ রানের লিডও এনে দেন হৃদয়।
৩০৪ বলে ডাবল সেঞ্চুরি স্পর্শ করে নিজের অভিষেক সেঞ্চুরিকেই ডাবল সেঞ্চুরিতে রূপ দেন হৃদয়। শেষ পর্যন্ত তিনি অপরাজিত ছিলেন ৩৫৯ বলে ২৪২ রান করে — যা এখন বাংলাদেশের হয়ে টেস্টে সর্বোচ্চ ব্যক্তিগত ইনিংস।
হৃদয়ের হৃদয়চেতা ইনিংস স্বভাবতই দেশের ক্রীড়াঙ্গনে আলোচনার কেন্দ্রে রয়েছে। মুশফিকেরও নিজের রেকর্ডটি অক্ষুণ্ন না থাকায় আক্ষেপ নয়, বরং প্রত্যাশাই বেড়েছে। বিসিবির প্রকাশিত ভিডিওতে টেস্টে বাংলাদেশের হয়ে একমাত্র একাধিক (৩টি) ডাবল সেঞ্চুরিয়ান এই তারকাকে হৃদয়ের উদ্দেশে বলতে শোনা যায়, ‘(ইনিংসটা) আরও বড় কর, আরও বড় কর।’
পরে সতীর্থের বীরোচিত ইনিংস নিয়ে মুশফিক বলেন, ‘আমি নিজেকে সৌভাগ্যবান মনে করি। আমার যে সর্বোচ্চ রানের স্কোর ছিল সেটি নিজের চোখের সামনেই ড্রেসিংরুম থেকে দেখা অনেক বড় পাওয়া। আমি আশা করব পরেরবার আরও একজন হয়তো এই রেকর্ড ভেঙে দেবে। রেকর্ড হয়ই ভাঙার জন্য। আর সেই রেকর্ড ভাঙা ইনিংসটা দলের জয় এনে দিলে আরও বড় অনুভূতি।’
‘তার (হৃদয়) ইনিংসটা আমাদের দলের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ ছিল। তবে আশা করি এটি ম্যাচজয়ী ইনিংস হয়ে থাকবে’, আরও যোগ করেন মিস্টার ডিফেন্ডেবল।
হৃদয়ের আগে তিন বাংলাদেশি ক্রিকেটারের ব্যাটে পাঁচটি ডাবল সেঞ্চুরি হয়েছিল। তাদের মধ্যে মুশফিকুর রহিম তিনটি, সাকিব আল হাসান ও তামিম ইকবাল করেন একটি করে। দ্বিশতকের এলিট তালিকায় নতুন নাম তাওহীদ হৃদয়।
সিলেট টেস্টের আগে সাদা পোশাকের ক্যারিয়ারে চার ইনিংসে ৫৪ রান করেছিলেন হৃদয়। সিলেটে তিনি নিজেকে নতুনভাবে চেনালেন। শেষ পর্যন্ত বাংলাদেশকে ঘুরে দাঁড়ানোর সেই ইনিংস ম্যাচের ফলাফলে কেমন প্রভাব রাখে সেটাই দেখার বিষয়!
